• ই-পেপার

বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগে গোবিন্দগঞ্জে বৃক্ষরোপণ

চলনবিলে বসুন্ধরা শুভসংঘের কৃষ্ণচূড়া রোপণ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
চলনবিলে বসুন্ধরা শুভসংঘের কৃষ্ণচূড়া রোপণ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বর্ষার নবধারায় স্নাত চলনবিল যখন রূপালী চাদর গায়ে জড়িয়ে শান্ত-স্নিগ্ধ, ঠিক তখনই তার রূপের মাধুর্যকে আরো একধাপ বাড়িয়ে দিতে এক অনন্য উদ্যোগ নিল বসুন্ধরা শুভসংঘ। বিলের বুক চিরে জেগে ওঠা নৈসর্গিক পর্যটন এলাকাকে লাল-সবুজের মায়াবী ক্যানভাসে রূপান্তর করতে কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটির গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার সদস্যরা।

ধু-ধু জলরাশি আর মৃদু বাতাসের মিতালিতে মুখর চলনবিল এমনিতেই পর্যটকদের মনে দোলা দেয়। আগামী দিনে সেই দোলায় বৈশাখী বাউলের মতো রঙ ছড়াবে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা—এই স্বপ্ন বুনেই শুভসংঘের তরুণরা কোদাল-খুন্তি হাতে নেমে পড়েন তাদের প্রতিটি হাতের ছোঁয়ায় রোপিত হয়েছে একেকটি নতুন প্রাণের স্পন্দন, যা আগামী দিনে পর্যটকদের ছায়া দেবে, চোখ জুড়াবে আর মনকে করবে উচাটন। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) চলনবিল পর্যটন এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সারিবদ্ধভাবে এই সৌন্দর্যবর্ধনকারী বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. গোলাম রব্বানী, সহসভাপতি মো. মকবুল হোসেন, মো. শুভাশিস কবির, মো. নাসিম উদ্দিন জয়, সাধারণ সম্পাদক মো. অনিক সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়ার লামিম, উৎসব প্রামাণিক, সাহারিয়ার লামিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জোহা প্রামাণিক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাকিল ইসলাম, ইমন ইসলাম, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. লিমন প্রামাণিক, সহপ্রচার সম্পাদক মো. সোহানুর রহমান, সদস্য মিলন মোল্লা, সাকিল ইসলাম, মেহেদি হাসান, ইয়ামিন তালুকদার, শ‍্যামল হোসেন, সোহাগ মোল্লা, আজিজুল সরকার, নাহিদ জামান ও সিব্বির আহসান।

সংগঠনটির গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার সহসভাপতি মো. গোলাম রব্বানী জানান, তারা শুধু গাছ রোপণ করছেন না, চলনবিলের বুকে এক টুকরো লাল-সবুজের অহংকার বুনে দিচ্ছেন, কয়েক বছর পর যখন এই কৃষ্ণচূড়াগুলো একযোগে হেসে উঠবে, তখন চলনবিলের রূপ দেখে চোখ ফেরানো দায় হবে।

উপস্থিত শুভসংঘের সদস্যরা জানায়, শুধু কংক্রিটের উন্নয়ন নয়, প্রকৃতির নিজস্ব রূপকে বাঁচিয়ে রাখাই আসল সার্থকতা। এই কর্মসূচি চলনবিলকে যেমন আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে, তেমনি জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায়ও রাখবে এক অনন্য ভূমিকা। 

বৃক্ষরোপণ শেষে তরুণেরা শপথ নেন, শুধু রোপণই নয়, এই চারাগুলো যতক্ষণ না মহিরুহ হয়ে উঠছে, ততক্ষণ পরম মমতায় এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা করবেন তারা।

তাড়াশে হামের সচেতনতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আলোচনসভা ও পোস্টার প্রদর্শন

সনাতন দাশ, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
তাড়াশে হামের সচেতনতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আলোচনসভা ও পোস্টার প্রদর্শন
সংগৃহীত ছবি

‘শুভ কাজে, সবার পাশে’ স্লোগান সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের  নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আলোচনাসভা ও পোস্টার প্রদর্শন করা  হয়েছে। মঙ্গলবার  (১৬ জুন) পৌর শহরের  চালামাগুড়া সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ  তাড়াশ উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি শামীউল হক শামীমের   সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায়  ডা. শ্যামল কুমার,  প্রধান শিক্ষক অদৈত সরকার ,  সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসান,  সুভাস ভৌমিক,  সাংবাদিক মৃণাল সরকার মিলু ও  দৈনিক কালের কণ্ঠের তাড়াশ-রায়গঞ্জ উপজেলা  প্রতিনিধি  সনাতন দাশ  উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনাসভার প্রধান আলোচক ডা. শ্যামল কুমার  বলেন, ‘বর্তমানে সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।  সরকার এ হামের প্রাদুর্ভাব দুর করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।  পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত টিকা দেয়া হচ্ছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব হলে পরিবার সবাইকে সচেতন হতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে আলাদাভাবে পরিচর্যা করতে হবে।  পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ  নিতে হবে। সকলের সচেতন প্রচেষ্টাই হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব।  এ বিষয়ে তিনি শিশুদের স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।’ 

প্রধান শিক্ষক অদৈত সরকার বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে এ সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান আমাদের শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। আগামীতে এমন প্রোগ্রাম অব্যাহত রাখবেন, এ প্রত্যাশা করছি।’

ডেঙ্গু সচেতনতায় ইবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের লিফলেট বিতরণ

আরিফ বিল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
ডেঙ্গু সচেতনতায় ইবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের লিফলেট বিতরণ
সংগৃহীত ছবি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। 

সোমবার (১৫ জুন) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে  ওই  কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাল চত্বর, ডায়না চত্বর, জিয়া মোড়, প্রধান ফটক, টিএসসি এবং আবাসিক হল এলাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থীর মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। 

ক্যাম্পেইনে বসুন্ধরা শুভসংঘ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমাজকল্যাণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন, সহ-অর্থ সম্পাদক ফরহাদ খাদেম, সদস্য আরিফ বিল্লাহ, মাওয়াজুর রহমান, রুনা লায়লা, মারজিয়া আক্তার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পেইন শেষে সংগঠনটির সদস্য আরিফ বিল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মসূচি করা হয়েছে। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গুর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছি।’

সমাজকল্যাণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন বলেন, ‘ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। এটি আমাদের পরিচ্ছন্নতার অভাব ও অসচেতনতার জন্য ছড়ায়। এতে প্রতিবছর অনেক মানুষ আক্রান্ত হন। এ জন্য আমরা বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর লক্ষণ ও প্রতিরোধের জন্য সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও ক্যাম্পেইন করেছি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।’

বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগ সবুজ পৃথিবী গড়তে শিশুদের স্বপ্নের বুনন

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগ সবুজ পৃথিবী গড়তে শিশুদের স্বপ্নের বুনন

একদল শিশুর উচ্ছ্বসিত পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। গাছের চারা, বাঁশ আর বেড়ার সামগ্রী পৌঁছাতেই কে আগে কোনটি হাতে নেবে তা নিয়ে শুরু হয় যেন আনন্দের প্রতিযোগিতা। সবার চোখেমুখে ছিল নতুন কিছু পাওয়ার উজ্জ্বল হাসি, হৃদয়ে ছিল সবুজ স্বপ্নের রঙ। ‘আমাদের বিদ্যালয়ে বাগান হবে, গাছে ফুটবে ফুল, ধরবে ফল, আরো সুন্দর হবে স্কুল’— ঠিক যেন মুখস্থ করা কোনো কবিতা আবৃত্তির মতো আবেগ নিয়ে কথাগুলো বলছিল শিক্ষার্থী জান্নাত। তার সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরাও একই স্বপ্নের সুরে কণ্ঠ মেলাচ্ছিল।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধাতুরপহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় একটি কোমলমতী শিশুদের সবুজ স্বপ্ন। ‘সবুজে সুন্দর আগামী’ স্লোগানকে সামনে রেখে বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগে বিদ্যালয়টিতে গড়ে তোলা হয় একটি দৃষ্টিনন্দন বাগান। বাগানে রোপণ করা হয় বিভিন্ন জাতের ফুল, ফল, পাতাবাহার ও লেবুসহ অর্ধশতাধিতক গাছ। চারপাশে দেওয়া হয় সুরক্ষিত বেড়া। একই সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় বসুন্ধরা টিস্যুর বক্স।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) দেবশ্রী পাল দীপা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘ফেসবুকে করা একটি মন্তব্য যে একদিন বাস্তবে একটি বাগানের রূপ নেবে, তা কখনো ভাবিনি। পাশের একটি বিদ্যালয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের বাগান তৈরির খবর দেখে আমাদের স্কুলেও এমন উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এজন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন–বৃক্ষপ্রেমী ও কৃষি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহমেদ খান। তিনি নিজ হাতে একটি গাছের চারা নিয়ে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গাছের পরিচিতি ও পরিবেশে তাদের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষকে প্রায়ই অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে হচ্ছে। পৃথিবীকে সবুজ করা ছাড়া এর কোনো বিকল্প নেই। সময়োপযোগী এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশার বার্তা বহন করছে।’

বিশেষ অতিথি আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন জলিল বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ মানেই ব্যতিক্রমধর্মী কিছু। পরিবেশ রক্ষায় এই বাগান কর্মসূচি নিঃসন্দেহে সময়ের দাবি।’

উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণের যে আহ্বান তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এমন আয়োজন অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। বাগানের জন্য আনা বেড়া কিছুটা কম হলে তিনি প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে আরো গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

পৌর যুবদলের সদস্য সচিব হুমায়ুন রহমান নয়ন বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই প্রত্যাশা।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন–বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা মো. সুমন মিয়া, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি জুটন বনিক, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার শাহীন, আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া, সাংবাদিক মো. হাবিবুর রহমান, আশীষ সাহাসহ এলাকার বিশিষ্টজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

সমগ্র আয়োজনের সমন্বয় করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু।