ব্রাজিল ১-১ মরক্কো
এই ম্যাচ নিয়ে আলোচনা চলছিল বিশ্বকাপ ড্রয়ের পর থেকেই। গত কয়েক মাসে ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল বহুল কাক্ষিত।
এক দল আছে ফিফা র্যাংকিংয়ের ছয় নম্বরে, আরেক দল সাতে। স্বাভাবিকভাবেই এবারের আসরে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে বড় ম্যাচ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচটি হয়েই গেল। কিন্তু কেউ জিতল না।
মরক্কোর সঙ্গে হতাশার ড্রয়ে ‘হেক্সা অভিযান’ শুরু করল ব্রাজিল। ম্যাচের ২১ মিনিটে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিয়ে মরক্কোকে এগিয়ে দেন ইসমায়েল সাইবারি। ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বুলেট গতির চোখ ধাঁধানো শটে সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
কোনো রকম ১ পয়েন্ট পেলেও ব্রাজিলের সমর্থেকরা এই ম্যাচ যত দ্রুত সম্ভব, ভুলে যেতে চাইবেন। কারণ, ভিনির ওই গোল আর দুই-একটা সুযোগ তৈরি ছাড়া ব্রাজিলিয়ানদের সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কয়েক দফা বলের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছে। অনেকে তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলতে শুরু করেছে, বড্ড বাজে খেলে ড্র করল কার্লো আনচেলত্তির দল।
উল্টো মরোক্কানদের বরাবরই গোলের জন্য ক্ষুধার্ত মনে হয়েছে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটা পেয়েই গেয়েছিল সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। ভাগ্যিস, ব্রাজিল গোলকিপার আলিসন বেকার সময়মতো বাঁ দিকে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন!
ম্যাচের শুরু থেকেই গোছালো ফুটবল উপহার দিয়েছে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজ মাঝমাঠ থেকে বারবার ব্রাজিলের রক্ষণ কাঁপাচ্ছিলেন। ৭ মিনিটে নিল এল আয়নাউয়ির শট ব্লক করেন ব্রুনো গিমারায়েস।
তবে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটা ব্রাজিলই তৈরি করেছিল। ১৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের দারুণ এক ক্রসে ইগোর থিয়াগো ঠিকভাবে বলে মাথা ছোঁয়াতে পারলেই গোল হতো। কিন্তু অনেকটা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ব্রাজিলের শুরুর একাদশে জায়গা করে নেওয়া এই ফরোয়ার্ড ব্যর্থ হয়েছেন।
১৭ মিনিটে মরক্কো এগিয়ে যায়। দিয়াজের অসাধারণ থ্রু বলে সাইবারি একা পান ব্রাজিল গোলকিপার আলিসনকে। বিপদ আঁচ করতে পেয়ে আলিসন এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সাইবারি ঠান্ডা মাথায় তাকে লব করে বল জালে পাঠালেন।
৩২ মিনিটে জবাব দেন ভিনিসিয়ুস। রাফিনিয়ার পাস পেয়ে বক্সের বাঁ দিক থেকে ডান পায়ে টপ কর্নারে বুলেট গতির শট নেন। মরক্কো গোলকিপার ইয়াসিন বুনু পুরো শরীর মেলেও তা রুখতে পারেননি। ব্রাজিলের হয়ে এটি ছিল ভিনির ৫০তম ম্যাচ, যা তিনি স্মরণীয় করে রাখলেন হার এড়ানো এক গোল করে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে কাসেমিরো ও রজার ইবানিয়েজ হলুদ কার্ড দেখেন। বিরতির পরেই এই দুজনকে তুলে নেন আনচেলত্তি। মাঠে নামেন ফাবিনিও এবং দানিলো।
৬৭ মিনিটে গিমারায়েসের ক্রসে রাফিনিয়া অল্পের জন্য বলের স্পর্শ পাননি। ৭৮ মিনিটে রাফিনিয়ার শট আটকে দেন বুনু। শেষ মিনিটগুলোতে আলিসনকে দুটি কঠিন সেভ করতে হয়েছে। বাইরে থেকে একটি কার্লার এবং একটি ক্লোজ রেঞ্জের শট। এর একটি জালে ঢুকলেই সর্বনাশ হয়ে যেত ব্রাজিলের।
তবে শুরুতেই মরোক্কানরা ব্রাজিলিয়ানদের যে ধাক্কা দিল, সেটাই বা কম কী!




