• ই-পেপার

বিএনপি জন্ম থেকেই সাংবাদিকবান্ধব দল : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আদমদীঘিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
আদমদীঘিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার আদমদীঘিতে পুকুরে সেচ পাম্প দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জিসান হোসেন (১৮) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। 

আজ রবিবার দুপুর দেড় টায় উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের পোঁওতা টিকরী গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান সান্তাহার ইউপির উথরাইল গ্রামের এমরান হোসেনের ছেলে। 

স্থানিয় সূত্রে জানাগেছে, পোঁওতা টিকরী গ্রামে মা জেসমিনের সঙ্গে নানীর বাড়িতে থাকতো জিসান। রবিবার দুপুরে ওই গ্রামের জনৈক সাখাওয়াত হোসেনের পুকুরে মাছ ধরার জন্য পানি সেচ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

খবর পেয়ে আদমদীঘি থানার এসআই এবিএম আরাফাত হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, নিহতের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশটি বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। 

গোপালগঞ্জে সড়কের পাশ থেকে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে সড়কের পাশ থেকে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
ছবি : কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় মো. নাসির মিয়া (৪৬) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে উপজেলার মধুমতী সেতুর টোল প্লাজা এলাকার সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাসির মিয়া ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মৃত সারোয়ার মিয়ার ছেলে। তিনি ভাইয়ের ব্যবসার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে কাশিয়ানীতে বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে মধুমতী সেতুর টোল প্লাজা সংলগ্ন সড়কের পাশে নাসির মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, নাসির মিয়া মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তার শরীরে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃগী রোগের খিঁচুনির সময় পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মাজারুল ইসলাম সবুজ (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি নির্যাতনের ভিডিও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (১৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আড়াইহাজার থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো.সাবজেল হোসেন। 

মামলার অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা মাজারুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকার তানিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলেসন্তান রয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সবুজ দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। জুয়া খেলার জন্য তিনি প্রায়ই স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করতেন এবং টাকা না পেলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। সম্প্রতি তিনি নিজের বেতন ও তার মায়ের বেতনের প্রায় ৭০ হাজার টাকা অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে ফেলেন।

এজাহারে তানিয়া উল্লেখ করেন, গত ৯ জুন সন্ধ্যায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বাধা দিলে সবুজ তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। পরে দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ জুন সকালে ফোন করে আবারও এক লাখ টাকা দাবি করেন সবুজ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সকাল ১১টার দিকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে দরজা বন্ধ করে স্ত্রীকে মারধর ও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন।

তানিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে। পরে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আহত তানিয়াকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা প্রদান করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। 

আড়াইহাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ সবজেল হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এর আগের অন্য মামলার গ্রেপ্তারের পরোয়ানা ছিল।

হুইলচেয়ারের জন্য ৬ বছরের অপেক্ষা, বিছানাবন্দি রাজশাহীর রিকশাচালক নকির

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, রাজশাহী
হুইলচেয়ারের জন্য ৬ বছরের অপেক্ষা, বিছানাবন্দি রাজশাহীর রিকশাচালক নকির
রাজশাহী নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন ৭৫ বছর বয়সী রিকশাচালক মো. নকির। পাশে বসে তার আছেন স্ত্রী হাসনা বানু। ছবি : কালের কণ্ঠ।

রাজশাহী নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এক পা ও এক হাত প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন ৭৫ বছর বয়সী রিকশাচালক মো. নকির। জীবনের প্রায় ৫০ বছর রিকশা চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন, দুই সন্তানকে মানুষ করেছেন। অথচ বার্ধক্য ও অসুস্থতার এই সময়ে একটি হুইলচেয়ারের অভাবে চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দি হয়ে পড়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. নকির ও তার স্ত্রী হাসনা বানু প্রায় ৩০ বছর ধরে অন্যের জায়গায় একটি ছোট ঘরে বসবাস করছেন। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে নকির এখন পুরোপুরি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। ফলে সংসারের একমাত্র ভরসা তার স্ত্রী।

হাসনা বানু জানান, দুই সন্তান আলাদা সংসার নিয়ে বসবাস করেন। স্বল্প আয়ের কারণে তারা নিয়মিতভাবে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে পারেন না।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী প্রায় ৬ বছর ধরে বিছানায় পড়ে আছেন। একটি হুইলচেয়ারের জন্য অনেকের কাছে গিয়েছি, অনেককে বলেছি, কিন্তু কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি। মনে হয় আমাদের কষ্ট নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে।’

হাসনা বানু আরো জানান, মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে মাসে প্রায় চার হাজার টাকা আয় করেন তিনি। সেই অর্থের বেশির ভাগই স্বামীর ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়ে যায়। বাকি টাকায় কোনোমতে দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, ‘নকির চাচা ও হাসনা চাচি দীর্ঘদিন ধরে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছেন। হাসনা চাচি এক বেলা খেয়ে না খেয়ে স্বামীর ওষুধের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন। আমাদের সামর্থ্যও সীমিত। না হলে আমি নিজেই একটি সেকেন্ড হ্যান্ড হুইলচেয়ার কিনে দিতাম।’

তিনি সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। মাঝেমধ্যে আমরা প্রতিবেশীরা যে যেমন পারি, কাঁচা বা রান্না করা খাবার দিয়ে সাহায্য করি। কিন্তু তাদের প্রয়োজন আরো বড় ধরনের সহায়তা।’

স্থানীয়দের দাবি, একটি হুইলচেয়ার পেলে অন্তত বিছানাবন্দি জীবন থেকে কিছুটা মুক্তি পেতেন নকির। পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটি বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো খুঁজে পাবে।

দীর্ঘ ৬ বছর ধরে একটি হুইলচেয়ারের অপেক্ষায় থাকা এই বৃদ্ধ রিকশাচালকের জীবনসংগ্রাম সমাজের মানবিক দায়িত্ববোধের প্রতিই যেন নতুন করে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে।