ফুটবল তারকা নেইমারের দেশ ব্রাজিলকে আমরা সবাই চিনি তাদের সাম্বা নাচ, সঙ্গীত আর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার জন্য। কিন্তু ফুটবল মাঠের বাইরেও ব্রাজিলের আরেকটি জিনিস বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয়, আর তা হলো তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘ফেইজোয়াদা ব্রাসিলেইরা’। মাংস ও শিমের মিশ্রণে তৈরি এই স্টু বা ঘন ঝোলকে বলা হয় ব্রাজিলের জাতীয় খাবার। দেশটির মানুষের কাছে এটি কেবল একটি খাবার নয়, বরং এক টুকরো ‘আত্মার খোরাক’।
‘ফেইজোয়াদা’ আসলে কী?
পর্তুগিজ শব্দ ‘ফেইজাও’ (যার অর্থ শিম) থেকে এই খাবারের নাম হয়েছে ফেইজোয়াদা। এটি মূলত বিভিন্ন ধরনের শিম এবং গরু বা শূকরের মাংস একসাথে অনেক সময় ধরে অল্প আঁচে মাটির পাত্রে রান্না করা একটি বিশেষ স্টু। ব্রাজিলের একেক অঞ্চলে এটি একেকভাবে রান্না করা হয়। যেমন রিও ডি জেনেইরোতে কালো শিম দিয়ে এটি তৈরি করা হলেও, বাহিয়া অঞ্চলে লাল বা বাদামী শিম বেশি জনপ্রিয়। ঐতিহ্যবাহী রান্নায় মাংসের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করা হলেও, আধুনিক রেস্টুরেন্টগুলোতে এখন স্মোকড সসেজ, বেকন বা গরুর মাংস দিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়।
ফেইজোয়াদার ইতিহাস নিয়ে চমৎকার কিছু তথ্য রয়েছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, ব্রাজিলের দাসপ্রথার সময় এই খাবারের জন্ম। সে যুগে দাসেরা তাদের মালিকদের ফেলে দেওয়া মাংসের টুকরো আর শিম দিয়ে এই স্টু তৈরি করত। তবে আধুনিক গবেষকদের মতে, এটি মূলত ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে এসেছে। কম খরচে ও কম পরিশ্রমে অনেক মানুষের খাবার একসঙ্গে তৈরি করার সহজ উপায় হিসেবে তারা এই মাংস-শিমের স্টু রান্না শুরু করেছিল।
ব্রাজিলিয়ানরা সাধারণত সাদা ভাত, বেকন ও কুচানো সবজির সাথে ফেইজোয়াদা উপভোগ করেন। সাথে থাকে কমলার ফালি, যা এই ভারী খাবারটি সহজে হজম করতে সাহায্য করে। খাবার শেষে ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় ‘কাইপিরিনহা’ (আখের রস থেকে তৈরি বিশেষ পানীয়) দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন তারা।
ব্রাজিলে ফেইজোয়াদা খাওয়ার অর্থ হলো—সবাই মিলে আনন্দ করা। সাধারণত সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে দিতে অলস দুপুরে এই ভারী খাবারটি খাওয়া হয়। আপনি যদি কখনো ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে যান, তবে সেখানকার ‘কাসা দা ফেইজোয়াদা’ বা ‘বার মিনেরো’র মতো বিখ্যাত জায়গাগুলো থেকে এই আসল ফেইজোয়াদার স্বাদ নিতে ভুলবেন না যেন!






