• ই-পেপার

হাইল হাওর থেকে অজগর উদ্ধার

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস মোকাবেলায় মির্জাপুরে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস মোকাবেলায় মির্জাপুরে প্রশিক্ষণ কর্মশালা
ছবি : কালের কণ্ঠ

‘চলুন আমরা একসঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস মোকাবেলা করি’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে মির্জাপুরের কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার ঝান্ডা হলে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কোইকা, গ্লোবাল কেয়ার, পিএমসিআই এবং কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডা. সিনাং লিম। এ সময় আরো বক্তব্য দেন ফিল্ড ম্যানেজার লিপস মৃ, কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল হাই, প্রান্তিক রায় ও খোরশেদ আলম।

আলোচনায় বক্তারা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি, প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরে কুমুদিনী হাসপাতালের অভিজ্ঞ নার্সরা মাঠকর্মীদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রকল্পের প্রায় ২০০ মাঠকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জে দুইটি ট্রাকের মধ্যে গতির প্রতিযোগিতা ও ওভারটেকিং করার সময় ট্রাকচাপায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকচালক আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কের সয়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত নুরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ সদর ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বোহাইল গ্রামের আফসার আলীর ছেলে। 

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, সয়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণপাশে মহাসড়কে ডিউটি করছিলেন নুরুল ইসলামসহ ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এ সময় দুটির ট্রাকের মধ্যে গতির প্রতিযোগিতার এক পর্যায়ে ওভারটেকিং করতে গিয়ে নুরুল ইসলামকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। 

ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের পর নিহতের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকের চালক আহত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 

ছাতকে ট্রাফিক পয়েন্টে স্কুলছাত্রকে মারধর

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ছাতকে ট্রাফিক পয়েন্টে স্কুলছাত্রকে মারধর
সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে এক স্কুলছাত্রকে মারধর করে আহত করা এবং তার কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর (গণেশপুর) গ্রামের বাসিন্দা মুহাম্মদ নাজমুল হাসান জুয়েল এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের দিঘলী চাকলপাড়া এলাকার রেদওয়ান (২৩) ও তার সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ছাতক টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত ফাহিম সিএনজি অটোরিকশাযোগে ছাতক থেকে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে পৌঁছান। সেখানে তিনি তার বড় ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত রেদওয়ান তার কাছে বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে ফাহিম নিজেকে ছাতকের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। এর পরপরই রেদওয়ান ও তার সহযোগী তাকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ফাহিমকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। একপর্যায়ে তার মাথা পাশের একটি পাকা দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে জখম করা হয়। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে অভিযুক্তরা ফাহিমের সঙ্গে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা বলেন, একজন নবম শ্রেণির ছাত্রকে কেবল নিজের এলাকার পরিচয় দেওয়ার কারণে প্রকাশ্যে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ছাতক ও গোবিন্দগঞ্জ এলাকার কিছু ব্যক্তির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে একে অপরকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন মন্তব্য ও পোস্ট দিতে দেখা গেছে। স্কুলছাত্রের ওপর হামলার এ ঘটনাটি ওই চলমান উত্তেজনার সঙ্গে কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট কি না, তা নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে অভিযোগের সঙ্গে ওই বিরোধের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য এসআই জাহাঙ্গীরকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিনা ছুটিতে ২ দিন অনুপস্থিত বেড়া পাউবোর ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী

পাবনা প্রতিনিধি
বিনা ছুটিতে ২ দিন অনুপস্থিত বেড়া পাউবোর ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী
সংগৃহীত ছবি

অফিস থেকে ছুটি না নিয়ে দপ্তর ফাঁকা রেখে ঢাকায় যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনার বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। একটি মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে তারা দুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে দুইদিন ধরে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুপস্থিত থাকায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাহত হচ্ছে। তবে, পাউবোর কর্মকর্তা বলছেন, তারা মৌখিক ছুটি নিয়ে গেছেন।

যারা ঢাকায় গেছেন তারা হলেন বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-২ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনাব আতিক হোসেন, বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনাব হাবিবুর রহমান, বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-৬ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনাব সুরুজ মন্ডল, বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী  রাসেল ফকির ও বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-১ এর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক জনাব তাওফিকুর রহমান।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৫ মার্চ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর সিআর-৩০৮/২০২৬ (তেজগাঁও)। এই মামলায় উল্লেখিত বেড়া পাউবোর ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তের জন্য ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের গোয়েন্দা শাখাকে নির্দেশ দেন আদালত। তার প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকাজে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাদের ১৫ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠান তদন্তকারী কর্মকর্তা। সেখানে হাজির হতে ১৫ জুন, মঙ্গলবার ঢাকায় যান উল্লেখিত ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী। 

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অফিশিয়ালভাবে ছুটি না নিয়ে তারা ঢাকায় গেছেন। এমনকি তারা দুইদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এতে বেড়া পাউবোতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে সরেজমিন বেড়া পাউবো অফিসে গিয়ে উল্লেখিত ৫ জনের মধ্যে ৪ জনকে তাদের কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তবে বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী রাসেল ফকিরকে তার দপ্তরে পাওয়া যায়। 

এ বিষয়ে বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জনাব রাসেল ফকির বলেন, ‘আমি ১৫ জুন ঢাকায় ছিলাম, রাতে ফিরেছি। ছুটি নিয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে বলেন, মৌখিকভাবে ছুটি নিয়েছি। যেহেতু আমাদের আদেশ এসেছে ঢাকায় হাজিরা দেওয়ার।’ 

বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-২ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিক হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকায় থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘অফিসের কাজে স্যারের সঙ্গে নগরবাড়িতে আছি, পরে কথা বলব। নগরবাড়িতে কোথায় আছেন, সাক্ষাৎ করতে চাই—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নানা টালবাহানা করে সাক্ষাৎ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, আমি কাজ শেষ করে পরে আপনার সঙ্গে দেখা করব।’

বেড়া পানি উন্নয়ন শাখা-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী  হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি স্যারদের সঙ্গে এক জায়গায় যাচ্ছি। কোথায় আছেন, সেখানেই যাচ্ছি বলেন—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আমি তো বসে নেই। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছি। বিকেলে এসে কথা বলি। আপনি ঢাকায় আছেন—প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম, রাতে ফিরেছি। মৌখিকভাবে স্যারদের জানিয়ে গিয়েছিলাম। তিনিও নানারকম কথা বলে সাক্ষাৎ করতে এড়িয়ে যান।’

এ বিষয়ে পাউবো বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক সময় কোনো কর্মকর্তা কোনো কাজে যদি অফিসে আসতে না পারেন, তখন তিনি আমাদের কাছে মৌখিক অনুমতি চান। তখন আমরা তাকে সাধারণত মৌখিক অনুমতি দিই। পরে ছুটি অনুমোদন করে নেওয়া হয়। তারা ৫ জন মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়েছেন বলে জানান তিনি।’

পাবনা পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জনাব সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ‘কর্মস্থলের বাইরে ঢাকায় যেতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই যেতে হবে। সেটা মৌখিক হোক বা লিখিতভাবে। অনুমতি না নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে অনুমতি না নিয়ে যদি তারা ঢাকায় গিয়ে থাকে এমন অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’