• ই-পেপার

বরিশালে বিপুল অবৈধ রেণুপোনা জব্দের পর নদীতে অবমুক্ত

ফসলহানির পর মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, প্রণোদনা চান ক্ষতিগ্রস্তরা

মো. বায়েজীদ বিন ওয়াহিদ, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ)
ফসলহানির পর মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, প্রণোদনা চান ক্ষতিগ্রস্তরা
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের উত্তর কামলাবাজ গ্রামের কৈবর্ত্যহাটি পাড়ায়। মঙ্গলবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

‎হাওরের অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মাছ শিকারের ওপর নির্ভরশীল। এবার ঘরে বোরো ধান ওঠেনি তাদের। ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষিজমি অনাবাদি রয়েছে। এর মধ্যেই প্রজনন মৌসুমে মাছ শিকারে এক মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে হাওরপারের মানুষের।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ফসলহানির শিকার হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞাকে কঠিন বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন তারা। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ জরুরি হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা তাদের জীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে।

‎প্রজনন মৌসুমে দেশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের জন্য সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। তবে এ সিদ্ধান্তে উপজেলার শতাধিক জেলে পরিবার চরম বিপাকে পড়েছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি কোনো সহায়তা না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।

‎উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে থেকে আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত দেশের সাত জেলায় মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। সে হিসেবে জামালগঞ্জ উপজেলার সব হাওর ও নদীতেও মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা  রয়েছে। এ সময় মাছ ধরা, পরিবহন ও বিপণন বন্ধ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। তবে মাছ ধরাই যাদের একমাত্র জীবিকার উৎস, সেসব জেলে পরিবার সংকটে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। নিষেধাজ্ঞার এই এক মাস কীভাবে কাটবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে  তাদের।

‎উপজেলা সমবায় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে হালনাগাদ তালিকাভুক্ত মৎস্য সমবায় সমিতি ৬৫টি। এসব সমিতিতে কার্ডধারী মৎস্যজীবী রয়েছেন ৯ হাজার ৪১১ জন, যারা সরাসরি মাছ শিকারের  সঙ্গে যুক্ত। এমনিতেই হাওরে ফসলহানির কারণে চলতি বছর অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে। তার ওপর মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা তাদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়েছে।

‎বেহেলী ইউনিয়নের মৎস্যজীবী মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা সারা বছর হাওর আর নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাই। দিন আনি দিন খাই। একদিন মাছ ধরতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এখন এক মাস মাছ ধরা বন্ধ। এই সময় সরকার কোনো সহায়তা না দিলে আমরা পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব।’

‎উত্তর ইউনিয়নের জেলে জ্যোতিলাল দাস বলেন, ‘এটা আমাদের বাপ-দাদার পেশা। আমার পরিবারে ১১ জন সদস্য। এই পেশার ওপর নির্ভর করেই সারা বছর চলি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন খুব কষ্টে আছি।’

‎এদিকে উপজেলার সচেতন মহল মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও জেলে পরিবারের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের ভাষ্য, মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি এই সময় কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করাও প্রয়োজন।

‎হাওর ও নদীতীরবর্তী একাধিক জেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয় কালের কণ্ঠের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। তারা বলেন, মাছ রক্ষার উদ্যোগ অবশ্যই সফল হোক। কিন্তু সেই উদ্যোগের পুরো ভার যেন শুধু জেলেদের কাঁধে না পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।

‎জামালগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌস ইবনে রহিম বলেন, নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে জেলেরাই এর সুফল ভোগ করবেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। প্রণোদনা এলে জেলেরা অবশ্যই পাবেন।’

বরিশালে অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বন্ধ ঘোষণা, শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বন্ধ ঘোষণা, শ্রমিকদের বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরিশালে অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া পাওনাদি পরিশোধ, কারখানা বিক্রি হলে চাকরির নিরাপত্তার দাবিতে ভুখা মিছিল করেছেন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে রুপাতলী অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা থেকে মিছিলটি বের হয়ে গোলচত্বরে এসে শেষ হয়। পরে তারা রুপাতলী গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।

বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করার পর বকেয়া পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে আসছেন কারখানার শ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার শ্রমিকরা ভুখা মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, অলিম্পিক কারখানা বিক্রি হওয়ার বিষয়টি তারা আগে থেকেই জানতেন। গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করার পর ইউনিয়ন নেতারা মালিককে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা কারখানার শ্রমিকদের চাকরি হস্তান্তর করার বিষয় কোনো সদুত্তর দেয়নি। তবে দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধ করার বিষয়ে সময় নিয়েছেন। তবে সেই সময় কতটা দীর্ঘায়িত হবে তা জানানো হয়নি। 

সমাবেশে অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সরদারের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বরিশালের সমন্বয়ক ডাক্তার মনীষা চক্রবর্তী, নির্বাহী কমিটির সদস্য শহিদুল শেখ, শহিদুল হাওলাদার, অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পাভেল হাওলাদার প্রমুখ।

ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল সংকট ও এলছি সংকটের কারণে বরিশাল অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বৃহস্পতিবার থেকে ( ১১জুন) বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহার

নোয়াখালী প্রতিনিধি
হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহার
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ফরিদ উদ্দিনকে প্রত্যাহার করে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। রোগীরা দালালদের দৌরাত্ম্য ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কথা জানায়। এ ছাড়া পরিদর্শনকালে তিনি বাথরুম ও মেঝেতে নোংরা অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।
 

ফরিদপুরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে জেলার কোতোয়ালি থানার ব্রাহ্মণকান্দা এলাকার রাজবাড়ী রাস্তার মোড় সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

অভিযানে মো. মিজানুর রহমান (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১ হাজার পিস মেথামফেটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় ফরিদপুরের পরিদর্শক (ক-সার্কেল) বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার মিজানুর রহমানের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমলা খামারপাড়া এলাকায়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধনী-২০২০) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপপরিচালক শিরিন আক্তার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরো জোরদার করা হবে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।’