• ই-পেপার

কেডিএ চেয়ারম্যান হলেন খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি মনা

লাশ পাওয়া সেই আবাসিক হোটেল বন্ধ

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
লাশ পাওয়া সেই আবাসিক হোটেল বন্ধ
হাজীগঞ্জের মাতৃমায়া হোটেল। ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারের হলুদ পট্টির মাতৃমায়া আবাসিক হোটেল থেকে ইলিয়াস কাজীর (৬০) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হোটেলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে, শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের কিছু পরে হোটেলের একটি কক্ষ থেকে বৃদ্ধের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। 

ইলিয়াস কাজী জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঘনিয়া গ্রামের কাজী বাড়ির বাসিন্দা। গতকাল শুক্রবার তিনি হোটেলের একটি কক্ষে ভাড়ায় উঠেছিলেন। 

হোটেল কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি একা হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। সেই সময় তাকে কিছুটা বিধ্বস্ত দেখা গেছে। শনিবার দুপুরের মধ্যে দরজা না খোলার কারণে দরজার ফাঁক দিয়ে তাকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানাতে নিয়ে যায়।

হোটেলের ম্যানেজার রায়হান জানান, কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় ওই ব্যক্তি অসুস্থ ছিলেন।

হোটেল মালিক ফারুক হোসেন লিটন জানান, তিনি হোটেলে প্রবেশের সময় স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন এবং পরে বিষপান করে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হলুদ পট্টির একাধিক ব্যবসায়ী জানান, অতীতেও হোটেলটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। নিহত ব্যক্তির পরিবার এসেছেন। তারা মামলা করলে আমরা মামলা নেব। তবে এটি হত্যা না কি আত্মহত্যা ময়নাতদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

রায়পুরায় মাদক কারবারির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
রায়পুরায় মাদক কারবারির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
ছবি: কালের কণ্ঠ

নরসিংদীর রায়পুরায় মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে জুয়েল মিয়া ও বাদল মিয়া নামে দুই ব্যক্তির বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রায়পুরা পৌর শহরের মহিষমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মহিষমারা এলাকায় একটি মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভা শেষে তারা চলে গেলে, বিপুলসংখ্যক লোকজন মাদকবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে স্থানীয়ভাবে মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত জুয়েল মিয়া ও বাদল মিয়ার বাড়ির দিকে অগ্রসর হয়।

এসময় উত্তেজিত জনতা জুয়েল মিয়ার একটি চৌচালা টিনের ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি বাদল মিয়ার একটি দোচালা টিনের ঘরেও ভাঙচুর করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সভা শেষে প্রায় এক হাজার মানুষ জড়ো হয়। অনেকের হাতে লাঠি ও দা ছিল। মাদকবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে তারা অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে প্রথমে ভাঙচুর চালায় এবং পরে জুয়েল মিয়ার ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। তবে বাড়ি দুটিতে তাদের পরিবারের কেউ ছিল কিনা তা জানা যায়নি।

ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেন, জুয়েল ও বাদল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের কারণে তরুণ সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা বলেন, মাদক কারবারিদের কোনো আস্তানা এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জুয়েল মিয়া ও বাদল মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি মাদকের বিরুদ্ধে, তবে কারও সম্পত্তি নষ্ট করার পক্ষে নই। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, জনগণ মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য দিতে পারে কিংবা তাদের আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারে। কিন্তু কারো সম্পত্তি ধ্বংস করার অধিকার কারো নেই। মাদক কারবারিদের বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের ‘জ্বালা ধরেছে’ : জোনায়েদ সাকি

বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের ‘জ্বালা ধরেছে’ : জোনায়েদ সাকি
ছবি : কালের কণ্ঠ

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের ‘জ্বালা ধরেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি মরহুম আব্দুল মান্নানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার। পলাতক ফ্যাসিস্টদের রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। বিগত প্রায় চার মাসে সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা দেখে ফ্যাসিস্টদের মনে ও গায়ে জ্বালা ধরে গেছে। তারা এখনো ষড়যন্ত্র ও কুৎসা রটানোর চেষ্টা করছে। গত ১৫ বছর ধরে তারা শুধু চুরি, লুটপাটই করেনি, বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচার করে করেছে। চোরের মায়ের আবার বড় গলা!’

সাবেক ভিপি আব্দুল মান্নানের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, ‘উপজেলা বিএনপিকে তিনি টিকিয়ে রেখেছিলেন বহুবার কারাবরণ, মিথ্যা মামলা ও হামলা মাথায় নিয়ে।’

বাঞ্ছারামপুরের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাঞ্ছারামপুর ঢোলভাঙ্গা নদীর সংস্কার হবে। ইতোমধ্যে এর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা ভবন ১৫ তলা ও ৫০ শয্যার হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।’

বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আবু কালামের সঞ্চালনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন জিয়া উদ্দিন জিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ম. ম. ইলিয়াস, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাজ্জাদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালে মূসা,জেলা বিএনপির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মহসিন, বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক তাইবুর হাসান মাসুম, বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন বাদল, শিশু মিয়া, আব্দুল আইয়ুম, ইমান আলী, সালাউদ্দিন আহমেদ বাসু সহ  যুবদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

পরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণকারীরা মরহুম আব্দুল মান্নানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন সবাই।

সৈয়দপুরের গোলাহাটে গণহত্যার স্বীকৃতি দাবি

অনলাইন ডেস্ক
সৈয়দপুরের গোলাহাটে গণহত্যার স্বীকৃতি দাবি

১৯৭১ সালের ১৩ জুন নীলফামারীর সৈয়দপুরের গোলাহাটে বিহারি ও পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিলেন ৪৫০ হিন্দু ও মাড়োয়ারি। সেই ঘটনায় গণহত্যার স্বীকৃতির দাবি উঠেছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে ‘১৯৭১ জেনোসাইড বাংলাদেশ : গোলাহাট, সৈয়দপুর ৫৫ বছর স্মরণ আয়োজন’ অনুষ্ঠানে এই দাবি জানিয়েছেন আলোচকরা। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জেনোসাইড জাস্টিস অ্যান্ড রিসার্চ ফোরাম ও বাংলা ভুবন ঐকতান।

দেসিনের গণহত্যার বর্ণনা তুলে ধরেন জেনোসাইড জাস্টিস অ্যান্ড রিসার্চ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক খালিদা আক্তার। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে হিন্দু ও মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের শত শত মানুষকে একটি ট্রেনে তোলা হয়েছিল। গোলাহাট এলাকায় ট্রেন থামিয়ে তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৪৫০ জন নিহত হন। নারী, পুরুষ ও শিশু—কেউই এ হত্যাযজ্ঞ থেকে রক্ষা পাননি।

খালিদা আক্তার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নীলফামারীর সৈয়দপুরের গোলাহাটে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ছিল মানব সভ্যতার ইতিহাসের এক নির্মম অধ্যায়। এই গণহত্যার বিচার ও যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেটের আদিত্যপুর, নীলফামারীর কালীগঞ্জ ও নাটোরের ছাতনী গণহত্যার বিস্তারিত তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক জেবউননেছা। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী সহযোগীরাও অংশ নেয়। আদিত্যপুরে শান্তি কমিটির পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা বলে ৬৫ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে ডেকে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পরে বহু নারী নির্যাতনের শিকার হন।

অধ্যাপক জেবউননেছা বলেন, কালীগঞ্জে শরণার্থীদের দুই ভাগে ভাগ করে একদলকে গুলি এবং অন্যদলকে পাশের খালপাড়ে নিয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে। অন্যদিকে, নাটোরের ছাতনীতে রাতে গ্রাম ঘেরাও করে ঘুমন্ত মানুষদের হত্যার পর মরদেহ শনাক্ত কঠিন করে তুলতে নৃশংসতা চালানো হয়।

এসব গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বধ্যভূমি সংরক্ষণ এবং শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।