যেকোন মূল্যে ব্ল্যাক বেঙ্গলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সম্প্রসারণের কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। প্রতিটি জেলায় একটি করে খামার তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত “মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ ছাগল পালনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। ছাগলের কৃত্রিম প্রজনন, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও দরিদ্র নারীদের বিনামূল্যে ছাগল উপহার দেওয়ার মতো কর্মসূচি নিয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরের সরকারগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এ প্রকল্প পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাত এখন বিলুপ্তির পথে।
দেশে দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে মহিষ খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতে মহিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। মহিষের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উন্নত জাত সংরক্ষণ এবং খামারিদের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারলে দেশের দুধ ও মাংস উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে এবং খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। উন্নত দেশসমূহে মহিষ দুধের অনেক বড় একটি উৎস। আমাদের দেশের চরাঞ্চলে তুলনামূলক কম কৃষিকাজ হয়। এখানে যদি আমরা লবণাক্ত মাটির জন্য উপযোগী, লবণ সহিষ্ণু জাতের ঘাস চাষ করতে পারি, তবে মহিষ পালনের একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে কৃষিকাজের জন্য জায়গার স্বল্পতা দেখা যাবে। তাই কম জায়গায় কীভাবে মহিষ পালন করা যায় সে বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
আগামীতে গবেষণা খাতে আরো বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে জানিয়ে আমিন উর রশিদ বলেন, গবেষণা ছাড়া দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। গবেষণার বিষয়ে সরকার কোনো কৃপণতা করবে না। তবে প্রকৃত অর্থে গবেষণা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই এখানে প্রকৃত গবেষণা হচ্ছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
গবেষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা ভবিষ্যতের জন্য কিছু করে যান, আপনাদের পূর্বপুরুষেরা ভালো কিছু করেছেন বিধায় এখন আপনারা তার অনেক সুফল ভোগ করছেন। পাহারা দিয়ে গবেষণা করানো যাবে না, এটা আপনাদের ভেতর থেকেই আসতে হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভুঁইয়া, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান প্রমুখ।





