• ই-পেপার

ভাঙ্গুড়া

প্রতারণার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে পিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দ

জয়পুরহাটে স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, প্রার্থীসহ আহত ৯

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, প্রার্থীসহ আহত ৯
সংগৃহীত ছবি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্যানেলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক প্রার্থীসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলম, তাঁর সমর্থক শেখ হাবিবুর রহমান, মিথন মণ্ডল ও ইউসুফ আলী। অপর প্যানেলের আহতরা হলেন সাদিক হোসেন, মুনছুর রহমান, জুয়েল রানা, রশিদুল ইসলাম ও রানা মিয়া। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে চারজন অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আনিছুর রহমান ও শেখ শাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বাধীন দুটি প্যানেলসহ মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সকাল ৯টা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চললেও শেষ পর্যায়ে এসে উত্তেজনা দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভোটারের সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাঁর ও সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ প্যানেলের প্রার্থী আনিছুর রহমান বলেন, সংঘর্ষে তাঁদের পক্ষের লোকজনও আহত হয়েছেন। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে।

নির্বাচনের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চালিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।’

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কোনো পক্ষ অভিযোগ দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রাস্তার পাশে গর্তের পানিতে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

গফরগাঁও(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
রাস্তার পাশে গর্তের পানিতে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রাস্তার পাশের গর্তের পানিতে পড়ে সুমন নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার পাগলা থানাধীন কান্দিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শিশু সুমন (৮) কান্দিপাড়া গ্রামের নয়ন মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় নিউ মডেল একাডেমির দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্দিপাড়া আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন রাস্তায় মাটি ফেলার জন্য তৈরি গর্তে পানি জমেছিল। সোমবার দুপুর ১টার দিকে কান্দিপাড়া গ্রামের নয়ন মিয়ার শিশুপুত্র সুমন অপর শিশু আরিয়ানসহ অন্য শিশুদের নিয়ে গর্তে জমে থাকা পানিতে খেলতে নামে। এ সময় সাঁতার না জানায় তারা পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। স্থানীয় লোকজন দুই শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত ডাক্তার এন এম ইশা সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং অপর শিশু আরিয়ান কিছুটা সুস্থ হলে তার স্বজনরা বাড়ি নিয়ে যায়।

পাবনা মানসিক হাসপাতালে ২ রোগীর হাতাহাতি, একজনের মৃত্যু

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা মানসিক হাসপাতালে ২ রোগীর হাতাহাতি, একজনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

পাবনা মানসিক হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতর দুই রোগীর হাতাহাতির ঘটনায় ইনজামুল হক (২৬) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত ৩ জুন মধ্যরাতে হাসপাতালের আবাসিক ভবনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটলেও তা সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়ার পর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই নিহতের বড় ভাই ইজাজুল হক বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা করেছেন।

‎ভুক্তভোগীর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২ জুন সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া খোঁজাখালির আব্দুল মালেকের ছেলে নাজমুল (২৮) ও ঝিনাইদহের রাজনগর গ্রামের মৃত গোলাম নবীর ছেলে ইনজামুল হককে (২৬) ঝুঁকিপূর্ণ ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর রাত ২টার দিকে নাজমুল ও ইনজামুল মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে লাথি ও ঘুষিতে মাথায় আঘাত পেয়ে ইনজামুলের মৃত্য হয়। গুরুতর আহত হন নাজমুলও। পরে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

‎মামলার নথিতে বলা হয়েছে, পাবনা মানসিক হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাথরুমের করিডরে অভিযুক্ত নাজমুল পা দিয়ে লাথী দিয়ে ইনজামুলকে হত্যা করেছে। এর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেডকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আরো পড়ুন
শেরপুরে ১২ দিনে ৬ মাদরাসাশিক্ষার্থী নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় অভিভাবকরা

শেরপুরে ১২ দিনে ৬ মাদরাসাশিক্ষার্থী নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় অভিভাবকরা

 

‎মামলার বাদী ইজাজুল হক বলেন, যে ছেলেটা আমার ভাইয়ের সঙ্গে মারামারি করেছে, সেও তো মানসিক রোগী। এমন দুজন রোগীকে তারা কেন একসঙ্গে রাখল। যখন তারা মারামারি করছিল তারা কেন থামাতে পারল না। আমি সেবাকর্মীদের কাছে জানতে চাইলে বলেছে, তারা ভয়ে মারামারি থামাতে যায়নি। এভাবে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না। এখানে যার যার খেয়াল খুশিতে ডিউটি পালন করে।

‎নাজমুলের বাবা আব্দুল মালেক বলেন, ওরা আমার ছেলেকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। তারা ঢাকার মানসিক হাসপাতালে রেফার করার সব কাগজপত্র ও ওষুধের স্লিপ রেডি করে আমার ছেলেকে রিলিজ (ছাড়পত্র) দিয়ে দেয়। আমি গাড়িতে ওঠার সময় হঠাৎ তারা বড় ডাক্তারের কাছ থেকে আরো কিছু ওষুধ লিখিয়ে দেওয়ার নামে আমার কাছ থেকে কাগজপত্রগুলো ফেরত নেয়। এরপর আমার ছেলেকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আবার ভেতরে নিয়ে আটকে রাখে।‎

‎পাবনা মানসিক হাসপাতালের নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট রেখা আক্তার জানান, হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জনবল সংকট রয়েছে। এরপরও তো পুরুষ রোগীদের চিকিৎসা দিতে নার্সদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেবা দিতে গেলেই মারধরের শিকার হতে হয়।‎

‎পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ বলেন, গভীর রাতে এ ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত্যুর ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। আমরা মর্মাহত হয়েছি।

‎অতি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য হাসপাতালে পৃথক কোনো আইসোলেশনের ব্যবস্থা নেই। সীমিত জনবল নিয়ে এই ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। দ্রুত জনবল দিতে সরকারের প্রতি আবেদন জানান তিনি।

‎‎পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত ৩ জুন পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তের কাজ চলছে।

ফরিদপুরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ট্রেনের ধাক্কায় খোদেজা খাতুন (৭০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভাঙ্গা-ফরিদপুর রেললাইনের নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের হরুপদিয়া লালব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত খোদেজা খাতুন উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ধর্মদী গ্রামের আইয়ুব শেখের স্ত্রী।

ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট মো. শাহজালাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভাঙ্গা থেকে রাজবাড়ীগামী ‘রাজবাড়ী এক্সপ্রেস’ লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় সেতুর ওপর থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই বৃদ্ধা। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, তিনি ব্রিজটি পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। কানে কম শোনার কারণে তিনি ট্রেনের শব্দ বুঝতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।’