• ই-পেপার

হালুয়াঘাট

প্রভাষক নাসরিন আক্তারের বেতন ফেরত দিতে নির্দেশ

হ্যাটট্রিকের পর পতাকা-জার্সিতে মেসির জয়জয়কার

শাহীন আলম, কুমিল্লা (উত্তর)
হ্যাটট্রিকের পর পতাকা-জার্সিতে মেসির জয়জয়কার
মেসির হ্যাটট্রিকের পর কুমিল্লায় বেড়েছে পতাকা ও জার্সি বিক্রি। বুধবার নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় একটি ক্রীড়া সামগ্রীর দোকানে। ছবি: কালের কণ্ঠ

বিশ্বকাপ ফুটবলে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের পর সমর্থকদের মধ্যে এখন লিওনেল মেসির জয়জয়কার। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে তিনটি গোলই করেছেন এই তারকা ফুটবলার। তার অনবদ্য পারফরম্যান্সের পর কুমিল্লাজুড়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উন্মাদনা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিকের পর নগরীর বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রীর দোকানে বেড়েছে আর্জেন্টিনা দলের ১০ নম্বর জার্সি ও সেদেশের পতাকা বিক্রি।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে নগরীর কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, চকবাজার ও টমছমব্রিজ এলাকার বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রীর দোকান ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই সেসব দোকানে ভিড় করছে ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকেই নিজেদের জন্য জার্সি ও পতাকা কিনছেন, কেউ কেউ সন্তানদের আবদার পূরণ করতে ছুটে এসেছেন দোকানে।

কান্দিরপাড় ভিক্টোরিয়া কলেজ রোডের সান স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী  মো. আলমগীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সারা বছর জার্সি বিক্রি করছি, তবে এবারের মতো এত উন্মাদনা আর দেখিনি। আজ (১৭ জুন) সকালে মেসির হ্যাটট্রিকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আর্জেন্টিনার জার্সির বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ১০ নম্বর জার্সির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। অনেক দোকানে আগের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে জার্সি আনতে হয়েছে। 

মেসির জার্সি কিনতে এসে জহির শান্ত নামের এক ক্রীড়াপ্রেমী কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই ছেলে আর আমি আর্জেন্টিনার ভক্ত। খেলায় জয়ী হলে ছেলেদের জার্সি কেনার বায়না ছিল, তাই দোকানে এসেছি। ছেলেদের পছন্দ মেসির ১০ নম্বর জার্সি। দোকানে এসে দেখি অনেক ক্রেতার ভিড়। এবারের বিশ্বকাপ ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে আলাদা উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে।

নগরীর জার্সি বিক্রেতা মো. শাফায়েত বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা ছিল। তবে মেসির হ্যাটট্রিকের পর বিক্রি আরো বেড়েছে। ক্রেতারা এসে সরাসরি ১০ নম্বর জার্সি চাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার দোকানে জার্সি শেষ। আবার অর্ডার করেছি। দুপুরের মধ্যেই মেসির জার্সি চলে আসবে।‘

জার্সি কিনতে আসা এক নারী অভিভাবক জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মেসির ভক্ত। তিনি বলেন, ‘আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির তিন গোল দেখার পর থেকেই নতুন জার্সির জন্য বায়না ধরেছে। এর আগে তাকে একটি আর্জেন্টিনার পতাকা কিনে দিয়েছিলাম। এখন মেসির হ্যাটট্রিকের পর মেসির জার্সি কিনে দিতে আবদার করেছে। তাই তার জন্য জার্সি কিনতে এসেছি।’  

আরেক সমর্থক বলেন, ‘মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি  আমাদের আবেগের নাম। তার হ্যাটট্রিক উদযাপন করতেই জার্সি কিনেছি।’

ক্রীড়ামোদী ও কুমিল্লা ফুটবল ক্লাব মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেসি তো মেসিই। তার তুলনা কোথাও নেই।’ তিনি বলেন, কুমিল্লার ফুটবলপ্রেমী ও খেলোয়াড়দের একটি বড় অংশজুড়েই রয়েছে মেসি ও আর্জেন্টিনা। ফলে নগরীর জার্সির দোকানগুলোতেও এখন জমজমাট বেচাকেনা চলছে।’

ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দশম শ্রেণির ছাত্রকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দশম শ্রেণির ছাত্রকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে বিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার কাজিরপোল ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আরাফাত ইসলাম নয়ন শেখ উপজেলার বাঘিয়ারঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। 

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত নয়নের বাবা খালিদ শেখ আজ বুধবার টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার গিমাডাঙ্গা উত্তরপাড়ার এনায়েত মুন্সীর ছেলে রোমান মুন্সী, পাঁচকাহনিয়া গ্রামের চান মিয়ার ছেলে ওসমান, পাঁচকাহনিয়া পশ্চিমপাড়ার মোকসেদের ছেলে কাদের এবং বাঘিয়ারঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ফাহিম, শাওন ও রাকিব।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও দশম শ্রেণির নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটলে উভয় পক্ষের অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। 

আহতের খালিদ শেখ জানান,  ওই ঘটনার জের ধরে গত মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে আমার ছেলে নয়নকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা একটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় তারা। পরে  তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন আশেপাশের লোকজন। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, মারপিটের ঘটনায় খালিদ শেখ নামের এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইজিবাইকচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৪, অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
ইজিবাইকচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৪, অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরিশালে ইজিবাইকচালক নাজমুল মোল্লা হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণাফুলিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযুক্তদের বসতঘরে আগুন দিলে ঘরটি পুড়ে যায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নগরীর চন্ডিপুর এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম, হরিণাফুলিয়া এলাকার ইউনুস হাওলাদারের ছেলে মিরাজ হোসেন, তার স্ত্রী কামরুন নাহার এবং মা ফরিদা বেগম।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনুল উল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে দূরত্ব বেশি হওয়ায় পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ঘরটি পুড়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত সোমবার দুপুরে কালিজিরা নদীর তেমাথা এলাকা থেকে ইজিবাইকচালক নাজমুল মোল্লার (২২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণফুলিয়া-জাগুয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা এয়ারপোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার সূত্র ধরে বুধবার সকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার আরেক অভিযুক্ত ইমরানকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা দাবি করেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ও তাদের সহযোগীরা তার ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, আমরা ঘটনার বিচার চাই এবং আইনগত সহায়তা চেয়েছি।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পলাতক অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

মিরসরাইয়ে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ফয়সাল আহমেদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বারইয়ারহাট পৌরসভার উত্তর সোনাপাহাড় ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকার মৃত ফজল কবিরের ছেলে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তারাবুনিয়াছড়া এলাকার মকবুলের বাড়িতে বসবাস করতেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরীর তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় জোরারগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় পিএসআই কামরুল হাসান সঙ্গীয় ফোর্সসহ সিরা ডিউটি পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল আহমেদকে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।