• ই-পেপার

মাধবপুরে ইজারা ছাড়াই অবাধে বিক্রি হচ্ছে সিলিকা বালু

  • ধ্বংসের মুখে দুটি রাবার ড্যাম

ছেলে ছাত্রলীগ, ‘ত্যাজ্য’ করলেন বাবা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
ছেলে ছাত্রলীগ, ‘ত্যাজ্য’  করলেন বাবা
সংগৃহীত ছবি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা দিয়েছেন বাবা আব্দুল ওহাব শেখ। সোমবার (২২ জুন) রাতে উপজেলার গওহরডাঙ্গা চৌরঙ্গি এলাকার ফার্নিচারের দোকানে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।

আব্দুল ওহাব শেখ (৬৫) উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তার ছেলে সজীব শেখের কোনো পদ-পদবী না থাকলেও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন ওহাব শেখ। 

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল ওহাব শেখ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করি। আমার বড় ছেলে টুঙ্গিপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। কিন্তু আমার ছোট ছেলে সজীব শেখ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। কিন্তু তার কোনো পদ-পদবী নেই।

ওহাব শেখ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জানতে পারি সজীব ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাকে অনেক বোঝানো হলেও কিছুতেই বুঝতে চায় না সে। তাই তাকে ত্যাজ্য করলাম। 

তিনি আরো বলেন, এখন থেকে সজীবের কোনো কার্যক্রমে আমাদের কোনো দায় থাকবে না, তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিজের। 

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসি সারোয়ার লিখলেন

‘বিদায় সিলেট, আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।’

নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
‘বিদায় সিলেট, আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।’
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের মানুষকে বিদায় জানিয়েছেন সদ্যবিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি সিলেটকে বিদায় জানান। জানা গেছে, একটি ফ্লাইটে মঙ্গলবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের ফ্লাইটে সিলেট ছেড়ছেন সারওয়ার আলম। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেটের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার সৈয়দ বেলায়েত হোসেন লিমন বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদায়ী ডিসি সারওয়ার আলম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।’

এদিকে, নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সিলেট কালেক্টরেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার রাত থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন শুরু করেন।  

মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের দীর্ঘদিনের চেনা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। তার এই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে যেমন প্রশংসা ও নানামুখী আলোচনার ঝড় ওঠে, তেমনি তৈরি হয় বিতর্কও। এরই মধ্যে রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

তার উদ্যোগে সোমবার দুপুরে খোলা হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের দান বাক্সে  মাত্র ৪ দিনে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া গেছে।

টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ৪

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ৪
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী একটি পালকি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচের খাদে পড়ে গেছে। এ দুর্ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় কেয়ারী ঘাটসংলগ্ন ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আহতদের মধ্যে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের দুজন এবং টেকনাফের দমদমিয়া এলাকার দুজন বাসিন্দা রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ও উদ্ধারকারী দল তাদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার জামিম মিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালান। ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। আমরা দ্রুত উদ্ধার করে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘মিনিবাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। ওই সময় বাসটিতে প্রায় ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানালা ভেঙে যাত্রীদের বের করে আনেন। বাসটি চালাচ্ছিলেন হেলপার। এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছি।’

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাজীপুর

বকেয়া পরিশোধ ও কারখানা খোলার দাবি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
বকেয়া পরিশোধ ও কারখানা খোলার দাবি
ফাইল ছবি

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড নামের পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৯টায় কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে কারখানা এলাকায় জড়ো হন কয়েক শ শ্রমিক।

শ্রমিকরা জানান, গত ১৬ জুলাই থেকে ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেডের কারখানা বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের সব পাওনা একযোগে পরিশোধ করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে শ্রমিকদের দাবি, পাওনা পরিশোধ করে কারখানাটি খুলে দেওয়া হোক। দাবির স্বপক্ষে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) কারখানা এলাকায় জড়ো হন কয়েক শ শ্রমিক। 

বিল্লাল হোসেন নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এই কারখানায় চাকরি করতাম। দুই কারখানায় প্রায় এক হাজার ৮০০ শ্রমিক কাজ করত। হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা পথে বসে গেছি।’ তিনি বলেন, ‘ছেলেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছি। এখন তার পড়াশোনা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। স্ত্রী অসুস্থ। সামনে কী করব বুঝতে পারছি না।’ 

পাওনা পরিশোধ প্রসঙ্গে বিল্লাল বলেন, ‘শুনেছি ২৭ জুলাই পাওনা পরিশোধ করা হবে। তবে আদৌ পাব কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা হয়। গত রবিবার (২১ জুন) সকালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইনের সভাপতিত্বে বৈঠকে  শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ আহমেদ। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।  

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের সব পাওনা একযোগে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম বলেন, ‘ঈদের আগে বেতন-ভাতা ও বোনাস নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, তা ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছিল। এর পরও মালিকপক্ষ কারখানা চালু না করে স্থায়ীভাবে বন্ধের পথ বেছে নিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের শত শত শ্রমিক একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে। 

শফিউল আলম বলেন, ‘২১ জুনের চুক্তিটি শ্রমিকবান্ধব নয়। শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে শত শত শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

এ ব্যাপারে গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, আর্থিক সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে জানানো হয়, কারখানা বন্ধের ফলে শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধের বিষয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’