• ই-পেপার

যশোরে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

‘মাকে আপনারা বাঁচান, মা ছাড়া আমার কেউ নেই’

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি
‘মাকে আপনারা বাঁচান, মা ছাড়া আমার কেউ নেই’
ছবি: কালের কণ্ঠ

একসময় স্বামী-সন্তান পরিবার সবই ছিল হাসিনা বেগমের (৬০)। সুখ ছিল সংসারে। এখন সবকিছু হারিয়ে সহায়সম্বলহীন হাসিনা বেগম থাইরয়েডের সঙ্গে বসবাস করছেন গত দুই বছর ধরে। চিকিৎসক বলেছেন, থাইরয়েড ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে।

হাসিনা বেগম যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের শেখপাড়ার মৃত রহমান শেখের স্ত্রী। বর্তমানে গলা দিয়ে অবিরাম তাজা রক্ত ঝরে। খেতে পারেন না, হাঁটতে পারেন না, পারেন না বসতেও। প্রতিদিন দরকার ১৫০০ টাকার ইনজেকশন ও দামি ওষুধ। ছোট মেয়ের ভিক্ষায় আয় হয় তিন থেকে চার শ টাকা। এ টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা চালানো সম্ভব না।

হাসিনা বেগমের ছোট মেয়ে সাগরিকা বেগম জানান, তারা চার ভাই-বোন। এরমধ্যে ভাই সবার ছোট। তিন বোনের বিয়েও হয়েছিল। কিন্তু সংসার টেকেনি। ২০১৭ সালে বিনা চিকিৎসায় বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরে একমাত্র ছোট ভাই। ২০২০ সালে বিদ্যুতায়িত হয়ে ভাই মারা গেলে পরিবারে অনটন শুরু হয়। এরপর ২০২২ সালে মায়ের থাইরয়েড ধরা পড়ে। অভাবের সংসারে কবিরাজ ও হোমিও চিকিৎসা চলছিল। সেখানে ভুল চিকিৎসায় মায়ের গলা ফুলে ওঠে। খেতে ও কথা বলতে সমস্যা শুরু হয়। এর এক বছরের মধ্যে গলায় ফোঁড়ার মতো মুখ বের হয়ে সেখান থেকে তাজা রক্ত ঝরা শুরু হয়। হাঁটতে ও বসতে গেলে রক্ত ঝরে। মায়ের দেখাশোনা করার মতো কেউ থাকে না। একপর্যায়ে বেনাপোলের স্বামীর বাড়ি ছেড়ে মায়ের কাছে চলে আসে সাগরিকা। যে কারণে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, মা কোনো শক্ত খাবার খেতে পারেন না। শুয়ে থাকা অবস্থায়ই খাবার তুলে দিতে হয়। মায়ের চিকিৎসায় ধারদেনা ও জমানো ৫ লাখ টাকা ব্যয় করি। কোনো পরিবর্তন না হলে ঢাকার একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞকে দেখালে তিনি দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন এবং কিছু ওষুধ লিখে দেন। অপারেশন ও অন্যান্য খরচ মিলে ৫ লাখ টাকা লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। তবে অপারেশনের আগে প্রতিদিন দরকার ২ হাজার টাকার ওষুধ। বাড়ি এসে উপায় না পেয়ে হাটে হাটে ভিক্ষা শুরু করেন মা। মানুষের বাসার ঝির কাজও করেন মাঝে মাঝে। কিন্তু এ থেকে উপার্জিত টাকা দিয়ে চিকিৎসা হয় না। টাকার অভাবে অপারেশন হচ্ছে না। দিন যতই যাচ্ছে অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। অভাবের সংসারে অন্য বোনরাও সহযোগিতা করতে পারছে না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাগরিকা বলেন, ‘মা ছাড়া আমার আর কেউ নেই। আমার মাকে আপনারা বাঁচান। তাকে সুস্থ করতে সমাজের সহৃদয়বান মানুষের সহায়তা প্রার্থনা করেন’।

স্থানীয় নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান বাবলু কুমার সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসিনা বেগম দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন। অনেক টাকার প্রয়োজন। ওদের দুই শতক জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করব সহায়তা করার। আপনারাও বিষয়টি দেখেন।’

সহায় সম্বলহীন হাসিনা বেগমের পাশে দাঁড়াতে পারেন আপনিও। প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন- ০১৯৯৯৫৫২৩০০ (সাগরিকা) বিকাশ নম্বরে।

কুমিল্লা

আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে আটক আ. লীগ নেতা খোকন

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে আটক আ. লীগ নেতা খোকন
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শহীদ রুবেল হত্যা মামলায় আসামি আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিজানুর রহমান খোকন (৫২) আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে আটক হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) তিনি কুমিল্লা ৪ নম্বর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে গেলে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মো. মিজানুর রহমান খোকন (৫২) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি দেবীদ্বার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রাজ্জাক রুবেল প্রতিপক্ষের হাতে গুলিবিদ্ধ ও পিটার আঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে নিহতের মা হোসনেয়ারা বেগম কুমিল্লার আদালতে এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাশেম কুমিল্লার আদালতে বাদী হয়ে পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

উভয় মামলায় কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ও উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদসহ মোট ১২০ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দেওয়া হয়।

মিজানুর রহমান খোকন গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রাজ্জাক রুবেল হত্যা মামলায় ৭১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন বলে জানা যায়।

দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, বৈষম‍্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রুবেল হত‍্যা মামলার আসামি মো. মিজানুর রহমান খোকন আদালতে আত্মসমর্পণ করার বিষয়ে আমার জানা নেই। আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে হবে।

ঝিনাইদহে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল উন্মাদনায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। সেই জোয়ারে ভাসছে বাংলাদেশের শহর-গ্রাম। ঝিনাইদহেও ফুটবল উন্মাদনায় মেতেছেন ভক্তরা। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা বের করে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব, ঝিনাইদহের উদ্যোগে এ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শহরের বিভিন্ন মহল্লা থেকে ছোট ছোট মিছিল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। হাতে হাতে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা ও রং-বেরঙের বেলুন নিয়ে শোভাযাত্রায় আনন্দে মেতে ওঠেন তারা। 

ঝিনাইদহ ফ্যান ক্লাবের স্টাইকার ভলেন্টিয়ার শাহীনুর রহমান লিটন বলেন, প্রাণের উচ্ছ্বাসে শোভাযাত্রায় সমর্থকরা অংশ নিয়েছে। এটি সবে সমর্থকের কৃতিত্ব। আশা করছি, এবারও আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হবে। সেই সঙ্গে আশা করি, বাংলাদেশও বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নেবে। তবে, যে দলই চ্যাম্পিয়ন হোক, ফুটবল জিতে যাক।

শোভাযাত্রায় নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী আর্জেন্টিনা সমর্থকরা অংশ নেন। এর আগে শহীদ মিনার চত্বরে আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের উপদেষ্টা সদস্য ও ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, এম রায়হান, আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের স্ট্রাইকার ভলেন্টিয়ার শাহীনুর রহমান লিটন, ডিফেন্ডার ভলেন্টিয়ার আহসান জিকু, কিপার ভলেন্টিয়ার শাহজাহান নবীন, মিডফিল্ড ভলেন্টিয়ার সামিউল পারভেজ সামি, ডিফেন্ডার ভলেন্টিয়ার সুলতান আল এনাম সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনা দেন। 

এ সময় আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব ঝিনাইদহের ডিফেন্ডার ভলেন্টিয়ার জহিরুল ইসলাম, ইনজামামুল হক, শিমুল হোসেন, সাকিব হোসেন, ইমরান, সোহাগ, নাহিদ, নয়ন, শাকিল, শাওন, তরিকুল ইসলাম, শফিক হোসেন, জাহিদুজ্জামান, শোয়েব আহমেদ, হোসাইন পার্সি, জিসান, রিজভী, হোসাইন রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ক্রীড়া কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ক্রীড়া কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন
ছবি: কালের কণ্ঠ

দুর্নীতি, অনিয়ম ও খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমানের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার নারী খেলোয়াড়রা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নারী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কয়েকজন পুরুষ খেলোয়াড়ও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

মানববন্ধনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ক্রীড়া সংগঠক ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তির বাবা খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স। এ ছাড়া বক্তব্য দেন খেলোয়াড় উম্মে ফাতেমা উর্মি, সোহেলী আক্তার শামীমা, সালমা খাতুন, নদী বিশ্বাস ও মেহেদী রাজুসহ আরো অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম, জার্সি ও অনুদান সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় না। প্রকৃত খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে অফিস স্টাফ বা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিদের নামে অনুদান দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

নারী খেলোয়াড়রা জানান, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে অনুশীলন করলেও তারা জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, আমরা কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় পর্যায়ে সাতক্ষীরার সুনাম বয়ে এনেছি। অথচ আমাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ এবং একজন সৎ, দক্ষ ও খেলোয়াড়বান্ধব কর্মকর্তার নিয়োগ চাই।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা জেলা থেকে জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তির জন্য ১১৪ জন আবেদন করেছিলেন। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৮ জনের তালিকা জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনে পাঠানো হয়। পরে জাতীয় কমিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে ৪৩ জনকে ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছে।

মাহাবুবুর রহমান আরো বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, ভাতা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই কিছু খেলোয়াড় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। তবে এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু করার ছিল না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় কমিটিই নিয়েছে।