• ই-পেপার

বরিশালে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল

জয়পুরহাটে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল যুবকের

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল যুবকের
সংগৃহীত ছবি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মো. রাশেদুল ইসলাম জনি (৪২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় জয়পুরহাট-হিলি সড়কের পাঁচবিবি পৌরশহরের লাঙ্গল হাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের নওদা ফেনতারা গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাশেদুল সকালবেলা বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে পাঁচবিবি বাস স্ট্যান্ডে তার ভাগিনাকে নিতে আসেন। সেখান থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় রাস্তার কাদায় মোটরসাইকেল নিয়ে পড়ে যান। এ সময় বিপরীত দিক হিলি থেকে আসা মালবোঝাই ট্রাকের পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করেছে।

পাঁচবিবি থানার ওসি আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের ১৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রাঙামাটি সংবাদদাতা
রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের ১৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রাঙামাটি শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের ১৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন–রাঙামাটি জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. কবির (৫২), নুরুল হক (৫২), চম্পক দাশ (৫৪), মো. নিজাম উদ্দীন (৪২), মো. ইলিয়াছ (৩৫), মো. ইসমাইল (৫৯), মো. জসিম (৩৮), মো. নয়ন (১৯), মো. তারিকুল ইসলাম (৪৫), মো. রাসেল (৩৮), শাহাদত হোসেন (৩২), রাম প্রসাদ শীল (৪৫), জাহিদুল ইসলাম (২৪), মো. সাইফুল ইসলাম (২৫), দুর্জয় কান্তি দে (২৬) ও হাফিজুর রহমান (২৯)।

পুলিশ জানায়, বিভিন্ন মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের এই বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। 

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লা‌বিত হওয়ার শঙ্কা

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লা‌বিত হওয়ার শঙ্কা

উজানের ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও শুরু হয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরো বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পাউবোর তথ্যমতে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং ব্রহ্মপুত্র নদ নুনখাওয়া পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার এক দশমিক ৬৬ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৯টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।

পানি বাড়তে শুরু করায় তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চর জুয়ান সতরা এলাকার কৃষক আবদুস ছালাম বলেন, পানি বাড়ার কারণে চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে মরিচ ও পটলক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম এলাকার কৃষক ছাবেদ আলী বলেন, বাদামক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে বাদাম তুলে নিয়েছি। তবে পাটক্ষেতসহ অন্যান্য সবজিক্ষেতে ইতিমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন মানুষ।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনো সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ধুনট

ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনার ভাঙন

কাজে আসছে না টিউব-জিও ব্যাগ টেকসই সমাধান দাবি স্থানীয়দের

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)
ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনার ভাঙন
বগুড়ার ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ি এলাকার যমুনা নদীর ঘাটে। মঙ্গলবার সকালে তোলা। -কালের কণ্ঠ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করলেও আজে আসছে না তা। 

এদিকে, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এতে নদীপারের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।  

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোরে উপজেলার শহড়াবাড়ি যমুনা নদীর ঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলার স্থানে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৫৫ মিটার অংশ জিও ব্যাগ ও টিউবসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে প্রায় ১৫০ মিটার অংশ ভাঙনের শিকার হয়েছে। ভাঙন ঠোকাতে গত তিন দিন ধরে ওই স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলা অব্যাহত রয়েছে। নদীপারের মানুষের দাবি এখন ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান।

সূত্র জানায়, উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি গ্রামে গত বছরের অক্টোবরে যমুনা নদীর আকস্মিক ভাঙনে সমতল ভূমিসহ ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ওই সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে যমুনা নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় পানির প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়। এ কারণে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। পরে ভাঙনকবলিত তীর ধরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়।

সম্প্রতি যমুনা নদীতে আবারো পানি বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার (১৯ জুন)  থেকে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়ে ঢেউ নদীপারে আছড়ে পড়ছে। এতে জিও ব্যাগ ফেলে তীর সংরক্ষণ করা এলাকায়ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নদী ভাঙনের খবর পাওয়ার পর পরই স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলার কাজ পরিচালনা করছে। 

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ‘ভাঙন শুরু হওয়ার পরই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বালুভর্তি বিশেষ টিউব ভাঙন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ কারণে নদী ভাঙনে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।’