• ই-পেপার

‘ব্রাজিলের ড্র আমাদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে’

নান্দাইলে ‘মাদক ব্যবসায়ীদের’ বাড়িঘর ভাঙচুর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
নান্দাইলে ‘মাদক ব্যবসায়ীদের’ বাড়িঘর ভাঙচুর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় তিনজন কথিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে নান্দাইল পৌরসভার দুটি এবং উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নান্দাইল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দশালিয়া মহল্লার বাসিন্দা মো. ইদ্রিস আলী ও আবদুল কাদিরের বাড়িতে হামলা চালান এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, ওই দুই বাড়ি থেকে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি করা হচ্ছিল।

এলাকাবাসীর দাবি, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এলাকার অনেক তরুণ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছিল। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও মাদক বিক্রি বন্ধ করতে না পেরে মঙ্গলবার সকালে শতাধিক মানুষ একত্রিত হয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ওই দুই ব্যক্তির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান।

ঘটনার পর থেকে ইদ্রিস আলী ও আবদুল কাদির আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ইদ্রিস আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বসতঘর, রান্নাঘরের টিনের বেড়া এবং শৌচাগার ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে ইদ্রিসের স্ত্রী শিল্পী আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী আগে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে তা ছেড়ে দিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের চারকান্দা গ্রামে কথিত মাদক ব্যবসায়ী সুজন মিয়ার বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয়রা জানান, বাড়ি ভাঙতে গেলে সুজন প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে সরিয়ে দিয়ে বাড়িঘর ভেঙে ফেলে।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, গত সপ্তাহেও নান্দাইল উপজেলার সিংদই ও জাহাঙ্গীরপুর গ্রামে দুই কথিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য অশনিসংকেত। মাদক ব্যবসায়ী থাকলে জনগণ তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারেন। কিন্তু প্রচলিত আইন কারো বাড়ি ভাঙচুর সমর্থন করে না।’

প্রবাসে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়, প্রধান অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জে গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রবাসে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়, প্রধান অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জে গ্রেপ্তার
পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অভিযুক্ত খসরু পারভেজকে।

প্রবাসে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় ও অর্থ আত্মসাৎ করার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত খসরু পারভেজ (৩৫) নামের এক ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

আজ মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাদলা থানেশ্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি খসরু পারভেজ ভূঁইয়া কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাসিন্দা।  

ভুক্তভোগী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে বৈধ চাকরি ও আকামা (কর্ম অনুমতিপত্র) করে দেওয়ার আশ্বাসে মদন উপজেলার বাসিন্দা মোহন মিয়া নামে এক ব্যাক্তির নিকট থেকে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন পারভেজ ভূঁইয়াসহ সহযোগীরা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে মোহনকে বিদেশে নিয়ে নানা দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে রাখা হয়।

এমনকি বিদেশে অবস্থানকালে তিনি চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। পরে তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে। আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় আরও অর্থ পাঠানোর পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

দেশে ফিরে তিনি অভিযুক্তদের কাছে অর্থ ফেরত ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ১২ জুন ২০২৬ ইং তারিখে মামলাটি মদন থানায় এজাহার হিসেবে রুজু করা হয়।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন করিম বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতকে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ 

নাজিরপুরে ৬ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
নাজিরপুরে ৬ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬টি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক পলাতক আসামি মো. আশিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে পিরোজপুর শহর থেকে অভিযান পরিচালনা করে এ আসামিকে গ্রেপ্তার করে নাজিরপুর থানা পুলিশ। 

গ্রেপ্তারকৃত মো. আশিকুজ্জামান (৫৫)  নাজিরপুর উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সোনামউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আদালতে মোট ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং প্রতিটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।

গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলাগুলো হলো— CR-১৮৭১/২৪, CR-১৮০১/২৪, CR-১৭৯৮/২৪, CR-১৭৯৯/২৪, CR-১৮৬৯/২৪ এবং CR-১৬৭/২৪।

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিরোজপুর শহর থেকে নাজিরপুর থানার এসআই রাকিব হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী

গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি : কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় রূপা বেগম (২৬) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীসহ তিনজনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাত বছর আগে কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের ছোটকারকান্দি গ্রামের মো. রিজাউল শেখের ছেলে মোহাম্মাদ শেখের সঙ্গে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বেজিডাঙ্গা গ্রামের মো. দেলোয়ার শেখের মেয়ে রূপা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য রূপার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো। এ নিয়ে তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিহতের শ্বশুর রিজাউল শেখ জানান, তার ছেলে মোহাম্মাদ প্রায়ই রূপাকে মারধর করতেন। গত ৮ জুন তাকে মারধর করার পর রূপা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গোপালগঞ্জ, ঢাকার কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সোমবার ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় বাবার বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনায় সোমবার (১৫ জুন) রাতে নিহতের বাবা মো. দেলোয়ার শেখ বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, মামলায় স্বামী মোহাম্মাদ শেখ (৪৬), তার ভাই মো. নূরু শেখ (৪২) এবং মা নার্গিস বেগমকে (৬০) আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চলমান রয়েছে।