• ই-পেপার

আমিরের চেয়েও ভয়ংকর শাহীন আফ্রিদি, দাবি শহীদ আফ্রিদির

সেঞ্চুরির রাজা মুশফিক

ক্রীড়া ডেস্ক
সেঞ্চুরির রাজা মুশফিক
সেঞ্চুরির পর মুশফিকের দুই হাত উঁচিয়ে উদযাপন। ছবি : মীর ফরিদ, সিলেট থেকে

মিরপুর টেস্টেই সেঞ্চুরির রাজত্বটা দখল করতে পারতেন মুশফিকুর রহিম। ২৯ রানের সমীকরণ মেলাতে না পারায় তার আর হয়নি। তবে রাজত্বের রাজা হতে সময় নিলেন না সাবেক অধিনায়ক। 

সিলেট টেস্টেই রাজত্বের আসনে বসলেন মুশফিক। বাংলাদেশের হয়ে এখন টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক তিনি। ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটার পেছনে ফেললেন সতীর্থ মমিনুল হককে। আজকের আগ পর্যন্ত দুজনই ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন।

মুশফিক ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করেছেন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। তিন অঙ্ক স্পর্শ করতে যখন ১ রানের প্রয়োজন ঠিক তখনই মোহাম্মদ আব্বাসকে গালি দিয়ে চার মেরে রেকর্ড সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। রেকর্ড সেঞ্চুরি হলেও উদযাপনে ছিল না তেমন কোনো আতিশায্য। আকাশপানে গর্জন দিয়ে দুই হাত উঁচিয়ে নিজের উদযাপন শেষ করে জড়িয়ে ধরলেন সতীর্থ তাইজুল ইসলামকে। পরে সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সন্তুষ্টি নিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।

রেকর্ড সেঞ্চুরি করতেই মুশফিককে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান সতীর্থ-স্টাফসহ দর্শকরা। অবশ্য শুধু তাদের কাছ থেকেই নন, প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও করতালি কেড়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ১৭৮ বলে সেঞ্চুরি পাওয়া মুশফিক বর্তমানে ১০৬ রানে অপরাজিত আছেন। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১ ছক্কা ও ৯ চারে। 

মুশফিককে সঙ্গ দিচ্ছেন তাইজুল। বাঁহাতি স্পিনার অপরাজিত আছেন ২ চারে ১৯ রানে। সপ্তম উইকেটে তাদের জুটি দাঁড়িয়েছে ৬৪ রানের। তাতে বাংলাদেশের লিড ৩৮২ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৩৬ রান।

বাংলাদেশিদের মধ্যে যে রেকর্ড শুধুই লিটনের

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশিদের মধ্যে যে রেকর্ড শুধুই লিটনের
লিটন দাস। ছবি : মীর ফরিদ

সিলেট টেস্টে আরেকটি অনন্য কীর্তির খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত থামতে হয়েছে লিটন দাসকে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করে আউট হয়েছেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। সেঞ্চুরি না পেলেও গড়েছেন এক বিরল রেকর্ড, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটে শুধুই তার।

প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট করছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। দেখে মনে হচ্ছিল আরেকটি সেঞ্চুরি হয়তো সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু হাসান আলীর বলে ডিপ থার্ডম্যান দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ৬৯ রানে ফিরতে হয় তাকে।

এই ইনিংসে সেঞ্চুরি পেলে মমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর পর বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়তেন লিটন। তবে সেটি না হলেও অন্য এক জায়গায় ইতিহাস লিখেছেন তিনি।

বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করার ঘটনা আছে মোট তিনবার, আর তিনবারই করেছেন লিটন।

প্রথমবার ২০২১ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১১৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৯ রান করেছিলেন তিনি। এরপর ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে করেন ১৪১ ও ৫২ রান। আর এবার সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেললেন ১২৬ ও ৬৯ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

লিটন আউট, দুই ইনিংসে আর হলো না সেঞ্চুরি

ক্রীড়া ডেস্ক
লিটন আউট, দুই ইনিংসে আর হলো না সেঞ্চুরি
৬৯ রানের ইনিংস খেলেন লিটন দাস। ছবি : মীর ফরিদ, সিলেট থেকে

সিলেট টেস্টে আরেকটি দারুণ ইনিংস খেলেও সেঞ্চুরির দেখা পেলেন না লিটন দাস। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করে আউট হয়েছেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের স্কোর যখন ৫ উইকেটে ২৩৯, তখনই থামে লিটনের ইনিংস। হাসান আলীর করা ৬২তম ওভারের চতুর্থ বলে সৌদ শাকিলের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৯২ বলে ৫ চার মেরে ৬৯ রান করেন লিটন।

প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। তখনো ৫২ রানে থাকতে তার ক্যাচ ফেলেছিল পাকিস্তান। পরে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১২৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন লিটন।

আজও ভাগ্য সহায় ছিল তার। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৫ রানে থাকতে বোলার সাজিদ খান তার সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি। তখন অনেকেই ভাবছিলেন, হয়তো আবারও সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছেন লিটন।

এর আগে দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। খুররম শেহজাদের বলে দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভে চার মেরে ৬৭ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

অন্যদিকে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ৩০তম টেস্ট ফিফটি। তিনি এখনো অপরাজিত আছেন ৫৩ রানে।

লিটন আউট হলেও ম্যাচে এখনো শক্ত অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ২৮৫ রান।

মেসিদের সেদিন কাঁদিয়েছিল সৌদি আরব

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসিদের সেদিন কাঁদিয়েছিল সৌদি আরব
ফাইল ছবি

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটনের তালিকা করলে উপরের দিকেই থাকবে সৌদি আরবের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সেই হার। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল সৌদিদের অবিশ্বাস্য সেই জয়।

কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে। ১০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। প্রথমার্ধে আরো তিনবার বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেগুলো বাতিল হয়।

সবকিছু দেখে মনে হচ্ছিল সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিরতির পর বদলে যায় পুরো ম্যাচের গল্প।

৪৮তম মিনিটে সমতা ফেরান সালেহ আল শেহরি। এরপর মাত্র পাঁচ মিনিট পর দারুণ একক নৈপুণ্যে গোল করে সৌদিকে এগিয়ে দেন সালেম আল দোসারি। তার সেই বাঁকানো শট আজও বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে আলোচিত।

পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে ১৫টি শট নেয় মেসির দল, যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যভেদী। কিন্তু সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল ওয়াইস ছিলেন দুর্ভেদ্য। একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে এনে দেন ঐতিহাসিক জয়।

সেই হারেই থেমে যায় আর্জেন্টিনার টানা ৩৬ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রা। তবে ওই ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় মেসির দল। পরে মেক্সিকো ও পোল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এরপর নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতেন মেসিরা।

অন্যদিকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই জয় আজও সৌদি আরবের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে আছে।