• ই-পেপার

সকাল ৯টার মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

নিষেধাজ্ঞার ২৪ বছর পরও ৯৮ শতাংশ দোকানিতে চলছে পলিথিনের ব্যবহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিষেধাজ্ঞার ২৪ বছর পরও ৯৮ শতাংশ দোকানিতে চলছে পলিথিনের ব্যবহার
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০০২ সালে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ। তবে নিষেধাজ্ঞার ২৪ বছর পরও দেশের অধিকাংশ খুচরা দোকানে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। মাত্র ২ শতাংশ দোকানি পলিথিনের বিকল্প পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহার করেন। বাকি ৯৮ শতাংশ দোকানি এখনো ক্রেতাদের পলিথিন ব্যাগ দিচ্ছেন।

পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বিয়ন্ড দ্য ব্যান: আনপ্যাকিং পলিথিন ডিপেন্ডেন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানেই এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি বিক্রেতা প্রতিদিন ৫০টিরও বেশি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করেন। অথচ ৬৩ শতাংশের বেশি বিক্রেতা জানেন, পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ।

দেশের শহর, উপশহর ও গ্রামীণ এলাকার দুই হাজারের বেশি ভোক্তা ও বিক্রেতার ওপর পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, কম দাম, সহজলভ্যতা, ব্যবহারিক সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে পলিথিনের ব্যবহার কমছে না। এ ছাড়া আইন প্রয়োগের দুর্বলতা, আইনি ফাঁকফোকর, সাশ্রয়ী বিকল্পের অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাও এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উচ্চশিক্ষাও পরিবেশবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে পারেনি। শহরের শিক্ষিত ভোক্তাদের মধ্যেও পলিথিন ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। এমনকি পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারকারীদের অনেকেই পুরোপুরি পলিথিন বর্জন করতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সচিব সৈয়দ মারগুব মোরশেদ ও এসডোর চেয়ারম্যান বলেন, ‘পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ একসময় বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিল। এখন চ্যালেঞ্জ হলো এ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এজন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ।’

এসডোর সাধারণ সম্পাদক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘পলিথিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এখনো দুর্বল।’ তিনি বলেন, ‘আইন বাস্তবায়নের দুর্বলতার জন্য সরকার যেমন দায়ী, তেমনি উৎপাদক, বিক্রেতা ও ভোক্তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদা তামান্না খান বলেন, ‘পলিথিন উৎপাদনকারী সিন্ডিকেট অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আরও কঠোর প্রয়োগনীতি প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘জনবলসংকটের কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অনেক সময় অভিযান পরিচালনায়ও বেগ পেতে হয়।’

গবেষণায় পরিবেশগত শিক্ষা জোরদার, আইন সংস্কার, কঠোর নজরদারি, সাশ্রয়ী বিকল্পের সহজলভ্যতা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, পলিথিন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, দেশের পরিবেশগত সুশাসনের দুর্বলতাও সামনে নিয়ে আসছে।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠনের আশাবাদ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠনের আশাবাদ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে পৃথক একটি অধিদপ্তর গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনগণ শুধু ভোটার হিসেবেই নয়, নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। এ জন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংসদের উচ্চ কক্ষেও তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্বল্প সুদে ঋণপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে পৃথক একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

সভায় বিজন কান্তি সরকার বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীদের নার্সিং পেশায় আরো বেশি করে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাদের কল্যাণ ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায়ও সমানভাবে কাজ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায়ও সমানভাবে কাজ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে বর্তমান সরকার। তাই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায়ও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করা হবে। একই সঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।

সংসদে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন ও কর্মপরিধি নিয়ে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট আসন থাকলেও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধান বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। তবে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে তাদের কাজের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।’

এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নারী সংসদ সদস্য—উভয়েরই কাজ করার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘উন্নয়নের বিষয়ে সরকারি নিয়মানুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকলে জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সুষম উন্নয়ন এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

স্পিকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সংসদ কিভাবে চলবে সে বিষয়ে কমিটির একটি বৈঠক ছিল। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে ঈদের আগে সরকারের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু সহযোগিতা হয়তো বিরোধীদলীয় অনেক সংসদ সদস্য পাননি। আমি ওই বৈঠক থেকে বেরিয়েই এলজিইডিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, বিরোধীদলীয় কোনো সংসদ সদস্য যদি না পেয়ে থাকেন, তবে যেন দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বিরোধীদলীয় সদস্য যারা আছেন, তাদের এলাকায়ও। আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’

সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার হয়, সেগুলো বন্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না—সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান এমনটি জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। সবেমাত্র শুরু হলো, লেট আস ওয়েট অ্যান্ড সি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। কাজেই যদি গঠনমূলক কোনো সমালোচনা থাকে, অবশ্যই সেটি আমরা গ্রহণ করব এবং সেভাবে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার প্রশংসা করলেন সৌদির মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার প্রশংসা করলেন সৌদির মন্ত্রী

২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও সুশৃঙ্খলতার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহ।

বুধবার (১০ জুন) সৌদি আরবের রিয়াদে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সৌদির মন্ত্রী এই প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে তিনি আগামীতে সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশের সহায়তাও কামনা করেন।

এ সময় সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রী বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রীকে আন্তরিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার  জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি ধর্মমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

বৈঠকে ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সৌদি সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহ।

অপরদিকে, ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ সামগ্রিক হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্য সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভিড় ব্যবস্থাপনা, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, মাশায়েরে হাজী সেবার মাধ্যমে হজ পালনের সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। আল্লাহর মেহমানদের সেবায় হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশ সৌদি সরকারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন ধর্মমন্ত্রী।

বৈঠকে সৌদিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) কামরুল ইসলামসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।