বিশ্বকাপ আসে, বিশ্বকাপ যায়, অনেক গোল হয়, কত ধরনের উদযাপন করতে দেখা যায়...কিন্তু এখনো কানে বাজে সেই কয়েকটি বাক্য, সেই কণ্ঠস্বর, ‘ইটস শাবালালা...গোল বাফানা বাফানা, গোল ফর সাউথ আফ্রিকা, গোল ফর অল আফ্রিকা। জাবুলিলা রিজয়েস!’
১১ জুন ২০১০। ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রথম গোলের পর বিশ্বখ্যাত ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরির মুখ থেকে বেরিয়েছিল কথাগুলো। সেই ম্যাচে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো। ১৬ বছর পর আজ আরেকটি ১১ জুনে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। কাকতালীয়ভাবে এবারও মুখোমুখি সেই দুই দল! পার্থক্য বলতে এবার মেক্সিকো স্বাগতিক, দক্ষিণ আফ্রিকা অতিথি।
ফুটবলের ইতিহাসের প্রথম ভেন্যু হিসেবে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনে প্রস্তুত মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়াম। গর্বে বুক ভরে যাওয়ার মতো ব্যাপার হলো, এ মাঠেই ১৯৭০ সালে পেলে এবং ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরেছিলেন। আজতেকায় বাংলাদেশ সময় আজ রাত সাড়ে ১১টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যখন সেসব স্মৃতি ফুটিয়ে তোলা হবে, মেক্সিকানরা তখন বিশ্বকাপে শুভ সূচনার প্রত্যাশায়ও থাকবে। অবশ্য বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অজেয় থাকাটা অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে মেক্সিকো। এমন সর্বশেষ সাত ম্যাচে হারেনি তারা। আরেকটি তথ্য দিলে স্বাগতিকদের তো আজ হারার কোনো প্রশ্নই আসে না। আজতেকায় এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে অপরাজিত মেক্সিকো (জয় ৫, ড্র ২)। শক্তিমত্তা, ইতিহাস, সাম্প্রতিক ফর্ম—সবকিছুতেই এবার দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ঢের এগিয়ে মেক্সিকো। ফিফা র্যাংকিংয়ে উত্তর আমেরিকার দেশটি আছে ১৪ নম্বরে, আফ্রিকার দেশটির অবস্থান ৬০ নম্বরে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে। তাতে মেক্সিকোর জয় দুটি, দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আর ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটা হয়েছিল ড্র। ওই বিশ্বকাপে মেক্সিকোর প্রধান কোচ হাভিয়ের আগিরে এবারও দলটির ডাগ আউটে দাঁড়াচ্ছেন। মজার ব্যাপার হলো, ১৬ বছর আগের ১১ জুন শাবালালার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মেক্সিকো যাঁর গোলে সমতা এনেছিল, সেই রাফায়েল মার্কেজ এখন দলের সহকারী কোচ। এ বছরের ফর্ম মেক্সিকানদের বহুগুণে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। ২০২৬ সালে আট ম্যাচ খেলে হারেনি আগিরের দল। ছয় জয়ের বিপরীতে ড্র দুটি। ড্র দুটি আবার যেনতেন দলের বিপক্ষে নয়। একটিতে প্রতিপক্ষ ছিল পর্তুগাল, অন্যটিতে বেলজিয়াম।
তবে উগো ব্রোসের দক্ষিণ আফ্রিকাকে একেবারে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। সর্বশেষ তিন বিশ্ব আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা দলটির এবার ফেরাটাই তো একটা অর্জন। এবার আয়োজক দেশের দর্শকদের সামনে অন্তত ১ পয়েন্ট তুলে নিতে পারলে তা হবে আরো বড় কিছু। ব্রোসের সম্ভাব্য ৪-২-৩-১ ফরমেশন সেই কথাই বলছে। আক্রমণভাগে তিনি রাখতে যাচ্ছেন শুধু একজনকে ইংলিশ ক্লাব বার্নলির ফরোয়ার্ড লাইল ফস্টার। রক্ষণ আর মাঝমাঠ জমাট রেখে স্বাগতিকদের রুখে দেওয়াই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য। আগিরে একাদশ সাজাতে পারেন ৪-৩-৩ ছকে। মেক্সিকোরও মূল স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যাবে ইংলিশ ক্লাব ফুলহামের রাউল হিমেনেজকে। তাঁর দুই পাশে থাকতে পারেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস ও রবার্তো আলভারাদো। আপন নীড়ে জয়ের সুবাস বইয়ে দিয়েই যে বিশ্বকাপ শুরুর লক্ষ্য মেক্সিকোর, তা না বললেও চলছে। সুপার কম্পিউটারের বাজিও স্বাগতিকদের পক্ষে। আজতেকায় এখন মেক্সিকান ঢেউ দেখার অপেক্ষা।
মেক্সিকোর সম্ভাব্য একাদশ
রানহেল, গালার্দো, আলভারেজ, মন্তেস, রেয়েস, গুতিয়েরেস, লিরা, ফিদালগো, কিনিয়োনেস, হিমেনেজ, আলভারাদো।
দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য একাদশ
উইলিয়ামস, মুদায়ু, ওকোন, এমবোকাজি, মোদিবা, মোকোয়েনা, অ্যাডামস, অ্যাপোলিস, জোয়ানে, মোরেমি, ফস্টার।




