• ই-পেপার

মরিশাসে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধের দাম কমবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধের দাম কমবে

আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধীসেবা, ক্যান্সার, অটিজম, ডায়াবেটিস, থ্যালাসেমিয়া ও সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত ১১টি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে সুবিধা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এ ঘোষণা দেবেন।

কিডনি ডায়ালিসিস ফিল্টার আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার হতে পারে। এতে কিডনি রোগীদের প্রতিটি ডায়ালিসিসে খরচ সাশ্রয় হবে প্রায় ৬০০ টাকা। ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৬৮টি কাঁচামাল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব আসতে পারে। ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে দেওয়া হতে পারে কর রেয়াত সুবিধা। এ ছাড়া হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর থাকা ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে। শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করের হার ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে।

এ ছাড়া এক হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত হাইব্রিড গাড়ি ও খেজুর আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার, বালাইনাশক উৎপাদনের ৩৬টি কাঁচামালে ভ্যাট প্রত্যাহার, লোশন-ফেস ক্রিম ও ফেস ওয়াশে শুল্ক-কর কমানো, পোলট্রি-ডেইরি ও মৎস্য খাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার, সিনথেটিক ওভেন ফ্যাব্রিকস আমদানিতে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, ফ্লোট গ্লাস উৎপাদনের পাঁচটি কাঁচামাল আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক হ্রাস, সার-কীটনাশকে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার, প্যাকেজিং পণ্য সরবরাহের ওপর উৎসে করে কমিয়ে ৩ শতাংশ, পরিবহন-ক্যারিং-গাড়ি ভাড়া সেবা খাতে উৎসে কর কমিয়ে ২ ও রিসাইকলড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালের করহার কমে ১ শতাংশ হতে পারে।

কর্মসংস্থান বাড়াতে ফ্রিল্যান্সার-উদ্যোক্তাদের করমুক্তির সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
কর্মসংস্থান বাড়াতে ফ্রিল্যান্সার-উদ্যোক্তাদের করমুক্তির সুখবর

দেশে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে একগুচ্ছ কর ও শুল্ক সুবিধার প্রস্তাব এনেছে সরকার। বিশেষ করে তরুণ, নারী, প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপদের জন্য ব্যাপক করছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব করবেন। বাজেটে সরকারের লক্ষ্য মধ্য মেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এ জন্য একটি ন্যায্য, প্রযুক্তিনির্ভর ও ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কর্মসংস্থানকে বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সরকার আইটি খাতের বাইরে সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয়কে করমুক্ত করার প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়ও করমুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ লাখ টাকা এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত রাখার প্রস্তাবও এসেছে।

‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বিকাশে শুল্ক ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বিকাশে শুল্ক ছাড়

দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানের ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে উচ্চমানের কনটেন্ট ও চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তরুণদের নাগালের মধ্যে আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিজিটাল মিডিয়ায় ব্যবহৃত সংগীতের মানোন্নয়ন এবং সৃজনশীল সংগীতচর্চা উৎসাহিত করতে গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন মিউজিক্যাল ইন্সট্র–মেন্ট এবং এসব যন্ত্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর বর্তমানে আরোপিত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া চলচ্চিত্র ও ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার কারিগরি মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে উচ্চ প্রযুক্তির সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তরুণ নির্মাতা, সংগীতশিল্পী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। ফলে দেশের সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ক্রিয়েটিভ খাতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে।

কনজিউমার ইলেকট্রনিকস উৎপাদনে শুল্ক-কর রেয়াতের মেয়াদ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
কনজিউমার ইলেকট্রনিকস উৎপাদনে শুল্ক-কর রেয়াতের মেয়াদ বাড়ছে

দেশে কনজিউমার ইলেকট্রনিকস শিল্পের বিকাশ, সাধারণ ভোক্তাদের জন্য পণ্যকে সাশ্রয়ী রাখা এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের জন্য বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ আরো পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আজ বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করবেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ারকন্ডিশনার (এসি), ওয়াশিং মেশিন, এটিএম ও সিসিটিভি ক্যামেরার মতো আমদানিনির্ভর প্রযুক্তিপণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে বর্তমানে যে শুল্ক ও কর রেয়াত সুবিধা রয়েছে, তা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই সুবিধা অব্যাহত থাকলে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। ফলে ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে এসব পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের ইলেকট্রনিকস খাতকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।