• ই-পেপার

সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

বজ্রঝড়ে অগ্নিদগ্ধ ইংল্যান্ড, ২৪ ঘণ্টায় ২৯ হাজারের বেশি বজ্রপাত

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য
বজ্রঝড়ে অগ্নিদগ্ধ ইংল্যান্ড, ২৪ ঘণ্টায় ২৯ হাজারের বেশি বজ্রপাত
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যজুড়ে টানা ৩ দিন তীব্র বজ্রঝড় ও অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৯ হাজার ৭৪টি বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৮,৫৪০টি একাই সোমারসেট অঞ্চলে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মেট অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, এই মাত্রার বজ্রপাত একটি শক্তিশালী ও অস্থিতিশীল আবহাওয়া সিস্টেমের ইঙ্গিত, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে।

এই বজ্রঝড়ের কারণে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎবিভ্রাট এবং পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দেয়। সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি ঘটে ব্রিস্টলের এমারসনস গ্রিন এলাকায়, যেখানে গতকাল সোমবার (২২ জুন) আনুমানিক ৫টা ৫৫ মিনিটে বজ্রপাত সরাসরি একটি আবাসিক বাড়ির ছাদে আঘাত হানে। 

অ্যাভন ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের অপারেশন কমান্ড ইউনিট জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা ‘বাড়িটিকে সম্পূর্ণভাবে আগুনে জ্বলতে দেখেন’ এবং একাধিক ইউনিট দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সার্ভিসের একজন মুখপাত্র স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেন, ‘ক্রুদের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন পাশের বাড়িতে ছড়াতে পারেনি এবং সব বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

একই সময় লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড জানায়, রাতভর বজ্রঝড়ের কারণে তারা প্রায় ৪০০টির মতো জরুরি কল পেয়েছে, যার মধ্যে বজ্রপাতজনিত অগ্নিকাণ্ড, পানি জমে যাওয়া এবং ছোট আকারের দুর্ঘটনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের ডেপুটি কমিশনারের দপ্তরের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানায়, ‘আমাদের দলগুলো একসঙ্গে বহু ঘটনাস্থলে কাজ করেছে এবং সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ফায়ার স্টেশনগুলোতে।’

মেট অফিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধরনের বজ্রঝড় সাধারণত উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহের কারণে সৃষ্টি হয়, যা বজ্রপাতের ঘনত্ব হঠাৎ করে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। সংস্থাটির আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ড বিশেষ করে সোমারসেট, ব্রিস্টল ও ডরসেট এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল। তারা আরো সতর্ক করে বলেন, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে এমন পরিস্থিতি আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

দমকল ও জরুরি সেবার প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ‘বজ্রপাতজনিত অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাড়ির ছাদ ও কাঠামো আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি সাময়িকভাবে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ছোট অগ্নিকাণ্ডে প্রতিটি ঘটনায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে, যদিও বড় ঘটনার ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।’

আবহাওয়াবিদ ও জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ উভয়েই সতর্ক করে বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপজুড়ে এমন চরম তাপপ্রবাহ ও বজ্রঝড়ের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে, যা অবকাঠামো ও জননিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।’

জীবনের চাকা ঘোরাতে রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধে প্রাণ হারালেন মৃদুল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
জীবনের চাকা ঘোরাতে রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধে প্রাণ হারালেন মৃদুল
সংগৃহীত ছবি

জীবনের চাকা ঘোরানোর স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়া গিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর মৃদুল খান (২৩)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি নিহত হয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

নিহত মৃদুল খান টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কোকড়হরা ইউনিয়নের পাছচারান গ্রামের সাঈদ খানের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় যান মৃদুল। ইউরোপে যাওয়ার ভিসা না পাওয়ায় হক এজেন্সির মাধ্যমে তিনি রাশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে শুরুতে সাধারণ কাজের আশ্বাস থাকলেও পরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য হন বলে পরিবারের অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, চলমান যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় মাইন বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়। প্রথমে বিষয়টি গোপন থাকলেও পরে রাশিয়ায় অবস্থানরত একই উপজেলার একজন প্রবাসীর মাধ্যমে পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে যায়।

মৃদুলের বাবা সাঈদ খান বলেন, ‘আমার দুই ছেলের মধ্যে মৃদুল বড়। ভালো ভবিষ্যতের আশায় সে রাশিয়ায় গিয়েছিল। এখন শুনছি তার মরদেহ এখনো সেখানে পড়ে আছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। যারা তাকে যুদ্ধে পাঠিয়েছে, তাদের বিচার চাই।’

এদিকে মৃদুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম সিদ্দিক খান বলেন, ‘রাশিয়ায় মৃদুল খানের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা শুনেছি। পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত
সংগৃহীত ছবি

কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। যাদের পাঁচজনই বাংলাদেশের সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। অন্যজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।

নিহত পাঁচ বাংলাদেশি হলেন আগতালুক নিবাসী জসিম উদ্দিন, আমরপুর নিবাসী জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক নিবাসী মস্তাক আহমদম, মাঝতালুক নিবাসী জুবায়ের আহমদ এবং গাছবাড়ী নিবাসী কাদের আহমদ।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তানা। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান বলে জানান আহমেদ মালেক। তাদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

আমেরিকায় ট্রাকচাপায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
আমেরিকায় ট্রাকচাপায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত

আমেরিকার ফ্লোরিডায় ট্রাকচাপায় কবির হোসেন মৃধা (৫৫) নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

নিহত কবির হোসেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ মোড়াকাঠী গ্রামের মৃত মেছের উদ্দিন মৃধার ছোট ছেলে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে নিহতের আত্মীয় হেমায়েত হাওলাদার জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে ডিভি লটারিতে বিজয়ী হয়ে কবির হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে যান।

তিনি আরো জানান, কবির হোসেনের স্ত্রী ও এক ছেলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ফ্লোরিডায় একটি ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় সময় ২০ জুন সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার মরদেহ বাংলাদেশে এনে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।