• ই-পেপার

বাতিল হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের ‘বিশেষ সুবিধা’!

দুপুর পর্যন্ত ১০ অঞ্চলের জন্য আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
দুপুর পর্যন্ত ১০ অঞ্চলের জন্য আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা

দেশের কয়েকটি অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 

এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ০১ নম্বর (পুনঃ) ০১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় কর বাড়ার শঙ্কা চাকরিজীবীদের

মাসিক ১ লাখ টাকা আয়কারীদের সবচেয়ে বেশি কর দিতে হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক
নতুন কাঠামোয় কর বাড়ার শঙ্কা চাকরিজীবীদের

করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও আগামী অর্থবছরে চাকরিজীবী ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের বড় অংশকে আগের তুলনায় বেশি কর দিতে হতে পারে। অর্থবিলে-২০২৬ প্রস্তাবিত করস্ল্যাব পুনর্বিন্যাস, বিনিয়োগে কর-রেয়াত কমানো এবং করসুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপের কারণে করমুক্ত সীমা বৃদ্ধির সুফল অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন কর বিশেষজ্ঞরা।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে ৫ শতাংশের প্রাথমিক করস্ল্যাব বাতিলের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

বর্তমান ব্যবস্থায় করমুক্ত সীমার পর প্রথম ১ লাখ টাকা আয়ের ওপর ৫ শতাংশ কর দিতে হয়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী করমুক্ত সীমার অতিরিক্ত প্রথম ৩ লাখ টাকা আয়ের ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীদের করদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। কর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাসিক ৭৪ হাজার টাকা আয় করা একজন করদাতার করদায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। করস্ল্যাবের পরিবর্তন এবং বিনিয়োগজনিত কর-রেয়াত কমানোর কারণে এই অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।

বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, মাসিক এক লাখ টাকা পর্যন্ত আয়কারীরা নতুন কাঠামোর সবচেয়ে বেশি প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। বিপরীতে মাসে আড়াই লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের করদায়ও বাড়বে, তবে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম, প্রায় ১০ শতাংশ।

বর্তমানে অনুমোদিত সঞ্চয় ও আর্থিক খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে করদাতারা বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কর-রেয়াত পান। অর্থবিলে তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ কর-রেয়াতের সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যারা সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস বা অন্যান্য অনুমোদিত বিনিয়োগের মাধ্যমে করদায় কমিয়ে থাকেন, তাদের সুবিধা কমে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কর দেওয়া চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো কার্যকর হলে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের কার্যকর করহার বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিজীবীদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়বে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, করসুবিধা পাওয়া কোনো বিনিয়োগ মেয়াদপূর্তির আগে তুলে নিলে আগে নেওয়া কর-রেয়াত অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্র বা এ ধরনের কোনো বিনিয়োগ নির্ধারিত মেয়াদের আগে ভাঙানো হলে করদাতাকে আগে পাওয়া কর-সুবিধা ফেরত দিতে হবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধির ফলে সীমিতসংখ্যক করদাতা উপকৃত হলেও অধিকাংশ করদাতার করদায় বাড়বে। বিশেষ করে মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীরা তুলনামূলক বেশি চাপের মুখে পড়বেন। তার মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতেই মধ্যবিত্তের প্রকৃত আয় কমে গেছে। নতুন করব্যবস্থা কার্যকর হলে তাদের ব্যয়যোগ্য আয় আরও কমে যাবে, যা ভোগব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে করদাতাদের জন্য একটি নতুন সুবিধাও প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো নির্ধারিত সময়ের আগেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে কর-রেয়াত দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর-রেয়াত পাওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর প্রশাসনে শৃঙ্খলা আনা এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর ঘোষণার পরও চাকরিজীবী ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের বড় অংশকে আগামী করবর্ষে বেশি কর দিতে হতে পারে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সচল হচ্ছে অচল আট বিমানবন্দর

আন্তর্জাতিক মানের হবে বগুড়া বিমানবন্দর বাণিজ্য বাড়ানোয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে ঠাকুরগাঁও

অনলাইন ডেস্ক
সচল হচ্ছে অচল আট বিমানবন্দর

বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকা দেশের আটটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর পুনরায় চালুর মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি বিমানবন্দরের অবকাঠামো, যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জনগণের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বন্ধ বিমানবন্দরগুলো সচল করা হচ্ছে। স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশের সাত থেকে আটটি বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। দেশের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় বগুড়াকে কেন্দ্র করে একটি এভিয়েশন হাব বা আন্তর্জাতিক মানের কার্গো পরিবহনের কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায় অনুমোদন পেয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণ করা হবে, যাতে বোয়িং ৭৩৭-৮০০-সহ বড় আকারের যাত্রী ও কার্গো উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারে। এ ছাড়া আধুনিক টার্মিনাল ভবন, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও কার্গো কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের নকশা ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পটিতে কয়েক শ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে এবং প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

এদিকে উত্তরাঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরও নতুন প্রাণ পেতে যাচ্ছে। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বেবিচকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি আধুনিকায়নে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং নতুন টার্মিনাল ও নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের উচ্চপর্যায়ের একটি দল বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করেছে।

বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ের পাশাপাশি লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর (মৌলভীবাজার), খানজাহান আলী (বাগেরহাট) এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু বিমানবন্দরের নিজস্ব আয়-ব্যয় দিয়ে এর লাভক্ষতি বিচার করা ঠিক হবে না। একটি বিমানবন্দরকে ঘিরে হোটেল, পরিবহন, ব্যবসা ও পর্যটনসহ নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। যেমন শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু হলে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্প চাঙা হবে। আবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ঈশ্বরদীতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যাতায়াত বাড়ছে, ফলে ওই বিমানবন্দরটিরও বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর চালু রয়েছে। বন্ধ বিমানবন্দরগুলো সচল করা গেলে দেশের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে, যার সুফল পাবে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষ।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পর প্রথমবারের মতো সরকারি বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। দুই দিনের সফরে ২১ জুন মালয়েশিয়া যাচ্ছেন তিনি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ এসেছিল ভারত থেকে। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠান। আমন্ত্রণ ছিল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পক্ষ থেকেও। এর পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়েরও আমন্ত্রণপত্র আসে বেইজিং সফরের জন্য। শেষ পর্যন্ত ভারত বা চীন নয়, সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান। কেন মালয়েশিয়াকেই প্রথম সফর হিসেবে বেছে নিলেন, সফরে কোন বিষয় গুরুত্ব পাবে এসব এখন আলোচনায়।

জানা যায়, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও চীনের মধ্যে তীব্র কৌশলগত প্রতিযোগিতা চলছে। নতুন সরকারের প্রথম সফর হিসেবে দিল্লি বা বেইজিংয়ের যেকোনো একটিকে বেছে নিলে অন্য পক্ষের কাছে ভুল বার্তা যাওয়ার ঝুঁকি থাকত। প্রথম সফরে একটি ‘তৃতীয় রাষ্ট্র’ তথা নিরপেক্ষ বন্ধুরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যদিও সফরের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সফরকালে সাধারণ কর্মী নিয়োগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, সামরিক, অর্থনৈতিক অংশীদারি এবং আঞ্চলিক শান্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশে আশ্রয়ে থাকা আসিয়ান সদস্য দেশ মিয়ানমারের নির্যাতিত নাগরিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং বন্ধ থাকা সাধারণ কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বলছেন, আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়ার কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় বিদেশ সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান। কারণ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়; বাণিজ্য, শ্রমবাজার, শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত।

জানা যায়, সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে শ্রমবাজার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, হালাল খাদ্যশিল্প, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। সফরের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ২২ জুন দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে কথা চলছে। তারেক রহমানের এ সফর ঘিরে কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। মালয়েশিয়া সফর শেষ করেই ২৩ জুন তাঁর চীনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ জোড়া সফরকে বিদ্যমান ভূরাজনীতিতে তারেক রহমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি। প্রথম সফরে সেখানে যাওয়ার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব এবং আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার বার্তা বহন করবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের জট খুললে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থান হবে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়িয়ে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে বড় ভূমিকা রাখবে। সামগ্রিকভাবে প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে দেশের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত পরিপক্ব ও কৌশলগতভাবে সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার শুধু শ্রমবাজারেই গুরুত্ব দিচ্ছে না, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে আরও বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্কে নতুন গতি আনতে চায় ঢাকা। এ লক্ষ্যে এবার কুয়ালালামপুরের সঙ্গে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারকে সই হচ্ছে। যার মধ্যে সংস্কৃতি, হালাল শিল্পে সহযোগিতা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে কাঠামোগত আলোচনা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা খাতে সমন্বয় জোরদারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকার উচ্চপর্যায়ের এক কূটনৈতিক সূত্র। প্রাপ্ত তথ্যমতে এ সফরে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না। তবে পুরোনো চুক্তিগুলো নিয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে কথা হতে পারে। তারেক রহমানের এ সফর বেশ বিস্তৃত। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হবে। এ ছাড়া সফরকালে কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করারও কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সফরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হবে। যার মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, উপদেষ্টা মাহদী আমিন থাকবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন মন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে পারেন। ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষে সেখান থেকে চীন সফরে যাবেন তারেক রহমান।

সূত্রের তথ্যমতে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের আগে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ২৩ থেকে ২৬ জুন। সফরটি ঘিরেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। চীন সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বেইজিং গেছেন বলে জানা গেছে। ২১ জুন শুরু হওয়া দুই দেশের সফর শেষে তারেক রহমানের ২৬ জুন ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক  রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সবাই প্রত্যাশা করছেন। এ সফর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন