দৃষ্টিপাত

বিষাদের ঈদ—আনন্দের জায়গায় শোকের ছায়া

আনিসুর বুলবুল

আনিসুর বুলবুল

আনিসুর বুলবুল

আনিসুর বুলবুল

শেয়ার
বিষাদের ঈদ—আনন্দের জায়গায় শোকের ছায়া
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদের সকালে শিশু জুমা যখন তার বাবার কবরের পাশে বসে, তখন চারপাশের উৎসবের আওয়াজ তার কানে পৌঁছায় না। সে শুধু মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা সেই কণ্ঠস্বর খোঁজে, যে তাকে 'সোনামণি' বলে ডাকত। কবরের পাশের ঘাসে হাত বুলিয়ে সে যেন বাবার গালের স্পর্শ খুঁজে বেড়ায়। জুমার মতোই আরও অনেক শিশু, অনেক পরিবারের ঈদ কাটে এমনই এক শূন্যতার মাঝে! তাদের জন্য ঈদের নতুন জামা মানে শোকের কালো কাপড়, মিষ্টির স্বাদ মানে অশ্রুর লবণাক্ততা।

নাসিমা বেগমের ঘরে আজ কোনো রান্নার ঘ্রাণ নেই। গত বছর এই ঈদের আগে তার ছেলে জুবাইদ দোকান বন্ধ করে মিছিলের দিকে ছুটে গিয়েছিল—ফিরে আসেনি। এখন তার দোকানের শেলফে জমে থাকে ধুলা, আর নাসিমার চোখে জমে থাকে সেই শেষ দৃশ্য—একটি সাদা শার্টে লাল হয়ে ফোটা রক্ত। পাশের বাড়িতে কেউ মিষ্টি বিতরণ করছে, কিন্তু নাসিমার হাত এখনো সেই মিষ্টি স্পর্শ করেনি, যে মিষ্টি জুবাইদ একদিন তার জন্য কিনে এনেছিল।

রুবেলের স্ত্রী হ্যাপী আক্তার আজ ঈদের সালামিও পেলেন না। স্বামীর নামে এখন শুধু একটি স্মৃতি, একটি ফটো, আর আদালতের কাগজে লেখা একটি মামলা। তিনি বলেন, ঈদ তো তাদের জন্য, যাদের পরিবার সম্পূর্ণ। আমার তো সবই অর্ধেক।

তার কথায় লুকিয়ে থাকে সেই বেদনা, যা শব্দে ধরা দেয় না, শুধু চোখের কোণে ভেসে ওঠে।

উত্তরার সেই চারতলা বাড়ির বারান্দায় আজ কেউ দাঁড়ায় না। গত বছর এই ঈদের আগে নাঈমা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল—একটি গুলি তাকে চিরতরে সরিয়ে দিয়েছে। তার মা এখন বাড়িটাকে ‘কবরস্থান’ বলেন। ঘরের দেয়ালে ঝোলানো নাঈমার স্কুল ড্রেস, তার আঁকা ছবি, আর খেলার মাঠ থেকে আনা শেষ মুহূর্তের ছবি—এগুলোই এখন ঈদের সাজ।

কুমিল্লার রুবেল, জয়পুরহাটের বিশাল, ময়মনসিংহের জুবাইদ, বরিশালের রাকিব—এদের নাম এখন শুধু সংবাদপত্রের পাতায় নয়, তাদের পরিবারের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে। বিশালের বাবা মজিদুল আজও তার পাওয়ার টিলার মেরামত করেন, কিন্তু হাত কাঁপে। ছেলের পড়াশোনার নোটবুকগুলো আজও তার ব্যাগে থাকে। মা বুলবুলি রান্না করতে গিয়েও থমকে যান—বিশাল যে ডালটা পছন্দ করত, তা আজ আর বাড়িতে রান্না হয় না।

ঈদের চাঁদ উঠেছে ঠিকই, কিন্তু এই পরিবারগুলোর আকাশে চাঁদ যেন অস্তগামী। তারা ঈদের নামাজ পড়ে, নতুন জামা পরে, কিন্তু তাদের চোখে সেই প্রশ্ন—কেন? কেন এই ঈদে তাদের খাবার ভাগ করে নেওয়ার মানুষটি নেই? শহীদদের রক্ত শুকিয়েছে, কিন্তু তাদের পরিবারের অশ্রু আজও ভেজা। এই ঈদে তাদের একটাই প্রার্থনা—যেন কেউ আর এমন বিষাদের ঈদ না কাটায়।

বিস্তারিত পড়ুন কালের কণ্ঠের স্পেশাল সেগমেন্টে— 'বিষাদের ঈদ'

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

তুলসীর পর টাইমসে ভর : বাংলাদেশকে  কলঙ্কিত করার অপচেষ্টায় নতুন হাইপ

মোস্তফা কামাল
মোস্তফা কামাল
শেয়ার
তুলসীর পর টাইমসে ভর : বাংলাদেশকে 
কলঙ্কিত করার অপচেষ্টায় নতুন হাইপ

ঐতিহ্যগতভাবেই বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বর্গভূমি। বিশ্বব্যাপী এর স্বীকৃতি মডারেট মুসলিম দেশ হিসেবে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ নিয়ে এ দেশের সমাজ-সংস্কৃতি। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে তাদের বসবাস।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ ও সৌন্দর্যও। বাংলাদেশের সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা ও অন্যান্য শিল্প মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির বেশ প্রভাব ও ছোঁয়া। এর বিপরীতে দেশটিতে গণ্ডগোল পাকাতেও সময়ে সময়ে ইস্যু করা হয় সাম্প্রদায়িকতাকে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা রাজনৈতিক।

আবার ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলে অঘটন ঘটিয়ে রাজনৈতিক মোড়ক দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। কখনো কখনো বড় রকমের ইস্যু আড়াল করতে সাম্প্রদায়িক গোলমাল বাধানোর কাণ্ডকীর্তি এ অঞ্চলে বেশ কয়বার হয়েছে। সেনা, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতায় সেই অপচেষ্টা মারও খেয়েছে। এর পরও থেমে নেই অপচেষ্টাটি।
সামান্য সুযোগ পেলেই খাবলে ধরার মতো লয়ে পড়ে মহলবিশেষ।
  
কিছুদিন আগে একটি মিশন চালানো হয়েছিল ভারত সফরে আসা মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের ওপর ভর করে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ‘গভীর উদ্বিগ্ন’ বলে তার দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মহলটি বেশ আশাবাদী হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের  অবস্থান বদলে গেছে—এ মর্মে তাদের প্রচারণা তুঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা বুমেরাং হয়ে যায় অল্প ক’দিনেই। ট্রাম্পের সেন্ট্রাল প্রশাসন থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতিতে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।

ওই বাস্তবতায় সেই যাত্রায় ব্যর্থ হয়ে এখন তা হাইপ তোলার অপচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের ঘাড়ে চড়ে। ‘বাংলাদেশ নতুন করে গড়ে উঠছে, ইসলামী কট্টরপন্থীরা সুযোগ খুঁজছে’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে পুঁজি করে আবার একটা নাড়া দেওয়ার আয়োজন যে কারোই বোধগম্য। বিভ্রান্তিকর ও একপক্ষীয়’ মন্তব্যশ্রায়ী তথ্য দিয়ে হাইপ তোলার এ প্রকল্পে বিশাল বিনিয়োগ। প্রতিবেদনটি প্রকারান্তরে একটি প্রবন্ধ। যার বর্ণনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতাকে অতিসরলীকৃতভাবে দেখানো হয়েছে। সেই সঙ্গে অস্বীকার করা হয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে। বাছাই করা কিছু ঘটনা তুলে ধরে সাজানো প্রবন্ধটিতে রক্ষণশীল আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে ঈর্ষণীয় অগ্রগতি, সেখানে নারীদের দেখানো হয়েছে অনগ্রসর করে। এবারের ‘যুব উৎসব ২০২৫ এখানে উদাহরণ হিসেবে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২৭ লাখ মেয়ে অংশ নিয়েছে। তিন হাজার খেলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছে নারীরা। এই বিশাল ইভেন্টে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আদিবাসী তরুণী ও বিভিন্ন স্তরের নারীদের যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রাণবন্ততা প্রমাণ করে। একটি মাত্র ফুটবল খেলা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়া মানে এই নয় যে, বাকি দুই হাজার ৯৯৯টি সফল আয়োজনের মূল্য নেই। টাইমস তা-ই বোঝানোর চেষ্টা করেছে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে এনে গোটা অগ্রগতিকে খাটো করে দেখানো মোটেই সাংবাদিকতা নয়। এটি চাতুরীর রাজনীতি।
 
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার ওপরে। টাইমসের প্রতিবেদনে এর সামান্যতম উল্লেখ নেই। বেশ গুছিয়ে আরেকটি ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস চরমপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেননি ‘মন্তব্যে’র মধ্য দিয়ে। যা কেবল অসত্য-বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং এটি তার দীর্ঘদিনের নারী ক্ষমতায়নের কাজকে অস্বীকার করা। ড. ইউনূসের নারীর ক্ষমতায়নের অন্তপ্রাণ চেষ্টা বিশ্বব্যাপী একটি রোল মডেল। গ্রামীণ ব্যাংক ও তার ক্যারিয়ারজুড়ে তিনি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার স্বীকৃতি তাকে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছে। 

বাংলাদেশের নারীরা দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের লিঙ্গ সমতা সূচকে ৭৩তম অবস্থানে বাংলাদেশ। নারী ফুটবল ও ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ২০২২ সালে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকে ৪০% কর্মকর্তা নারী। পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে হাজারো নারী কাজ করছেন। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো একজন নারী মেজর জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে। অথচ নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে নারীদের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ধর্মীয় সহিংসতা হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টাও চালানো হয়েছে। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা মূলত রাজনৈতিক এবং এর অনেকগুলো ঘটনাকে ধর্মীয় সংঘাত হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই জনসমর্থন পেতে ধর্মকে ব্যবহার করে, যা সমস্যাটিকে আরো জটিল করে তোলে। রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ধর্মীয় নিপীড়ন বলে চালানোর মওকা খোঁজা হয়। টাইমসেও তা করা হয়েছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর দিন তিনেক বাংলাদেশ ছিল পুলিশহীন, কার্যত সরকারহীন। এ সময়টাতে সাম্প্রদায়িক গোলমালসহ সামাজিক গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা চলে।

অবাক-বিস্ময়করভাবে ছাত্র-জনতা, আলেম-ওলামারা তখন নিজ থেকেই এগিয়ে আসে ঐক্যের আলোকবর্তিকা হয়ে। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় দাঁড়িয়ে গেছে কারো নির্দেশ ছাড়াই। পাহারা দিয়েছে মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। দায়বদ্ধতা ও ঐক্যের ওই বাতাবরণ অটুট থাকলে এখন ঐক্য ঐক্য করে মাথা পানি করতে হয় না। ৮ আগস্ট ক্ষমতা নেয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষাকে টপ প্রায়োরিটি হিসেবে নিয়েছে। এই লক্ষ্যে সেনা-জনতা এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। যা বাংলাদেশে চরমপন্থার বিরুদ্ধে একটি লাল সংকেত। এর পরও দেশে চরমপন্থার উত্থানের গল্প সাংবাদিকতার অপমান।

কারো বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশ এখন এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক শক্তি। বিগত কয়েক মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তা বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজার হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও বেশ আলোচিত। বিস্ময়করভাবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের চোখ-চশমায় ঘুরছে। কেবল গত সপ্তাহে ড. ইউনূসের চীন সফরের সময় বাংলাদেশ ২.১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ, বিনিয়োগ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।

‘ইনভেস্টরস কনফারেন্সে ৫০টি দেশের দুই হাজার ৩০০ প্রতিনিধিসহ মেটা, উবার, স্যামসাং-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। পরিবর্তন ও অগ্রগতির এমন এক সন্ধিক্ষণে নিউইয়র্ক টাইমস অবিচার করেছে বাংলাদেশের ওপর। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ, তাদের ঘরবাড়ি দখল, জ্বালাও-পোড়াও, মাজারে আক্রমণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা, নারীদের পোশাক নিয়ে কটূক্তি কিংবা পোশাকের কারণে নারীদের হেনস্থা করার মতো কিছু ঘটনাকে রঙিন মোড়কে সামনে এনে বাংলাদেশে উগ্রবাদের উত্থানের কাহিনি প্রচারের এজেন্ডা নতুন আয়োজনে আরো জোরদার করা হয়েছে। উগ্রবাদ এখন বৈশ্বিক সমস্যা। এর জেরে গণতন্ত্র একটি নতুন চ্যালেঞ্জে।

বাংলাদেশ আইন প্রয়োগ, সামাজিক সংস্কার ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে তা মোকাবেলায় আগেভাগেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেখানে বিচ্ছিন্ন  কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর বক্তব্য ও কার্যকলাপকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সাথে পরিচায়ক করা দুরভিসন্ধিমূলক। বাংলাদেশে মৌলবাদীরা নারী ফুটবল বন্ধ করে দিয়েছে মর্মে পুরনো রেকর্ডটি নতুন করে বাজিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। প্রসঙ্গক্রমে বলতেই হয়, জয়পুর হাটে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়াজক কমিটি বিনা টিকেটে ফুটবল আয়াজনের অনুমতি নিলেও শর্ত ভঙ্গ করে টিনের বেড়া দিয়ে টিকেটের ব্যবস্থা করে। এতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এছাড়া মাঠের পাশে অশ্লীল নৃত্যের কারণে স্থানীয় কিছু ধর্মপ্রাণ মানুষের সাথে ভুল-বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটে। তবে মূলত টিকিট ব্যবস্থার অনিয়মের কারণে সেখানে বিশৃঙ্খলা ঘটে যা নিয়ে মিডিয়ায় ভুলভাবে তথ্য ছড়ানো হয়৷ সেদিনের ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলেও ৭  দিন পরে ম্যাচটি কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রী হয়রানির শিকার হন। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অপরাধ, ধর্মীয় কোনো বিষয় নয়। আর পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনাগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় উগ্রবাদের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আরো দাবি করা হয়েছে, ইসলাম অবমাননার শাস্তি না দিলে মৌলবাদীরা নিজেরাই বিচার করবে। ২০১৩ সালে একটি ইসলামি দল হাইকোর্টে ধর্ম অবমাননার শাস্তি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে রিট করেছিল, যা আদালত খারিজ করে দেয়। বর্তমানে সরকার এই ধরনের কোনো দাবি গ্রহণ করেনি। 

দাবি করা হয়েছে যে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ বেড়েছে। সরকার হিজবুত তাহরিরের মতো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে। গত এক বছরে ২০০ জনের বেশি উগ্রপন্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর যে মিছিলের কথা বলা হচ্ছে, তা বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকার ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র এর একটি অপচেষ্টা, যা বর্তমান সরকার ব্যর্থ করে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এটি মুসলিম উগ্রপন্থীরা ছিল না, বরং হিন্দু উগ্রপন্থী সংগঠন ইসকনই সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে প্রবল আন্দোলন পরিচালনা করেছিল। সরকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত ধৈর্যশীলতা দেখিয়েছে। দাবি করা হয়েছে নতুন সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সরিয়ে বহুত্ববাদ আনা হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে বহুত্ববাদ আনার দাবির বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র এবং বহুত্ববাদ নিয়ে আলোচনা করেছে, তবে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

বহুত্ববাদ একটি সামাজিক ধারণা, যা বিভিন্ন ধর্ম, মতাদর্শ ও সংস্কৃতির সহাবস্থান নিশ্চিত করে, কিন্তু এটি ধর্মনিরপেক্ষতার বিপরীত নয়। বরং ধর্মনিরপেক্ষতার পাশাপাশি এটি রাষ্ট্রীয় নীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। অতএব, সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে-এমন তথ্য অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক। বাংলাদেশ আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মতো উগ্রবাদী হচ্ছে তথ্যও একটি রটনা। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দেশগুলো বলছে, মডারেট মুসলিম কান্ট্রি। বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে স্থিতিশীল দেশগুলোর একটি।
এরপরও একের পর এক অভিযোগের তীর যখন ছোঁড়া হচ্ছে, সেইক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার আবশ্যকতা রয়েছে।

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলা ভিশন

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

যদি থাকে নসিবে, আপনি আপনি আসিবে

মন্‌জুরুল ইসলাম
মন্‌জুরুল ইসলাম
শেয়ার
যদি থাকে নসিবে, আপনি আপনি আসিবে
সংগৃহীত ছবি

‘যদি থাকে নসিবে, আপনি আপনি আসিবে’- এটি একটি শ্রোতাপ্রিয় গানের কলি। শামসুল হক চিশতী (চিশতী বাউল) গানটি গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তার গায়কিতে গানটি আরও বেশি করে শ্রোতা-দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। নসিব বা ভাগ্য সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসেও বিস্তর বর্ণনা আছে।

সুরা হাদিদের ২২ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপর্যয় আসে আমি তা সংঘটিত করার আগেই তা লিপিবদ্ধ থাকে। আল্লাহর পক্ষে এটা খুবই সহজ।’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, সামাজিক অবস্থা বিচার-বিশ্লেষণ করলে এটাই বলতে হয়, ভাগ্যে থাকলে কেউ তা খণ্ডন করতে পারে না। যার ভাগ্যে যা আছে, তা অন্যরা ষড়যন্ত্র করেও বরবাদ করতে পারে না।

আল্লাহপ্রদত্ত প্রজ্ঞা, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব। তবে সে পরিবর্তনটাও ভাগ্যের ব্যাপার অর্থাৎ ভাগ্যে না থাকলে পরিশ্রম করেও ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব না। যারা ভাগ্যে বিশ্বাস করেন না, তারা ভিন্নমত পোষণ করলেও শেষ পর্যন্ত নিজের ভালোমন্দের বিচারে মনে মনে ভাগ্যকেই মেনে নিতে বাধ্য হন।

শেখ হাসিনা যদি আর মাস দু-এক ক্ষমতায় থাকতে পারতেন, তাহলে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়তো জেলখানায় থাকতে হতো।

সেই ড. ইউনূস আজ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। আর যে হাসিনা তাকে জেলখানায় পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছিলেন, তাকেই প্রাণে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। যে ছাত্ররা চাকরিতে কোটা বৈষম্য দূর করার দাবিতে রাজপথে ছিলেন, তারা এখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। চাকরি চাইতে গিয়ে হয়ে গেলেন মন্ত্রী। অনেকেই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত নেতা।
রাজনীতি শুদ্ধ করার আন্দোলন করতে গিয়ে হয়ে গেলেন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ। আট মাস আগেও যারা ছিলেন নেহাত গুরুত্বহীন, তাদের সঙ্গেই বিশেষ বৈঠক করেন জাতিসংঘের মহাসচিব।

যে খালেদা জিয়াকে দিনের পর দিন বন্দি রাখা হয় জেলখানায়, চিকিৎসার জন্য বিদেশ পর্যন্ত যেতে দেওয়া হয়নি। যার মৃত্যু কামনা করে সরকারপ্রধান কটূক্তি করেছিলেন, সেই খালেদা জিয়া সরকারপ্রধানসুস্থ হয়ে পরিবারের সঙ্গে এবার ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন। এখন মুক্ত এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় শ্রদ্ধেয় রাজনৈতিক নেতা। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল ওয়ান-ইলেভেন সরকার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়। অনেক মামলায় তাকে শাস্তিও দেওয়া হয়। লন্ডন থেকে তারেক রহমানকে ধরে এনে বিচার করা হবে বলে হুংকারও দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সেই তারেক রহমান এখন সব মিথ্যা মামলা থেকে মুক্ত। তিনি এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। গত ১৭টি বছর তিনি লন্ডনে বসে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিকে রক্ষা করেছেন।

বেগম খালেদা জিয়া টানা ৪০ বছর ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাড়িতে বসবাস করেছেন। ওই বাড়িটি স্বাধীনতার ঘোষকের বাড়ি। একজন সেক্টর কমান্ডারের বাড়ি। একজন প্রেসিডেন্টের বাড়ি। তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি। ওটা ছিল একটা ঐতিহাসিক বাড়ি। সে বাড়ি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে অপমান-অপদস্থ করে বের করে দেওয়া হয়। বুলডোজার দিয়ে সে বাড়িটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হয়েছে। ওই বাড়ি ভাঙা নিয়ে শেখ হাসিনা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বলেছিলেন, ‘প্রতিজ্ঞা করেছিলাম ক্যান্টনমেন্টের ওই বাড়িতে তাঁকে (খালেদা জিয়াকে) বসবাস করতে দেব না। যেদিন সময় আসবে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেব। বের করে দিয়েছি।’ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে একজনকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার বিপরীতে প্রকৃতির প্রতিশোধ হলো তার পিতার ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িটি জনতার রোষে পড়ে ধুলায় মিশে গেল। ওই বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপর বিক্ষুব্ধ জনতাকে প্রস্রাব করতেও দেখা গেছে।

যে আদালতে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল, সে আদালতেই এখন শেখ হাসিনার বিচার চলছে। যে আইনে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করেছিল, সে আইনেই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া হয়তো চলবে। গত আট মাসে মোটা দাগে যে বিষয়গুলো দেশবাসী প্রত্যক্ষ করল, এ সবই হলো ভাগ্য বা নসিবের লিখন। মহান আল্লাহতায়ালা যার নসিবে যা লিখেছেন, তিনি তা-ই পেয়েছেন।

যারা কর্মে বিশ্বাসী মানুষ, তারাও গত আট মাসের হিসাব মিলিয়ে দেখবেন। কর্মের ফলেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়েছেন। আর কর্মের ফলেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ভাগ্যে বা নসিবে বিশ্বাসী বা কর্মে বিশ্বাসী সবার জন্যই একই শিক্ষা। সুতরাং আগামী দিনগুলোতে যার নসিবে যা আছে, তিনি তা-ই পাবেন। শুধু শুধু নানা ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ নেই। ষড়যন্ত্র করলে শত্রুতা বাড়বে, নিজেদের মধ্যে হানাহানি বাড়বে, ভাগ্য বা নসিব পরিবর্তন হবে না।

অনেক বছর পর এবার দেশবাসী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের আনন্দ উপভোগ করলেন। কর্তৃত্ববাদী শাসন নেই, গুম-খুনের ভয় নেই। যারা দীর্ঘদিন বাড়িঘর ছাড়া ছিলেন তারা নিজের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে পেরেছেন। নয় দিনের দীর্ঘ ছুটিতে মানুষ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে পেরেছেন। বেপরোয়া যান চলাচল অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে ছিল স্বস্তির যাত্রা। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। সেখানে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়তে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, আহত হয়ে যারা স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছেন, তাদের জন্য দোয়া করব। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে। আমরা যেন স্থায়ী একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে পারি সেজন্য কাজ করতে হবে। যারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে আত্মাহুতি দিয়েছেন, আমরা অবশ্যই তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। যত বাধাই আসুক, ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’ ঈদের জামাতে দাঁড়িয়ে প্রধান উপদেষ্টার এমন ইস্পাতকঠিন উচ্চারণ জাতিকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা বীরের জাতি, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। জাতি তার বীরত্ব বারবার প্রদর্শন করেছে। সর্বশেষ বীরত্ব প্রদর্শিত হয়েছে ৫ আগস্ট। জাতির ওপর চেপে বসা জগদ্দল পাথর সরানো সম্ভব হয়েছে। তবে এও সত্য, গিরিঙ্গিবাজি বা বেইমানিও রয়েছে জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সে কারণেই নানা ষড়যন্ত্রে এ জাতির মধ্যে নানা অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। শিশুতোষ পাঠ্যবইয়ে প্রায় সবাই পড়েছি ‘একতাই বল’। অথচ কর্মজীবনে আমাদের মধ্যে শিশু বয়সের সেই মৌলিক শিক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটছে না। বরং পদে পদে একতার বিপরীত কর্মকাণ্ডই বেশি হচ্ছে। সে কারণেই হয়তো প্রধান উপদেষ্টা উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, সংস্কার, নির্বাচন যা-ই হোক না কেন, সবার আগে দরকার ঐক্যবদ্ধতা। জাতি হিসেবে আমাদের মধ্যে ঐক্য না থাকলে সুন্দর একটি সাম্য-সম্প্রীতির দেশ হিসেবে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সাময়িক ঐক্য হলে হবে না। নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য স্থায়ী ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা না হলে জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হবে। আর এ বিপ্লব ব্যর্থ হলে জনরোষ থেকে কেউ রক্ষা পাবে না। সে জনরোষ রূপ নিতে পারে আরও একটি নতুন বিপ্লবে।

মেশকাত শরিফে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, ‘একজন মানুষ সব সময়ই তার সঙ্গীসাথি দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করার আগে তার বিশ্বাস ও জীবনাচার সম্পর্কে খোঁজখবর নাও।’ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র-জনতার দ্বারা মনোনীত। এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টামণ্ডলী ও সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া অন্যরা অতীতে কখনো রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করেননি। সে কারণে গত আট মাসে তাদের কাজের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। সেই সঙ্গে দায়িত্বশীল প্রত্যেকের চারপাশে নতুন নতুন ধান্দাবাজ আগাছা সঙ্গীসাথিও গজিয়ে উঠেছে। এসব ধান্দাবাজ আগাছা সরকারের ভিতরে নানাভাবে ঢুকে পড়ছে। প্রধান উপদেষ্টা যে জাতীয় ঐক্য ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, তারা এ শুভ উদ্যোগে অন্তরায় সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো অগণিত বিশেষজ্ঞ সরকারকে নানাভাবে প্রতিনিয়ত উপদেশ-নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন। এসব উপদেশ-নির্দেশ শুনলে যে কারওই মাথা গরম হওয়ার কথা। সরকারের নানা দুর্বলতার কারণেই এসব উপদেশ-নির্দেশদাতা গোষ্ঠীর জন্ম হচ্ছে। ধান্দাবাজ আগাছা উপদেশদাতাদের উদ্দেশ্য হলো দেশে যাতে স্থায়ী ঐক্য প্রতিষ্ঠিত না হয় সেজন্য যা যা প্রয়োজন তা করা। সে কারণে যত বাধাই আসুক না কেন, স্থায়ী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে নতুন বাংলাদেশ অবশ্যই গড়ে তুলতে হবে। তার জন্য যেমন দরকার স্থায়ী জাতীয় ঐক্য, তেমন দরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচন যত বিলম্বিত হবে, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তত বেশি সময়ক্ষেপণ হবে। সেই সঙ্গে ইমেজ নষ্ট হবে বিশ্বব্যাপী সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। মনে রাখতে হবে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুধু আমাদের নেতা নন, তিনি হলেন বিশ্বনেতা। তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হলে, তিনি ব্যর্থ প্রমাণিত হলে তা হবে জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আর তাতে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগটা হাতছাড়া হবে চিরতরে।

লেখক :  নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন 

manju209@yahoo.com

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সেনাবাহিনী বা প্রধান নিয়ে অপরিণামদর্শী স্মার্টনেস কাম্য নয়

মোস্তফা কামাল
মোস্তফা কামাল
শেয়ার
সেনাবাহিনী বা প্রধান নিয়ে অপরিণামদর্শী স্মার্টনেস কাম্য নয়
মোস্তফা কামাল

মাত্র মাস আটেক আগে কী দশা-দুর্গতিতে ছিলাম, কার উছিলায় কিভাবে এখন মুক্ত বাতাসে দম –নিঃশ্বাস নিচ্ছি; দিব্যি ভুলে যাওয়ার প্রবণতা। সন্তুষ্টির বদলে যার –তার সমালোচনা। বুকে বুক, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দুঃসাধ্য বিজয় অর্জনের ঘটনাগুলো এতো দ্রুত তলিয়ে যাওয়া সবার জন্যেই দুর্ভাগ্যের। বিশেষ করে আন্দোলনের স্ট্যাকহোল্ডারদের কারো কারো মন্তব্য খোদার আরশ কাঁপানোর মতো।

পরস্পরের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝাঁঝ নেমক হারামির নামান্তর। তবে, ৫ আগস্টের স্পন্দন সাধারণ মানুষের মনোজগতে একটা পরিবর্তন ঘটিয়ে দিয়েছে। প্রকারান্তরে এটিও একটি সংস্কার। বিশেষ করে নিজ দেশের সেনাবাহিনী সম্পর্কে হালকা-তাচ্ছিল্যপনায় স্মার্টনেস দেখানো তাদের কাছে অসহ্য।
সশস্ত্রবাহিনী কেবল স্বার্বভৌমত্বের প্রতীকই নয়, একটি দেশের স্থিতিশীলতায়ও কতো বলীয়ান তা জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে বাস্তব করেছে সেনাবাহিনী। বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে মাঠে থাকা এ বাহিনীর সদস্যরা কোথাও শো আপ করছে না। যাচ্ছে না বলপ্রয়োগে। সহায়কের মতো কাজ করছে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সাথে।
সেনা সদস্যদের মাঠ থেকে সরালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কী দশা হবে, কারো কারো ধারনায় না থাকলেও সাধারণ বুঝজ্ঞানের মানুষ তা যথাযথ উপলব্ধি করে।   

যে কোনো দেশের সশস্ত্রবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে হালকা কথা বললে তাদের মনোবলে টোকা পড়ে। বহি:শত্রুদের মাঝে এতে তৃপ্তির ঢেঁকুর আসে। তারা সুযোগ নেয়ার সাহস পায়। এতে অনিবার্যভাবে দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ার শঙ্কা দেখা দেয়।

যা দেশটির জন্য ভীষন আত্মঘাতী। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা সেই অপেক্ষাই করছে। সচেতন নাগরিকরা গত দিনের আলামতে তাই উদ্বিগ্ন। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত পেশাদার, দক্ষ, প্রত্যয়ী। উচু মনোবলে কেবল নিজেরা নয়, জনতাকে নিয়েও ঐক্যবদ্ধ। বাহিনী প্রধানের ক্যারিশমা-বিচক্ষণা-পেশাদারীত্বে মুগ্ধ। অফিসার, সৈনিক, এমনকি সেনাপ্রধানের একসূত্রে গাঁথার এ নজিরের মাঝে যে কোনো একজনের প্রতি কেউ অসম্মান করলে তার আঁচর সবার গায়ে লাগে। তাদের কাছে এটি  পুরো বাহিনীর প্রতি অসম্মান বলে মনে হয়।

রাজনীতিতে উড়িয়ে দেয়া, গুড়িয়ে দেয়া, টুস করে চুবিয়ে দেয়া, ধপ করে ফাটিয়ে দেয়া ধরনের কথায় ক্রেজ তৈরি বা হাইপ তোলার রেওয়াজ এ দেশে আছে। তাই বলে ক্যান্টনমেন্ট, সেনাপ্রধানকে হুমকি-ধমকি! এতে ভাইরাল হওয়া যায়, কিন্তু নিজের ওজনও থাকে? এসএসএফের গান পয়েন্টে দাঁড়িয়ে বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ভারি অপরাধ করে ফেলেছেন? তাকে এখন প্রতিদান দিতে হবে? সেদিন ওই ভূমিকার জন্য তার জীবন যেতে পারতো। আর সেই ভূমিকা তিনি নিয়েছেন বলে্‌ই আজকের বাতাস এতো মুক্ত। কথা বলার এতো স্বাধীনতা। নির্বাচন দাবি করা, আগে সংস্কার পরে নির্বাচন, পাবলিক-রিপাবলিক, নতুন দলসহ কতো আলাপ। এতোসব কার উছিলায়?  বর্তমানের সেনাবাহিনী এবং তার প্রধান যথেষ্ঠ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। সইছেন নানা খোঁচা ও উস্কানি। এর আগে, রাওয়া ক্লাবের অনুষ্ঠানে যদ্দূর সম্ভব সবাইকে সতর্ক করেছেন। বলেছেন, পরে যেন কেউ তাকে দোষারোপ করতে না পারেন। চাইলে তো সেই সতর্কতা না দিলেও পারতেন। বসে বসে মজা দেখতেন। কিছুদিনের ব্যবধানে আবারো সতর্কবার্তার সঙ্গে পরামর্শও রাখলেন সেনাপ্রধান। ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অফিসার্স অ্যাড্রেস বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নানা অপপ্রচার, উসকানিমূলক বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন সেনাপ্রধান। পরামর্শ হিসেবে বলেছেন,  গুজব–ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। তার বিশ্বাস বর্তমান পরিস্থিতিতে যে দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেনাবাহিনী কাজ করছে, সেটি দেশ ও জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে। ঢাকার বাইরের সেনা কর্মকর্তারা অনলাইন মাধ্যমে এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, এমন কিছু করা যাবে না, যাতে উসকানিদাতাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়। একজন সেনাপ্রধানের পক্ষে আর কতোটুকু বলা সম্ভব?

সাম্প্রতিক অপতথ্যের ফের বা মতলব কে না বোঝে? পোস্টদাতারা অনেকেই আন্ডারগ্রাউন্ড কিংবা ফেক আইডি থেকে গুজব ছড়ায়। তার ওপর আছে আশোভন মন্তব্য, খিস্তিখেউড়, ট্রল। আবার অনেকেরটা নাম দেখেই বোঝা যায় এগুলো সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানের মানুষের পক্ষে হজম অযোগ্য। দেশে এখন একটা বিশেষ পরিস্থিতি। নির্বাচন নিয়ে কথা হচ্ছে। কোনো কোনো দল তো নির্বাচনের জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে কথা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার। পরীক্ষিত সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের তাগিদ রয়েছে কারো কারো। এগুলোর সবই প্রস্তাবনা। কোনোটিউ চূড়ান্ত নয়। সমস্যা দেখা দিচ্ছে প্রকাশের ভাষা-ভঙ্গি নিয়ে। মনোজগতে কারো কারো উদ্দেশ্যই হচ্ছে সমালোচনা-নিন্দা-গীবৎ করা। তা সেনা প্রধানের নামাজের ইমামতি নিয়েও। নামাজে ইমামতি করার যোগ্যতা-সৌভাগ্য সবার হয় না। আবার নিয়মিত নামাজ একজন মানুষকে ধৈর্য্য ও সহনশীল করে গড়ে তোলে, তা বুঝতে হাদিস-কোরআন জানতে হয় না। জেনারেল ওয়াকারের ওই গুণ-যোগ্যতার খবর জানেন তার পরিবারের সদস্যের বাইরে ক্লাসমেট এবঙ কোর্সম্যাটরা। এখানে তার কোর্সম্যাট একসময়ের সহকর্মী সাবেক সেনা কর্মকর্তা, পরে সাংবাদিকতার কঠির তারে জড়িয়ে যাওয়া আবু রুশদ মো. শহিদুল ইসলামের ফেসবুক পোস্টটি বড় প্রাসঙ্গিক। লেখার প্রয়োজনে এর কয়েক লাইন উল্লেখ না করলেই নয়। ।

আবু রুশদ লিখেছেন, ওয়াকার যৌবনের ধারালো সময়েও ইমামতি করতেন। স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাগরিবের নামাজে ইমামতি করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তার নামাজ পড়ানোর ছবি প্রকাশ হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার পাশাপাশি ব্যঙ্গ করার কিছু লোকের ক্রিয়াকর্মও দেখতে হলো। নিজের ফেসবুক পেজে রুশদ মিলিটারি একাডেমিতে একসঙ্গে কোর্স করার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। এতে তিনি লিখেন, ‘আমার বন্ধু জেনারেল ওয়াকারের ইমামতি প্রসঙ্গে: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার নামাজে ইমামতি করছেন এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেনাপ্রধান ইমামতি করেন? উনি কি সেনাপ্রধান হওয়ার পর এটা শুরু করেছেন? প্রশ্ন অনেকের। আবার অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও তির্যক মন্তব্য করছেন অনেকে! জেনারেল ওয়াকার বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে আমার কোর্সমেটই শুধু ছিলেন না, তিনি আমার রুমমেটও ছিলেন। বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর কোম্পানিতে আমরা একই প্লাটুনে প্রশিক্ষণের দুই বছর কাটিয়েছি ১৯৮৪-৮৫ সালে। আবার তৃতীয় টার্মে দুইজন একই প্লাটুন কমান্ড করেছি। মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ কেমন তা নিয়ে বেশিরভাগ মানুষের কোনো ধারণা নেই। বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মে বাপ-দাদার নাম ভুলে যাওয়ার অবস্থা হয়। একটু ঘুমানোর সময় বের করা এরমধ্যে স্বর্গীয় সুখের মতো অনুভূতি তৈরি করে। আমরা সবাই কোনোভাবে ঘুমাতে পারলে বাঁচি। শীতের রাতে পানি, কাদায় মাখামাখি হয়ে যখন রুমে আসতাম তখন গোসলটা করে সোজা বিছানায়। এর মধ্যেও তদানীন্তন (ক্রমান্বয়ে) জেন্টলম্যান ক্যাডেট-ল্যান্স করপোরাল-কোম্পানি কোয়ার্টার মাস্টার সার্জেন্ট ওয়াকার গোসল করে ওজু করে নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে যেত। কাজা নামাজসহ সব আদায় করে ঘুমাতে যেত। আমিসহ আমাদের কোর্সের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ ক্যাডেট ওইভাবে নামাজ আদায় করতে পারিনি।

পোস্টের আরেক জায়গায় আবু রুশদ লিখেছেন, আমাকে কত যে হেদায়েতের চেষ্টা জে. ওয়াকার করেছেন! আই প্রেফারড স্লিপ!!! হি প্রেফারড প্রেয়ার! আরেকজন এমন ছিল কর্নেল নুরুল। উনিও ফাইনাল টার্মে আমার রুমমেট ছিলেন যখন দুইজনই আমরা আন্ডার অফিসার ছিলাম। ওই তরুণ-যুবক বয়সে জেনারেল ওয়াকারকে কাছে থেকে যতোটুকু দেখেছি তাতে তিনি ছিলেন অতি নরম মনের একজন মানুষ। এ নিয়ে আমরা উনাকে খেপাতাম। জুনিয়রদের যেখানে আমি কঠোর, কঠিন, মিলিটারি বুলশিট করতাম উঠতে বসতে যাতে অবধারিতভাবে স্ল্যাং থাকতো সেখানে জেনারেল ওয়াকার একটা স্ল্যাং ইউজ করতো না!’ তিনি লিখেন, ‘নবী, রাসুল ছাড়া সব মানুষের মধ্যে পাপ, দোষত্রুটি আছে। জেনারেল ওয়াকার তার ব্যতিক্রম নন। তাকে নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনা আছে, থাকবে। এ নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। কিন্তু ব্যক্তি ওয়াকারের ইমামতি দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই! উনি যৌবনের ধারালো সময়েও ইমামতি করতেন! আমি কোর্সমেট, রুমমেট হিসেবে অন্তত উনার এই দিকটা নিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি। খুব কষ্ট লাগে তার এই ইমামতি দেখেও কিছু অতি হাইপার অতি নিম্নমানের কথাবার্তা বলছেন দেখে!

সমালোচনা ভালো। সমালোচনার অধিকার সবার আছে। কখনো কখনো সমালোচনায় উপকারও হয়। শুদ্ধি আসে। তাই বলে সেনাবাহিনী বা বাহিনীটির প্রধানকেও সমালোচনার জন্য সমালোচনা করা কাম্য নয়। তা মোটেই স্বাধীনতা নয়, স্মার্টনেসও নয়। গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষনীয় এবারের পটপরিবর্তনে সেনাবাহিনীর জনসম্পৃক্ততার অনন্য নজিরকে বানচাল করতে মহলবিশেষ নানা ফাঁদ পাতছে। কেউ দেশে কেউ ভিনদেশে বসে এ টোকায় শরীক হচ্ছে। স্যোশালমিডিয়ার কথা ভিন্ন। কারণ তাদের কোনো সম্পাদকীয় কর্তৃপক্ষ নেই। দায়বদ্ধতা নেই। হিট বা ভাইরাল হতে গিয়ে নিজের সম্পর্কে অশ্রাব্য শব্দ-বাক্য ব্যবহারও তাদের কাছে বিষয় নয়। নিজেকে নিজে দিগম্বর করতেও লজ্জা পাবে না তাদের। কিন্তু দেশে একান্নবর্তী পরিবারের মতো রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজনীতিতে সম্পৃক্তরাও বুঝে, অবুঝে বা অতিবুঝে, ফাঁসে-বেফাঁসে সেনাবাহিনীর ইমেজে আঘাত করে বসা বড় অপরিনামদর্শী। জুলাই আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনার হাসনাত আবদুল্লাহ বয়স দোষে তা করে দেরিতে হলেও বুঝেছেন। বয়সী-বুঝবান রাজনীতিকদের কেউ কেউও মাঝেমধ্যে এ পথ মাড়াচ্ছেন অবিবেচকের মতো।


লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলা ভিশন

মন্তব্য

বিতর্ক চাই, বিরোধ নয়

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
বিতর্ক চাই, বিরোধ নয়
অদিতি করিম

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন দুটি ধারা সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। একটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যারা শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে। বেগম খালেদা জিয়া যে দলটির চেয়ারপারসন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে দলটি এখনো সজীব এবং সতেজ। অন্য একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা হয়েছে ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর।

৫ আগস্টের বিপ্লবের নায়করা একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করার প্রত্যয়ে একটা নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করেছেন। সে দলটির নাম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’। ২৮ ফেব্রুয়ারি বেশ জাঁকজমকের সঙ্গে এনসিপি আত্মপ্রকাশ করে। আত্মপ্রকাশের পর থেকে দলটি ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
দলটি ক্রমে বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবেই দৃশ্যমান। এ দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনেক মৌলিক ইস্যুতে বিতর্ক লক্ষণীয়।

একটি গণতান্ত্রিক সমাজে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মত ও পথের পার্থক্য থাকবে। বহু মত, বহু পথের বিতর্কই হচ্ছে গণতন্ত্রের মূল আকর্ষণ।

জনগণ নানা পথ ও মত পর্যবেক্ষণ করবে, পর্যালোচনা করবে এবং জনগণের যে মত পছন্দ সে মতের পক্ষে অবস্থান নেবে। এটিই হলো গণতন্ত্রের নিয়ম। আমরা দীর্ঘদিন পরে রাজনৈতিক দলগুলোর বিতর্ক উপভোগ করছি। বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে এনসিপি এবং বিএনপির মতপার্থক্য এখন প্রকাশ্যে। তাদের মধ্যকার বিতর্ক আরও যুক্তিনির্ভর হোক, এটাই জনগণের প্রত্যাশা।
পছন্দের দল বাছাইকরণে জনগণের জন্য যেন একটি সুযোগ তৈরি হয়। এ সুযোগ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। একটি যুক্তিবাদী, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ সমাজ বিনির্মাণ জরুরি। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি এ বিতর্ক যেন কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিরোধে রূপ নিচ্ছে। ঘটছে অনাকাক্সিক্ষত সহিংসতা। এটি আমাদের কাম্য নয়।

বিএনপি নিঃসন্দেহে এ মুহূর্তে দেশের অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এ দলটি মোট চারবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। ১৯৭৯ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রথম ক্ষমতায় আসে। এরপর ১৯৯১ সালে স্বৈরাচার পতনের পর নির্বাচনে অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করে দলটি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি তৃতীয় দফায় নির্বাচিত হয়। বেগম খালেদা জিয়া প্রথম তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনন্য রেকর্ড স্থাপন করেন। এ দলটি ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর এক প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়ে। এ সময় দলটিকে এক কঠিন বিপর্যয় মোকাবিলা করতে হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর তাদের পাড়ি দিতে হয় এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়। এ বৈরী সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি অটুট ঐক্য ধরে রাখতে পেরেছিল। বিএনপিকে দমন করার জন্য, রাজনৈতিক দল হিসেবে অস্তিত্ব বিনাশের জন্য হয়েছিল নানামুখী প্রচেষ্টা। তার পরও বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে শুধু টিকেই থাকেনি, বরং এ প্রতিকূলতার মধ্যে সাঁতার কেটে দলটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। কর্মীরা হয়েছেন আরও বেশি আদর্শবান, ত্যাগী। সোনা যেমন আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়, তেমন বিএনপির কর্মীবাহিনীও খাঁটি হয়ে উঠেছে। এ কারণেই ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে এ দলটি।

অন্যদিকে ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থান ছিল ছাত্রদের এক অভূতপূর্ব জাগরণের মহাকাব্য। তারা রীতিমতো অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। এ ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের মূলনায়ক অবশ্যই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাহসী তরুণরা। তাদের বিজয়ের পর একটি অন্তর্র্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, যে সরকার কেবল ছাত্রদের সমর্থনপুষ্ট নয়, বরং তাতে ছাত্রদের অংশগ্রহণও রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বিপ্লবী ছাত্রদের সরকারের নিয়োগকর্তা বলে অভিহিত করেছেন। জুলাই বিপ্লবের নায়কদের বাংলাদেশ ঘিরে একটি স্বপ্ন রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা আছে। আর এ সমস্ত চিন্তাভাবনা তারা প্রস্ফুটিত করতে চায়। এ কারণেই গণ অভ্যুত্থানের বিজয়ের প্রায় সাত মাস পর তারা নিজেরাই একটি নতুন দল গঠন করেছে। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মাত্রা। রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন নাহিদ ইসলাম। জুলাই বিপ্লবের কারিগররাই এ রাজনৈতিক দলের হাল ধরেছেন। তারুণ্যে ভরপুর এ রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন শক্তি। ক্ষমতার দৌড়ে এখন বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ নিঃসন্দেহে এনসিপি। আর স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতার লড়াইয়ে এনসিপি এবং বিএনপির মধ্যে আদর্শিক চিন্তা এবং কর্মপরিকল্পনার পার্থক্য আছে। বিএনপি চাইছে সবার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ন্যূনতম সংস্কার করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তারা নির্বাচনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে। এমনকি ২৫ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে যে নির্বাচনের আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা, তারও সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার এ বক্তব্য অস্পষ্ট। তিনি বলছেন, সংকট উত্তরণে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে এনসিপি মনে করে সংস্কার ও গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ নেই। এ ধরনের প্রচেষ্টা এনসিপি প্রতিহত করবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে। এনসিপি মনে করে বর্তমান যে সংবিধান তা অকার্যকর হয়ে গেছে। এ সংবিধান জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে ব্যর্থ। এজন্য তারা নতুন সংবিধান এবং সবার আগে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি করছে। এটা এনসিপির কৌশলগত অবস্থান। দল গোছানোর জন্যই তাদের নির্বাচন পেছানোর দাবি বলে অনেকে মনে করেন। কারণ, এনসিপি নেতারা নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। এনসিপি মনে করছে ৫ আগস্টের বিপ্লব হলো ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’। এ কারণেই তারা নতুন রাষ্ট্র বন্দোবস্তের জন্য জুলাই ঘোষণাপত্র দাবি করেছে। গত বছরের শেষ দিনে তাদের এ ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সরকারের হস্তক্ষেপে তারা করেনি। এনসিপি মনে করছে জুলাই বিপ্লব ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’। জামায়াতও এ ইস্যুতে এনসিপির সঙ্গে একমত। কিন্তু বিএনপির এ ক্ষেত্রে আপত্তি। বিএনপি মনে করছে গণতন্ত্র লাইনচ্যুত হয়েছিল। ৫ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রের আকাক্সক্ষার বিজয় হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই মুক্তিযুদ্ধের তুলনা হয় না। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাফ বলে দিয়েছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ একটাই। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই বিপ্লব গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না।’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও স্বাধীনতা দিবসে একই বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যারা একাত্তরকে চব্বিশের সঙ্গে তুলনা করতে চান, তারা হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি অথবা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন।’ এ কারণে এনসিপি এবং বিএনপির মধ্যে একটি দৃষ্টিভঙ্গিগত বিতর্কের সূচনা হয়েছে। এ ছাড়া এ দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আরও অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, আছে মতবিরোধ। এনসিপি যেমন মনে করে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার আর কোনো অধিকার নেই, এটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। বিএনপি আওয়ামী লীগের যারা দোষী তাদের বিচার দাবি করে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হবে কি না সে দায়িত্ব বিএনপি জনগণের ওপর ছেড়ে দিতে চায়। এ যুক্তিনির্ভর বিতর্ক শক্তি পরীক্ষার পথ খুলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির সঙ্গে বিএনপির বিরোধের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ জনসংযোগ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এ হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছে এনসিপি। এ রকম ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর কিছুটা হলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে এনসিপি নেতা সারজিস আলম তাঁর নির্বাচনি এলাকা পঞ্চগড়ে যেভাবে গাড়ির শোডাউন করেছেন তার সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিভিন্ন স্থানে এনসিপির সঙ্গে বিএনপির টানাপোড়েনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঘটছে সহিংসতা।

আমরা মনে করি এনসিপির সঙ্গে বিএনপির মৌলিক রাজনৈতিক বিরোধ থাকতেই পারে, থাকাটাই স্বাভাবিক। এ বিরোধগুলো প্রকাশ্যে আলোচনা হতেই পারে, যেন মানুষ তার নিজস্ব বিচারবুদ্ধি থেকে যে কোনো একটিকে পছন্দ করতে অথবা দুটিকেই প্রত্যাখ্যান করতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয় যে এক পক্ষ অন্য পক্ষের মত চাপিয়ে দেওয়ার জন্য পেশিশক্তি প্রয়োগ করবে, সহিংসতার পথ বেছে নেবে। আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। এ সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিতরে মতপার্থক্য, বিতর্ক থাকাটাই যৌক্তিক। শুধু এনসিপি এবং বিএনপি নয়, আমরা লক্ষ করছি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে একটি মতপার্থক্য এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। এ সমস্ত বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু এ বিতর্কগুলো যেন কোনো অবস্থাতেই বিরোধে রূপ না নেয়, সহিংসতায় রূপ না নেয় সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। যুক্তিসংগত বিতর্কে পেশিশক্তির জায়গা নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি মহল গণতন্ত্র উত্তরণ বানচাল করার জন্য সচেষ্ট। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এ চক্রান্তের ফাঁদে যেন কেউ পা না দেয় সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে। দেশের জনগণ বিতর্ক চায়। যুক্তিনির্ভর বিতর্কের আলোকে প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের লক্ষ্য-আদর্শ প্রকাশ করুক। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি হোক রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তি। জনগণকে আকৃষ্ট করার জন্য তারা কী কী কর্মসূচি গ্রহণ করবে তা জনগণের কাছে উন্মোচন করুক। এটি জনগণ প্রত্যাশা করে। কিন্তু এক পক্ষ তার মতামত চাপিয়ে দেওয়ার জন্য যদি অন্য পক্ষের ওপর দমন-নিপীড়ন করে, সহিংসতার পথ বেছে নেয় তা হবে অনাকাক্সিক্ষত। এটি হবে গণ অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।

অদিতি করিম : নাট্যকার ও কলাম লেখক

Email : auditekarim@gmail.com

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ