বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারে পরিচালি এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ ফ্লাইট দুর্ঘটনার পর মরদেহ রাখা মর্গে ঢুকে ভয়াবহ দৃশ্য দেখার কথা জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, এমন কিছু দৃশ্য তিনি জীবনে কখনো ভুলতে পারবেন না।
লন্ডনগামী বিমানটি ভারতের আহমেদাবাদে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিজে মেডিকেল কলেজের হোস্টেল ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় বিমানের ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রুসহ মোট ২৬০ জন নিহত হন। মাটিতেও ১৯ জন মারা যান। অলৌকিকভাবে মাত্র একজন যাত্রী বেঁচে যান।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন রোমিন ভোহরার খালা ইয়াসমিন, লন্ডনে অ্যামাজনে কর্মরত তার ভাই পারভেজ এবং তার তিন বছর বয়সী ভাগনি। ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোহরা বলেন, কোভিড মহামারির সময় তিনি আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালে প্যাথলজি ল্যাব সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেই পরিচয়ের কারণেই তিনি মর্গে ঢুকতে পেরেছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করার চেষ্টা করেন।
কিন্তু ভেতরে গিয়ে তিনি ভয়াবহ দৃশ্য দেখেন। তার ভাষায়, অনেক মরদেহ মেঝেতে পাশাপাশি রাখা ছিল। সেখানে বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাত-পা পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এক মায়ের পোড়া মরদেহের সঙ্গে তার শিশুটিও ছিল। এ ছাড়া একটি ছোট মেয়ের খুলি দেখে তিনি সেটি নিজের ভাগনির কি না, তা মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ একটি দৃশ্য তার মনে গেঁথে গেছে বলে জানান তিনি।
বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনা তদন্তে ককপিটের ভয়েস রেকর্ডিং নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে এক পাইলটকে অন্য পাইলটকে জিজ্ঞাসা করতে শোনা যায়, ‘আপনি কেন ইঞ্জিন বন্ধ করলেন?’ জবাবে অন্যজন বলেন, ‘আমি করিনি।’ এই কথোপকথনকে কেন্দ্র করে ধারণা তৈরি হয় যে পাইলটের ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে ক্যাপ্টেন সবরওয়ালের পরিবার এবং পাইলট সংগঠনগুলো এই প্রাথমিক বিশ্লেষণের তীব্র বিরোধিতা করেছে। ক্যাপ্টেনের ৮৮ বছর বয়সী বাবা পুষ্কররাজ সবরওয়াল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস-এর সঙ্গে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এ আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, প্রতিবেদনটি ত্রুটিপূর্ণ এবং পাইলটদের অন্যায়ভাবে দায়ী করা হচ্ছে, যারা এখন আর জীবিত নেই।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালত এই ধরনের ব্যাখ্যাকে ‘র্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছে। এদিকে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জনগণকে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তদন্তে কোনো ধরনের কারচুপি হয়নি এবং সবাইকে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যা আগামী মাসে প্রকাশের কথা রয়েছে।




