বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই ফরিদপুরের পদ্মা নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। গত কয়েকদিনে ভাঙনের কবলে পড়ে কয়েক শ একর ফসলি জমি, কয়েকটি বসতভিটা চলে গেছে নদীগর্ভে। ফসলসহ জমি হারিয়ে দিশেহারা চরাঞ্চলের মানুষ। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পদ্মা-তীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ। বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন নদীতীরের বসতিরা।
স্থানীয়রা জানান, ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মার তীরবর্তী ইউনিয়ন নর্থচ্যানেল মানুষ প্রতি বছরই নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেহারা হয় হাজারো মানুষ। ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয় নদীতে। প্রায় ২০ বছর ধরে এ চিত্র নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের। এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই ইউনিয়নটির দুটি গ্রামে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী ও শুকুর আলী মৃধা ডাঙ্গীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। কয়েকদিনে ভাঙনের কবলে পড়ে কয়েক শ একর ফসলি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
শুকুর আলী মৃধার ডাঙ্গীর বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিম, মাসুম খাঁ বলেন, ‘এবার নদীভাঙন ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই ভাঙনের শিকার হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।’ গ্রামের বাসিন্দা জমিলা বেগম, শেখ মোহাম্মদ ও খায়রুল ইসলামের অভিযোগ, পদ্মা নদী থেকে অবাধে বালু তোলার কারণেই ভাঙন শুরু হয়েছে। বালুখেকোদের কিছুই বলা যায় না। তারা বেশ প্রভাবশালী, সবাইকে ম্যানেজ করে তারা বালু তোলে। পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর পানি কমলেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করবে।’
ইউসুফ মাতুব্বর ডাঙ্গীর বাসিন্দা মো. হাসেম, শিল্পী আক্তার বলেন, ‘পদ্মায় কয়েকবার বাড়ি ভেঙেছে। এবারও ভাঙনের মুখে পড়েছি। বাড়িঘর নদীতে চলে গেলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব জানি না।’ বর্তমানে নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে কয়েক শ বসতবাড়ি, হাজারো একর ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ, ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এ ইউনিয়নের আরো ১০টি গ্রাম রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে। বিগত দিনে ভাঙনের শুরুতে কিছু বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।
নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘নদীভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি ভাঙনরোধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম এলেই এ ইউনিয়নে নদীভাঙন শুরু হয়। গত বছর ভাঙনকবলিত স্থানে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা হয়েছিল। এবার যেসব স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, ‘নদীভাঙন এলাকায় সরেজমিন দেখা হয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তা ছাড়া জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি, ভাঙনরোধে দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন




