• ই-পেপার

‘সোনালি প্রজন্ম’ নেই, নতুন বেলজিয়ামেই লুকাকুর আশাবাদ

১৯ বছর পর বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া

অনলাইন ডেস্ক
১৯ বছর পর বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর জমে উঠেছে। শিরোপার লড়াইয়ে শামিল হতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মাঠে নামছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বুধবার  (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

এই ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসের কারণে। পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া এর আগে মাত্র একবারই একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই দুই দল। মজার ব্যাপার হলো, এবারই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে লড়বে তারা।

দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতের স্মৃতিটি ২০০৭ সালের জুনের। স্পেনের বার্সেলোনার ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৪-৩ গোলে আলজেরিয়াকে পরাজিত করেছিল। সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের তৎকালীন তরুণ তারকা লিওনেল মেসি জোড়া গোল করেছিলেন। এ ছাড়া বাকি দুটি গোল করেছিলেন কার্লোস তেভেজ ও এস্তেবান কাম্বিয়াসো।

২০০৬ থেকে ২০২৬ : বিশ্বকাপ মঞ্চে শেষ অধ্যায়ের অপেক্ষায় মেসি :

প্রায় দুই দশক আগের সেই সুখস্মৃতি নিয়ে এবার আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা। যদিও ইতিহাস ও সামর্থ্যের বিচারে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই এগিয়ে, তবু আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রস্তুতি ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ২৭ নম্বরে থাকা আলজেরিয়া।

শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা যেমন তাদের নতুন মিশনের সূচনা করতে যাচ্ছে, তেমনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য আলজেরিয়ার সামনে এটি একটি বড় মঞ্চ। কানসাস সিটির এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।

স্পেনকে রুখে দেওয়া সেই কেপ ভার্দের জার্সিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’

অনলাইন ডেস্ক
স্পেনকে রুখে দেওয়া সেই কেপ ভার্দের জার্সিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই পরাশক্তি স্পেনকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। তবে এই ঐতিহাসিক অর্জনের পেছনে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের নামও।

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে কেপ ভার্দে জাতীয় দলের ফুটবলাররা যে জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন, তা সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের কারখানায়। জার্সির গায়ে গর্বের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এই জার্সির মূল ফেব্রিক্স বা কাপড়টি তৈরি হয়েছে ঢাকার ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন বাংলাদেশের নিজস্ব কারখানায়। পরবর্তীতে সেই ফেব্রিক্স ব্যবহার করে চূড়ান্ত জার্সিটি প্রস্তুত করেছে জার্মান স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড কাপেলি স্পোর্ট।

ঢাকায় অবস্থিত তাদের নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারিং এবং অ্যাসেম্বলিং ফেসিলিটিতে এই পোশাক তৈরি হয়।

‘গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড’-এর ম্যানেজার সৌমিক বর্মণ দেশের এক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কেপ ভার্দে জাতীয় দলের জার্সিগুলো বাংলাদেশে তৈরি এবং এগুলোতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ রয়েছে।

২০১৯ সাল থেকে কাপেলি স্পোর্টস তাদের নিয়মিত বায়ার এবং তখন থেকেই তারা এই অর্ডারগুলো সামলাচ্ছেন। ঢাকার উত্তরা এলাকায় এই কারখানাটি অবস্থিত।

একই সঙ্গে ইয়াংওয়ানের একজন কর্মকর্তা জানান, জার্মান ব্র্যান্ড কাপেলি স্পোর্টস মূলত জার্সিটি বানিয়েছে। ঢাকায় তাদের নিজস্ব প্রোডাকশন ফেসিলিটি রয়েছে। ইয়াংওয়ান শুধু তাদের উন্নতমানের ফেব্রিক্স সরবরাহ করেছে এবং তাদের কাপড়ের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে এই ঐতিহাসিক জার্সি।

পোশাকের বাইরে মাঠের লড়াইয়েও ইতিহাস গড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি। স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের একের পর এক আক্রমণ একাই নসাৎ করে দেন কেপ ভার্দের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ভোজিনহা। পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেন বলের দখল নিয়ন্ত্রণে রাখলেও এবং দ্বিতীয়ার্ধে তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালসহ একঝাঁক আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় নামালেও, ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের দেয়াল তারা ভাঙতে পারেনি।

‘ব্লু শার্কস’ খ্যাত কেপ ভার্দের এই জয়ের নায়ক ম্যাচজুড়ে মোট ৭টি অবিশ্বাস্য সেভ করেন। এর মধ্যে মিকেল ওয়ারজাবালের জোরালো হেডার বারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেওয়া এবং ফেরান তোরেস ও এমেরিক লাপোর্তের নিশ্চিত গোলের শট আটকে দেওয়া ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

এই ম্যাচের মাধ্যমে ভোজিনহার ক্যারিয়ারেও একটি অনন্য মাইলফলক যুক্ত হলো। ৪০ বছর বয়সে এসে ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটিয়ে তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ অভিষিক্ত খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। এই তালিকায় ৪৫ বছর বয়সে অভিষেক করে সবার ওপরে রয়েছেন মিশরের কিংবদন্তি গোলরক্ষক এসাম এল হাদারি।

গোলের পর ইরানি খেলোয়াড়ের মুখঢাকা উদযাপনের রহস্য!

অনলাইন ডেস্ক
গোলের পর ইরানি খেলোয়াড়ের মুখঢাকা উদযাপনের রহস্য!
গোল করার পর জার্সিতে মুখ ঢেকে ইরানি খেলোয়াড় রামিন রেজাইয়ানের সেই উদযাপন। ছবি : সংগৃহীত।

মাঠ ও মাঠের বাইরের চাপ সামলে বিশ্বকাপে নিজেদের শুরুটা রাঙাতে পারেনি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান। আজ মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ২-২ গোলে সমতায় থেকে মাঠ ছাড়তে হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে। 

নিউজিল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেন এলিজাহ জাস্ট। এর বিপরীতে ইরানের হয়ে গোল শোধ করেন রামিন রেজাইয়ান ও মোহাম্মদ মোহেবি।

এদিন ৩২ মিনিটে ইরানের হয়ে প্রথম গোলটি করেন রামিন রেজাইয়ান। গোল করা পরই দর্শকের দিকে ছুটে গিয়ে জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে দেন তিনি।

ম্যাচ শেষে এমন উদযাপনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সম্প্রচার ক্যামেরায় তিনি বলেন, ‘এটা কিছুটা রাজনৈতিক ছিল। এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’

এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির সময় সোফাই স্টেডিয়ামের বাইরে প্রবাসী ইরানিদের একটি অংশ বিক্ষোভ করে, যারা দেশটির বর্তমান শাসনকাঠামোর বিরোধী। 

বিক্ষোভকারীদের ইঙ্গিত করে রেজাইয়ান বলেন, ‘আমরা এখানে ফুটবল নিয়ে কথা বলতে এসেছি। যদি আমাদের মধ্যে (ইরানি দর্শক) কোনো সমস্যা থাকে, সেটা আমাদের ভেতরের ব্যাপার।’

উল্লেখ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর মাঠে নামে ইরান। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৩৬ ঘণ্টা আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়। ম্যাচ শেষে তাদের আবার মেক্সিকোর বেস ক্যাম্পে ফিরে যেতে বলেছে ফিফা। তবে মাঠের খেলায় তার প্রভাব পড়তে দেননি ইরানি ফুটবলাররা। লস অ্যাঞ্জেলসে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দুই দল।

হাইড্রেশন ব্রেক : পানি পান না বিজ্ঞাপন বিরতি?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
হাইড্রেশন ব্রেক : পানি পান না বিজ্ঞাপন বিরতি?

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব খেলার নিয়ম-কানুনেই যুগান্তকারী সব পরিবর্তন এসেছে। এখন খেলোয়াড়দের সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একবার ভাবুন তো ক্রিকেটে এখন ব্যাটসম্যানদের যতটা সুরক্ষা দেওয়া হয়, স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের আমলে সেটা থাকলে তার রান কত হতো, আর গড় কত হতো!

ফুটবলেও খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দিতে ফাউলের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ক্রিকেটে যেমন টিভি আম্পায়ারের মাধ্যমে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএস চালু হয়েছে। ফুটবলেও এসেছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর। আম্পায়ার বা রেফারি তার সিদ্ধান্ত আরো নিখুঁত করার জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নেন। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা যেমন নিশ্চিত হয়েছে, কমে এসেছে ভুলের সংখ্যাও।

নতুন নতুন অনেক নিয়মকেই খেলোয়াড় ও দর্শকরা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এবারের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে হুট করে চালু হওয়া ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। এত দিন ফুটবল ছিল দুই অর্ধের খেলা। ৯০ মিনিটের খেলায় মাঝখানে ১৫ মিনিটের বিরতি থাকত। কিন্তু এবার প্রতি ম্যাচে প্রথমার্ধের ২২ মিনিটে ও দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে ৩ মিনিট করে হাইড্রেশন ব্রেক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দুই ভাগের ফুটবল এখন চার ভাগের হয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না হলেও ভারতের আইপিএলসহ বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগে স্ট্র্যাটেজিক টাইম আউটের নিয়ম চালু আছে। বাস্কেটবল, আমেরিকান ফুটবলেও টাইমআউটের প্রচলন আছে। তবে ফুটবলে বাধ্যতামূলক ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ এবারই প্রথম।

এর আগে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস বনাম মেক্সিকোর মধ্যকার নকআউট ম্যাচের ৩২ ও ৭৬তম মিনিটে ৩ মিনিট করে কুলিং ব্রেক দিয়েছিলেন রেফারি। তখন ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা হলে রেফারি চাইলে কুলিং ব্রেক দিতে পারতেন। এবারের বিশ্বকাপে সেই কুলিং ব্রেক ফিরেছে হাইড্রেশন ব্রেক নামে এবং তাপমাত্রা যা-ই হোক, এমনকি ছাদ বন্ধ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাঠেও হাইড্রেশন ব্রেক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখানেই সবাই বাণিজ্যের গন্ধ পাচ্ছেন।

হাইড্রেশন ব্রেক চালুর যুক্তি হিসেবে অবশ্যই স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি ঢাল হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। ফিফার দাবি, খেলোয়াড়দের পানিশূন্যতা, ক্লান্তি এবং তাপজনিত শারীরিক ঝুঁকি কমাতে এই বিরতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটা ঠিক আধুনিক ফুটবল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুতগতির, খেলোয়াড়রাও মাঠে অনেক বেশি দৌড়ান। নির্দিষ্ট বিরতিতে শরীরকে রিহাইড্রেট করতে পারলে খেলোয়াড়দের ইনিজুরি প্রবণতা কমে আসবে। হাইড্রেশন ব্রেক চালুর পক্ষে যুক্তি অকাট্য সন্দেহ নেই। মনে হতে পারে, খেলোয়াড়দের ভালোর কথা ভেবে ফিফার বুঝি ঘুম হারাম।

তাহলে হাইড্রেশন ব্রেক চালুর আগে কি প্রয়োজনে পানি খেতে পারতেন না? অবশ্যই পারতেন। আগে থ্রো-ইন, কর্নার কিক বা কোনো খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়লে অন্য খেলোয়াড়রা প্রয়োজনমত সাইডলাইনে দৌড়ে গিয়ে পানি খেয়ে আসতেন। অনেক সময় কোচিং স্টাফ বা মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা সাইডলাইন থেকে মাঠের ভেতরে বোতল ছুড়ে দিতেন। আর গোলকিপাররা সব সময়ই তাদের পোস্টের পেছনে পানির বোতল রাখার অনুমতি পেতেন। তবে আগে পানি খাওয়ার জন্য খেলা থামানো হতো না। তাই পানি পানের জন্য খেলায় কোনো বাড়তি সময় লাগতো না, খেলার গতিও নষ্ট হতো না।

এ জন্যই সবার সন্দেহ আসলে খেলোয়াড়দের ভালোর নামে আসলে বাণিজ্যিক কারণেই এই অপ্রয়োজনীয় ব্রেক বাধতামূলক করা হয়েছে। হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। এতদিন নাটক, সিনেমা, খবরের মাঝে বিজ্ঞাপন বিরতি থাকতো। এখন সরাসরি খেলার মাঝেও কি তবে বিজ্ঞাপন দেখতে হবে? শুধু সাধারণ দর্শক নন, খেলোয়াড় এবং কোচরাও তাদের বিরক্তি লুকাননি। 

এবারের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক গত রবিবার তাদের প্রথম ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘প্রতিবার যখন এই বিরতির সুযোগে টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, সত্যি বলতে এটা আমার একদমই পছন্দ নয়।’

লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপেরও হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে তীব্র আপত্তি। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘স্পনসরদের সুবিধার জন্য তৈরি করা এই বিরতি খেলার গতি নষ্ট করবে।’

ফুটবল হলো গতি আর ছন্দের খেলা। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। কোনো দল যখন আক্রমণে যায়, তখন খেলায় তারা একটি মোমেন্টাম পায়। বারবার বিরতি খেলার সেই মোমেন্টাম নষ্ট করে। আচমকা খেলার গতি থেমে যায়, ছন্দ হারিয়ে যায়। এই বাড়তি বিরতিতে খোলোয়াড়দের ফোকাসও নষ্ট হয়ে যায়।

ফুটবল এখন যতটা খেলা, তারচেয়ে বেশি বাণিজ্য। টেলিভিশন আর অনলাইনে বিশ্বের প্রতিটি কোনায় সম্প্রচারিত হয় বিশ্বকাপ ফুটবল। কোটি কোটি দর্শক বুঁদ হয়ে খেলা দেখেন। গ্লোবালাইজেশনের নামে ফিফা এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। তবে গ্লোবালাইজেশনের সাথে সাথে কমার্শিয়ালাইজেশনটাও হচ্ছে ভালো। প্রতি ম্যাচে বাড়তি ৬ মিনিটের বিরতিতে বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে সম্প্রচারকারীরা। তাকে ফিফার আয় বাড়বে হাজার কোটি টাকা।

সবার এখন প্রশ্ন, বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেকের নামে এই ৬ মিনিটের বিরতি কি পানি পানের জন্য না বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য?