• ই-পেপার

পাকুন্দিয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের

স্বপ্নার প্রেমের টানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চীনা ‍যুবক

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
স্বপ্নার প্রেমের টানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চীনা ‍যুবক
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হয় প্রেম। এরপর প্রণয়ের আলাপে মধুর স্মৃতি গড়ে ওঠে তাদের। সেই ভালো লাগার টানেই হাজার মাইল দূর থেকে বাংলাদেশি প্রেমিকার বাড়িতে ছুটে এসেছেন চীনা যুবক। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

প্রেমিকা স্বপ্না আক্তারের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীননগরে এবং জিয়াঐলির বাড়ি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লুজোউ শহরের লুজিয়ান এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের তিন মাসে গড়ে ওঠে প্রণয়। এখন পরিণতি আনতে ভাষাগত ও সাংস্কৃতির পার্থক্য থাকলেও মনের আবেগ, মায়ার কাছে তা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে।  

সোমবার (১৫ জুন) রাতে প্রেমিকা স্বপ্নার টানে বাংলাদেশে পাড়ি জমান চীনা যুবক জিয়াঐলি। বর্তমানে স্বপ্না আক্তার নবীনগরের নীলনগর এলাকায় তার মামার বাড়িতে অবস্থান করছেন।  

এদিকে বিদেশি যুবকের আসার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জিয়াঐলিকে একনজর দেখতে স্বপ্নার মামার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত উৎসুক জনতা। ইতোমধ্যে এই প্রেমিক যুগলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি যুবককে গ্রামে দেখতে পেয়ে প্রথমে সবাই অবাক হন। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এই চীনা যুবক কোনো প্রতারক চক্রের সদস্য কি না? বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর কামনা করছেন স্থানীয়রা।

এই বিষয়ে স্বপ্না আক্তার জানান, জিয়াঐলি স্বপ্নাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশে এসেছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে যাবেন। স্বপ্না আরো জানান, জিয়াঐলি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম হওয়ার পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করবেন।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি ও ইউএনও জানান, সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি। আমরা খোঁজখবর নেব।

শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর
শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড
মৃত শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পির মায়ের আহাজারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি (২৭) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার কানুয়া মহল্লা থেকে ওই যুবকের শ্বশুরবাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত বাপ্পি উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম গার্মেন্টসের কাজের জন্য জর্দানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু স্বামী বাপ্পি ও তার পরিবার এতে রাজি ছিলেন না। এই পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মীম কিছুদিন আগে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

বাপ্পির পরিবারের দাবি, গত ১১ জুন মীম তার স্বামী বাপ্পিকে না জানিয়ে ঢাকায় গিয়ে একটি হোটেলে অবস্থান নেন। ওই সময় বাপ্পি মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে রাগারাগি করেন। একপর্যায়ে ভিডিও কল দিলে মীম যে হোটেলরুমে ছিলেন, সেখানে এক পরপুরুষকে দেখতে পান বাপ্পি। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। পরে গত ১৪ জুন মীম ঢাকা থেকে ভাণ্ডারিয়ার কানুয়ায় তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং মোবাইল ফোনে বাপ্পিকে সেখানে ডেকে নেন।

মৃত বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম দাবি করেন, সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে খাবার শেষ করে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাত ১টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে মীমের ঘুম ভাঙলে তিনি বাপ্পিকে খাটে না দেখে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় বাপ্পিকে ঝুলতে দেখেন। মীমের ভাষ্য, তিনি একাই ওড়না কেটে বাপ্পির দেহ নিচে নামিয়ে খাটে রাখেন এবং পরে বাপ্পির পরিবারকে খবর দেন।

তবে বাপ্পির মা রুবী বেগম এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আমার ছেলেকে হত্যা করে গলায় ফাঁসের নাটক সাজানো হচ্ছে। পুত্রবধূ মীম উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করত এবং একাধিক পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার দুই দিন আগেও সে ঢাকায় অন্য পুরুষের সঙ্গে হোটেলে ছিল, যা আমার ছেলে ভিডিও কলে দেখে ফেলে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।

এদিকে খবর পেয়ে বাপ্পির মা রুবী বেগম মীমদের বাড়িতে এসে আহাজারি শুরু করলে একপর্যায়ে মীমের চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মণ্ডল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

টানা বৃষ্টিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে হাঁটু পানি

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে হাঁটু পানি
সংগৃহীত ছবি

টানা বৃষ্টিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা-টাঙ্গাইল  মহাসড়কের উপজেলার হরিণহাটি এলাকায় মহাসড়কের ওপর হাঁটু সমান পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, পানি জলাবদ্ধতার কারণে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। উৎসব জনতা মহাসড়কের পানিতে জাল দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা গেছে।  এ ছাড়া আশপাশের বাসা বাড়িতে ঢুকে পড়েছে ড্রেনের নোংরা পানি। তলিয়ে গেছে শাখা  সড়কগুলো। লোকজনদের পানিতে ফলাফল দেখা গেছে। পৌরসভার ড্রেন দিয়ে কম পরিমাণে পানি নিষ্কাশনের কারণে এ জ্বলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
 
স্থানীয় হরিণহাটি এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, মঙ্গলবার এর টানা বৃষ্টিতে আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট চলে গেছে। বাসাবাড়িতেও পানি উঠেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র। সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে। কর্তৃপক্ষকে বারবার বলেও কোন ফল পাওয়া যায় না। 

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওপর ও প্রশাসক এস এম ফখরুল হুসাইন বলেন, ‘কয়েক ঘণ্টার একটানা বৃষ্টির কারণে ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। ড্রেনের মুখে বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা এসে জড়ো হয়েছে। সবাইকে সচেতন হতে হবে।  পানি নিষ্কাশনে কাজ করছে।’

ভোলায় নদী ভাঙনরোধে সিসি ব্লকের দাবিতে পাউবো ঘেরাও

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় নদী ভাঙনরোধে সিসি ব্লকের দাবিতে পাউবো ঘেরাও
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভোলায় মেঘনা নদীর ভাঙনরোধে সিসি ব্লকের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অফিস ঘেরাও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে মিছিল নিয়ে ভোলা শহরের যুগীরঘোলে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। 

বিক্ষোভের কারণে ভোলা শহরের প্রাণকেন্দ্র যুগীরঘোল এলাকায় সড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টার সময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে তারা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে পাউবো অফিসের ভেতরে ঢুকে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকল্পের মাধ্যমে সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের কাজ শুরুর প্রতিশ্রুতি দেন কর্মকর্তারা। এই আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধরা।

বিক্ষোভকারী এ কে এম নুর হোসেন, মো. মুনসুর, আব্দুল মোতালেবসহ ১০-১২ জন জানান, মেঘনা নদী যেভাবে ভাঙছে, এতে এবারের বর্ষা মৌসুমে শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের অবশিষ্ট অংশটুকুও থাকবে না, নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে হুমকিতে থাকা শিবপুর অংশে ভোলা শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ যেকোনো সময় ভেঙে ভোলা শহর তলিয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকবার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে শিবপুর ও মেদুয়ার কয়েক হাজার মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছে। অবশিষ্ট ঘর-ভিটার জমিটুকুও বিলীন হওয়ার হুমকিতে রয়েছে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, ভোলার শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকার ভাঙনরোধে সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের জন্য ৬৮৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি, শিগগিরই প্রকল্পটি অনুমোদন হবে এবং সিসি ব্লকের কাজ শুরু করা হবে।