রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারের হত্যার ঘটনা প্রত্যেক মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। এমন নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা স্তব্ধ করে দিয়েছে সাকিব আল হাসানকে। ৭ বছরের শিশু রামিসাকে নিয়ে আজ আবেগঘন পোষ্ট দিয়েছেন সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
রামিসার একটি স্কেচ ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সাকিব লিখেছেন, ‘একটি শিশুর কান্না শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, এটি পুরো সমাজের ব্যর্থতার প্রতিধ্বনি। যারা নিষ্পাপ শৈশবকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংসতায় ধ্বংস করে, তারা মানবতার শত্রু। ন্যায়বিচার বিলম্বিত মানেই অন্যায়ের সাহস বাড়ানো। রামিসার জন্য দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
অনেকটা সাকিবের সুরেই সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি লিখেছেন, ‘রামিসার মতো কত নিষ্পাপ প্রাণ হারিয়ে গেছে, সেই হিসেব হয়তো কেউ রাখবে না। কিন্তু এই নৃশংসতার শেষ চাই। বিচারহীনতার প্রতিটি ঘটনা অপরাধীদের সাহস বাড়ায়। এই ঘৃণিত অন্যায়ের দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। প্রতিটি শিশু বেড়ে উঠুক নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে, আনন্দে...।’
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বরের বি ব্লকের একটি বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোনের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ করেই সে নিখোঁজ হয়।
রামিসার মা ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে মেয়ের জুতো দেখতে পেয়ে পাশের ফ্ল্যাটে নক করেন। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় সন্দেহ বাড়ে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে খাটের নিচ থেকে ধড় এবং শৌচাগার থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে। হত্যার আগে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত সোহেল রানা। ঘটনার পর শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা।
পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে পেশায় রিকশা মেকানিক এবং দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা আলামত জব্দ করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহেল রানার স্ত্রীকে আটক করেছে।




