বিশ্বকাপের ইতিহাসে কিছু ম্যাচ আছে, যেগুলো শুধু একটি ফুটবল লড়াই নয় বরং স্মৃতি, আবেগ আর অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প। ২০২৬ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ দিনে এমনই এক গল্পের নতুন অধ্যায় লিখতে নামছে ফ্রান্স ও সেনেগাল।
২৪ বছর আগে যে সেনেগাল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে কাঁদিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল, সেই দুই দল আবার মুখোমুখি।
২০০২ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। তখনকার শিরোপাধারী ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বে ঝড় তোলে আফ্রিকার নবাগত সেনেগাল। পাপা বুবা দিয়পের সেই গোল এখনও আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সেই জয়ের স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছে ‘তেরাঙ্গার সিংহরা’। এবারের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আজ রাত ১টায়, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
কাগজে-কলমে অবশ্য ফেবারিট ফ্রান্সই। বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার দলটি মাঠে নামছে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, এনগোলো কন্তে এবং উইলিয়াম সালিবাদের নিয়ে। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে এমবাপ্পের গোলখরা এবং দলের কিছু অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা থামছে না।
অন্যদিকে সেনেগালও আর আগের সেই ‘আন্ডারডগ’ নয়। অধিনায়ক কালিদু কুলিবালি, গোলরক্ষক এদুয়ার মঁদি এবং উইঙ্গার ইসমাইলা সারদের নিয়ে বেশ শক্তিশালী দল গড়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। দলের কোচ পেপ থিয়াও নিজেও ছিলেন ২০০২ সালের সেই ঐতিহাসিক দলের সদস্য। এবার বেঞ্চে থাকবেন কোচ হিসেবে।
থিয়াও অবশ্য ‘অঘটন’ শব্দটি মানতে নারাজ। তার মতে, বর্তমান আফ্রিকান ফুটবল এতটাই এগিয়ে গেছে যে ফ্রান্সকে হারানো আর বিস্ময় হিসেবে দেখা উচিত নয়।
বিশ্বকাপের ষষ্ঠ দিনে শুধু ফ্রান্স সেনেগাল ম্যাচই নয়, মাঠে নামছে আরও কয়েকটি বড় দল। নিজেদের শিরোপা রক্ষার মিশন শুরু করবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। একই দিনে দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে আর্লিং হালান্ডর নরওয়ে, তাদের প্রতিপক্ষ ইরাক।
তবে দিনের সব আলো যেন এক ম্যাচেই আটকে আছে ফ্রান্স বনাম সেনেগাল। কারণ এটি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়; এটি অতীত আর বর্তমানের মুখোমুখি হওয়া, স্মৃতির সঙ্গে বাস্তবতার সংঘর্ষ।
২৪ বছর আগে সেনেগাল বিশ্বকে দেখিয়েছিল, ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। এবারও কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে? নাকি এমবাপ্পের ফ্রান্স শুরু করবে শিরোপা জয়ের নতুন যাত্রা? উত্তর মিলবে নিউইয়র্কে আজকের রাতেই।




