• ই-পেপার

রূপগঞ্জ

মহাসড়কের পাশে ময়লা অপসারণ ও বৃক্ষরোপণ করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

৬০ ঘণ্টা ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় ৬ বাংলাদেশি, পতাকা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান

সোহেল রানা স্বপ্ন, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) থেকে
৬০ ঘণ্টা ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় ৬ বাংলাদেশি, পতাকা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই শিশু সন্তানসহ টানা ৬০ ঘণ্টা ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেন দম্পতি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করলেও বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা এখনো সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

সুমি-বেলাল দম্পতি, তাদের দুই শিশুসন্তান এবং আরো দুজনসহ মোট ছয়জন বর্তমানে ওই এলাকায় আটকা রয়েছেন। একই সময়ে রৌমারীর বড়াইবাড়ি ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরো তিনজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত রবিবার (১৪ জুন) ভোরে গয়টাপাড়া ও বড়াইবাড়ি ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ মোট নয়জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। কাঁটাতারের কাছে নিয়ে আসা হলেও বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা শূন্যরেখার কাছেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিলেন। ফলে তারা ভারতেও ফিরতে পারছেন না, আবার বাংলাদেশেও প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না।

সরেজমিন দেখা যায়, সীমান্তের এক পাশে অবস্থান করছে বিএসএফ এবং অন্য পাশে বিজিবি। মাঝখানে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসে আছেন সুমি ও বেলাল। সুমির কোলে রয়েছে ছয় মাস বয়সী শিশু ফাইমা এবং বেলালের কোলে চার বছর বয়সী শিশু ফাতেমা।

জানা গেছে, সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেনের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামে। কয়েক মাস আগে তারা সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে। পরে বিএসএফ তাদের আটক করে রবিবার ভোরে সীমান্তে নিয়ে আসে।

বিজিবির দাবি, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে রৌমারীর দুটি সীমান্ত দিয়ে নয়জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিএসএফের দাবি, সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক। ভুক্তভোগীরাও নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়টি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিজিবি।

এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের কম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারা এখনো শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করছেন। কম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে, তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।’

তিনি আরো জানান, বিএসএফ তাদের কম্বল, পলিথিন ও খাবার দিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও খাবার ও ছাতা দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিএসএফ পুশ ইনের চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমরা তাদের প্রবেশ করতে দিইনি। গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’

লালমনিরহাটে শিশুর লাশ উদ্ধার ঘিরে উত্তেজনা, ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটে শিশুর লাশ উদ্ধার ঘিরে উত্তেজনা, ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর
ছবি: কালের কণ্ঠ

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। 

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুপুরে প্রতিবেশী রনজিৎ চন্দ্রের ছেলে বিধান চন্দ্রকে বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনা জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা বিধানের বাড়িঘর ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে আটক বিধান চন্দ্রকে থানায় নিয়ে যায়।

হত্যার শিকার ওই শিশুর নাম নন্দিনী। সে ফলিমারী গ্রামের নলিন কান্তের মেয়ে। স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেল থেকে শিশু নন্দিনীকে খুঁজে পাচ্ছিল না তার পরিবার। আজ সকালেও পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে ভুট্টা ক্ষেতের এক জায়গায় মাটি নরম দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে মাটি সরিয়ে সেখান থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিতদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এসময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে আটক বিধান চন্দ্রকে থানায় নিয়ে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, ‘এ ঘটনা ন্যক্কারজনক। অভিযুক্তসহ পুলিশ কর্মকর্তার গাফিলতি পাওয়া গেলে তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

পদ্মা নদীতে জেলের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
পদ্মা নদীতে জেলের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাহাবুল ইসলাম নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে পদ্মা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত সাহাবুল ইসলাম পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. ইউনুছ প্রামানিক ও সাহারা বানুর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন দিবাগত রাতে লালপুর থানার রাইটার চর এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকায় ছিলেন জেলে মো. সাহাবুল ইসলাম (৪৫) ও মো. রবিউল ইসলাম (৩৭)। এ সময় চরাঞ্চল থেকে মোটরসাইকেলে আসা ৫-৬ জন অজ্ঞাত অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত নদীর পাড়ের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে নৌকাটিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাহাবুল ইসলাম নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া গুলিতে সাহাবুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তার ডান কাঁধের ওপরের অংশে গুলি লেগে শরীরের সামনের অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে তার সঙ্গে থাকা রবিউল ইসলাম আতঙ্কিত হয়ে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে তিনি সাঁতরে নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও তার শরীর ও দুই হাতে সামান্য আঘাত লাগে।

পুলিশ জানায়, সাহাবুল ও রবিউল গত দুই দিন ধরে নিজস্ব শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পদ্মা নদীতে মাছ ধরছিলেন। ঘটনার সময় হামলাকারীদের কাউকে চিনতে পারেননি বলে রবিউল ইসলাম জানান।

পুলিশ আরো জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি মরদেহ এবং একটি কালো রঙের শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা উদ্ধার করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা যায়নি।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় আর্জেন্টিনার রঙে রাঙানো বাড়ি-বাস

শেরপুর প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় আর্জেন্টিনার রঙে রাঙানো বাড়ি-বাস
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে কেউ সাজিয়েছেন যাত্রীবাহী বাস, আবার কেউ পুরো বাড়িকেই রাঙিয়েছেন আকাশি-সাদা রঙে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন এখন স্থানীয়দের কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নালিতাবাড়ী-ঢাকা মহাসড়কে চলাচল করছে ‘আর্জেন্টিনা বাস’। উপজেলার পরিবহন ব্যবসায়ী ও মাকসিম ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী গোলাম কিবরিয়া মাকসিম তার প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বাসটিকে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে সাজিয়েছেন। আকাশি-সাদা রঙে মোড়ানো বাসটির গায়ে রয়েছে মেসির বড় প্রতিকৃতি। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন আর্জেন্টিনার জার্সির নকশায় তৈরি করা হয়েছে বাসটি।

তবে দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে বাসটির মাঝামাঝি অংশে বাংলাদেশের পতাকা অঙ্কন করে বড় করে লেখা হয়েছে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

বাসটির মালিক গোলাম কিবরিয়া মাকসিম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি ফুটবল উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। বাসটি সড়কে নামানোর পর যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।’

অন্যদিকে, নালিতাবাড়ী পৌর শহরের বাজার এলাকার বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের বাড়ির বাউন্ডারি, গেটসহ বাইরের পুরো অংশ আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার আদলে রাঙানো হয়েছে। তার তিন ছেলে নাজমুল হাসান রুবেল, অমিত হাসান শুভ ও দুর্জয় হাসান শাকিলের উদ্যোগে বাড়িটি পেয়েছে নতুন রূপ।

অমিত হাসান শুভ বলেন, ‘প্রিয় দলের প্রতি আবেগ ও ভালোবাসা থেকেই পরিবারের সবার সম্মতিতে বাড়িটিকে আর্জেন্টিনার রঙে সাজানো হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাড়িটি দেখতে আসছেন। অনেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। মানুষের এমন আগ্রহ আমাদের আনন্দিত করছে।’

স্থানীয় ক্রীড়াবিদ অখিল সাহা বলেন, ‘ফুটবলপ্রেমের অনন্য প্রকাশ হিসেবে আর্জেন্টিনার রঙে সাজানো এই বাড়ি ও বাস এখন নালিতাবাড়ীর অন্যতম আলোচিত বিষয়। স্থানীয়রা এটিকে সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসার ব্যতিক্রমী নিদর্শন হিসেবে দেখছেন।’