বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০০২ সালে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ। তবে নিষেধাজ্ঞার ২৪ বছর পরও দেশের অধিকাংশ খুচরা দোকানে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। মাত্র ২ শতাংশ দোকানি পলিথিনের বিকল্প পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহার করেন। বাকি ৯৮ শতাংশ দোকানি এখনো ক্রেতাদের পলিথিন ব্যাগ দিচ্ছেন।
পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বিয়ন্ড দ্য ব্যান: আনপ্যাকিং পলিথিন ডিপেন্ডেন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানেই এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি বিক্রেতা প্রতিদিন ৫০টিরও বেশি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করেন। অথচ ৬৩ শতাংশের বেশি বিক্রেতা জানেন, পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ।
দেশের শহর, উপশহর ও গ্রামীণ এলাকার দুই হাজারের বেশি ভোক্তা ও বিক্রেতার ওপর পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, কম দাম, সহজলভ্যতা, ব্যবহারিক সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে পলিথিনের ব্যবহার কমছে না। এ ছাড়া আইন প্রয়োগের দুর্বলতা, আইনি ফাঁকফোকর, সাশ্রয়ী বিকল্পের অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাও এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উচ্চশিক্ষাও পরিবেশবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে পারেনি। শহরের শিক্ষিত ভোক্তাদের মধ্যেও পলিথিন ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। এমনকি পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারকারীদের অনেকেই পুরোপুরি পলিথিন বর্জন করতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সচিব সৈয়দ মারগুব মোরশেদ ও এসডোর চেয়ারম্যান বলেন, ‘পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ একসময় বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিল। এখন চ্যালেঞ্জ হলো এ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এজন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ।’
এসডোর সাধারণ সম্পাদক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘পলিথিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এখনো দুর্বল।’ তিনি বলেন, ‘আইন বাস্তবায়নের দুর্বলতার জন্য সরকার যেমন দায়ী, তেমনি উৎপাদক, বিক্রেতা ও ভোক্তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদা তামান্না খান বলেন, ‘পলিথিন উৎপাদনকারী সিন্ডিকেট অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আরও কঠোর প্রয়োগনীতি প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘জনবলসংকটের কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অনেক সময় অভিযান পরিচালনায়ও বেগ পেতে হয়।’
গবেষণায় পরিবেশগত শিক্ষা জোরদার, আইন সংস্কার, কঠোর নজরদারি, সাশ্রয়ী বিকল্পের সহজলভ্যতা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, পলিথিন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, দেশের পরিবেশগত সুশাসনের দুর্বলতাও সামনে নিয়ে আসছে।




