• ই-পেপার

প্রবীণ স্কোরার আব্দুর রউফ আর নেই

মেসির বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কি গুজব ছড়ানো হচ্ছে

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কি গুজব ছড়ানো হচ্ছে
মা-বাবার সঙ্গে লিওনেল মেসি। ছবি: ফেসবুক

আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে তিনটি গোলই করেছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সেও বুঝিয়ে দিয়েছেন, এখনো তিনি সেরাদের সেরা। 

তবে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের পরও মাঠে কেঁদেছেন মেসি। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছিল, ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

পরবর্তীতে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয় লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি অসুস্থ। এ কারণে ম্যাচের পর মাঠেই কান্না করেছিলেন। 

বিশ্ব মিডিয়াতেও এ নিয়ে আরো খবর বের হয়। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে এই খবরটি ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়। এ নিয়ে অবশেষে অবস্থান পরিষ্কার করেছে মেসির পরিবার। 

মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে গত রাতে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি বর্তমানে স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন, ‘এই মুহূর্তে তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন, সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং শারীরিক অবস্থার ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে।’

মেসির পরিবার আরো জানিয়েছে, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় যে ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছে, তা নিয়ে আমরা চরম অসন্তুষ্ট। কিছু মানুষ একটি পারিবারিক বিষয়কে যে অসংবেদনশীলতা, অসম্মান ও গোপনীয়তাকে তোয়াক্কা না করে উপস্থাপন করেছে, তা দুঃখজনক।’

৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসির প্রকৃত শারীরিক অবস্থার সঠিক তথ্য শুধু তার নিকটাত্মীয়রাই জানেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘এই সময়ে আমরা দায়িত্বশীলতা, সংযম এবং মানবিকতার আহ্বান জানাই। একজন মানুষের স্বাস্থ্য এবং তার পরিবারের মানসিক অবস্থা যেন জল্পনা-কল্পনা বা দায়িত্বহীন সংবাদ প্রচারের বিষয় না হয়।’

গ্রুপ পর্বে মেসির আর্জেন্টিনার পরের ম্যাচ আগামী ২২ জুন; প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ডেভিডের হ্যাটট্রিক, কাতারকে বিধ্বস্ত করে ঐতিহাসিক জয় কানাডার

ক্রীড়া ডেস্ক
ডেভিডের হ্যাটট্রিক, কাতারকে বিধ্বস্ত করে ঐতিহাসিক জয় কানাডার
কানাডিয়ানদের গোল উদযাপন। ছবি: ফিফা

কানাডা ৬-০ কাতার

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম উন্মাদনা নাকি কানাডাকে নিয়ে। এমনকি কানাডা এবারের আসরে সহ-আয়োজক হওয়ার পরেও।

কিন্তু ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসের লাল সমুদ্র দেখলে কে বলবে, কানাডায় বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা নেই! ঘরের মাঠের সেই সমর্থন পেয়েই ডেভিড-লারিন-কোনেরা জ্বলে উঠলেন। একটি-দুটি নয়; গুনে গুনে কাতারকে ছয় গোল দিল স্বাগতিকরা। তাতে কাতারিদের ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে অবশেষে প্রথম জয়ের দেখা পেল কানাডিয়ানরা। 

ঐতিহাসিক এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান জোনাথান ডেভিডের। জুভেন্টাসের এই ফরোয়ার্ড হ্যাটট্রিক করে জিওফ হার্স্টের ৬০ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়েছেন। বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের খেলোয়াড় হিসেবে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইংলিশ কিংবদন্তি হার্স্ট; লন্ডনের ওয়েম্বলিতে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ১৯৬৬ আসরের ফাইনালে।

এর আগেও দুবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছে কানাডা৥১৯৮৬ ও ২০২২ সালে। দুবারই তিনটি করে মোট ছয় ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। 

তবে এবার দেশের মাটিতে যেন ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে খেলতে নেমেছে কানাডা। গত ১২ জুন টরন্টোয় নিজেদের প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পায় কানাডিয়ানরা। আজ ভ্যাঙ্কুভারে সর্বশেষ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারে গুড়িয়ে ঐতিহাসিক জয়ও পেল। 

চোট থেকে পুরোপুরি না ওঠায় এ ম্যাচেও খেলতে পারেননি কানাডার অধিনায়ক আলফনসো ডেভিস। তবে তার অনুপস্থিতি দলের খেলায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। 

বসনিয়ার বিপক্ষে যার গোলে কানাডা ম্যাচে সমতা এনে শেষ পর্যন্ত ড্র করেছিল, ১৬ মিনিটে সেই কাইল লারিনের গোলেই আজ এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। 

গোল উৎসবের সেই যে শুরু; তা রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় ছিল। দুই লাল কার্ডে কাতার ৯ জনের দলে পরিণত হওয়ায় কানাডার কাজটা আরো সহজ হয়েছে। ৩৩ মিনিটে হোমাম আহমেদ ও ৫৩ মিনিটে আসিম মাদিবোকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করেন রেফারি। 

হ্যাটট্রিকে সব আলো কেড়ে নেওয়া জোনাথান ডেভিড প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করেন। তৃতীয় ও শেষ গোলটা করেন ম্যাচের যোগ করা সময়ে। কানাডার আরেক গোলদাতা নাথান সালিবা। আর ৭৫ মিনিটের গোলটা কাতারের দেওয়া ‘উপহার’। মোহাম্মদ মানাই নিজেদের জালে বল জড়ান। 

২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে কানাডা। সুইজারল্যান্ডেরও পয়েন্ট ৪। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দুইয়ে আছে সুইসরা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

সুইজারল্যান্ডের কাছে পাত্তা পেল না বসনিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডের কাছে পাত্তা পেল না বসনিয়া
সুইজারল্যান্ডের মানজাম্বি জোড়া গোল করেছেন। ছবি: ফিফা

সুইজারল্যান্ড ৪-১ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা

বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল সুইজারল্যান্ড। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল খেয়েছিল সুইসরা। 

লস অ্যাঞ্জেলেসে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আজও যোগ করা সময়ে গোল খেয়েছে সুইজারল্যান্ড। তবে এবার ২৩ মিনিটের ব্যবধানে তারা করেছে চার গোল! তাতে বসনিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে সুইজারল্যান্ড।

ম্যাড়মেড়ে ম্যাচের সব রোমাঞ্চ যেন জমিয়ে রাখা হয়েছিল শেষের জন্য। ৭৪ মিনিটে ডেডলক ভাঙে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত সময়ের বাকি ১৬ মিনিটে আরো দুবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপায় সুইসরা। যোগ করা সময়ে দুই দলই পায় জালের দেখা। 

সুইজারল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেছেন ইয়োহান মানজাম্বি। একাবার করে জাল খুঁজে পেয়েছেন দলটির লেফট উইঙ্গার রুবেন ভারগাস ও অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। বসনিয়ার হয়ে এক গোল পরিশোধ করেন এমিন মাহমিচ।

এ জয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রাউন্ড অব থার্টি টু-এর পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে সুইজারল্যান্ড। 

চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে বাছাই পর্বের প্লে-অফ থেকে বিদায় করে বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয়বারের মতো পা রাখে বসনিয়া। এই আসরে প্রথম ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডার বিপক্ষে ড্র করে শুরুটা মন্দ করেনি পূর্ব ইউরোপের দেশটি। 

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও শুরু থেকে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যায় বসনিয়া। নির্ধারিত সময়ের ১৬ মিনিট আগ পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রেখে মহামূল্যবান ১ পয়েন্টের আশায় ছিল দলটি। তবে শেষের রোমাঞ্চ জিতে নিয়েছে সুইসরা।

ভিসা-টিকিট বিতর্ক ছাপিয়ে বিশ্বকাপে দর্শকের ঢল

ক্রীড়া ডেস্ক
ভিসা-টিকিট বিতর্ক ছাপিয়ে বিশ্বকাপে দর্শকের ঢল
সংগৃহীত ছবি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর আগে ভিসা ও টিকিট নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন গল্প। গ্রুপ পর্বের প্রথম ২৪টি ম্যাচ শেষে দেখা গেছে, গড়ে প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ স্টেডিয়াম ভর্তি থাকছে দর্শকে। মোট উপস্থিত দর্শক সংখ্যা ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি দর্শক উপস্থিত ছিল মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচে ৮০ হাজার ৮২৪ জন দর্শক উপস্থিত ছিল।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচে ৮০ হাজার ৬৬৩ এবং ফ্রান্স-সেনেগাল ম্যাচে ৮০ হাজার ৫৪৫ দর্শকের উপস্থিতি ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় সমাগমগুলোর মধ্যে অন্যতম। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে, হাইতি-স্কটল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া-তুরস্ক, আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, পর্তুগাল-কঙ্গো ডিআর এবং উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া ম্যাচেও প্রায় শতভাগ দর্শক উপস্থিতি দেখা গেছে।

এছাড়া সোফি স্টেডিয়াম, মেটলাইফ স্টেডিয়াম, জিলেট স্টেডিয়াম এবং বিএমও ফিল্ডসহ বেশ কয়েকটি ভেন্যুতেও ৯৮ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত দর্শক উপস্থিতি দেখা গেছে।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, শুধু মাঠেই নয় প্রথম রাউন্ডের এই ২৪টি ম্যাচ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন দর্শক টিভি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপভোগ করেছেন।