দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বকে বিস্মিত করে চলেছেন লিওনেল মেসি। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে নিজের নামকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এবার তার সামনে অপেক্ষা করছে আরো একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
গ্রুপ ‘জে’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ রাতে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচে গোল করতে পারলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে একক মালিকানা পাবেন মেসি।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ক্যারিয়ারের ৬১তম হ্যাটট্রিক করেছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। সেই ম্যাচে করা তিন গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের সমান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে একটি গোলই মেসিকে নিয়ে যাবে সবার ওপরে।
শুধু তাই নয়, গোল করতে পারলে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করা মাত্র তৃতীয় ফুটবলারও হবেন মেসি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতেন এবং ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের জর্জিনহো।
৩৮ বছর বয়সেও মেসির প্রভাব কমেনি একটুও। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ১০টি শটের মধ্যে আটটিতেই সরাসরি অবদান ছিল তার। ছয়টি শট নিজে নিয়েছেন, তৈরি করেছেন আরো দুটি সুযোগ। তবে শুধু মেসিই নন, আর্জেন্টিনার শক্তিশালী মিডফিল্ড ও রক্ষণভাগও ছিল প্রশংসার দাবিদার। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজের নেতৃত্বে মাঝমাঠ এমন নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছে যে পুরো ম্যাচে আলজেরিয়া একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
অন্যদিকে, জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রিয়া। টানা চার ম্যাচে জয়ের ধারায় থাকা ইউরোপীয় দলটি এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে।
অস্ট্রিয়ার তরুণ মিডফিল্ডার পল ওয়ানার বলেন, ‘আমরা জানি আর্জেন্টিনা কতটা শক্তিশালী দল। তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সম্মান আছে। তবে নিজেদের সামর্থ্যের ওপরও আমরা বিশ্বাস রাখি। আমরা যদি নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে যেকোনো দলকেই সমস্যায় ফেলতে পারব।’
তবে ম্যাচের আগে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে অস্ট্রিয়া। অধিনায়ক ডেভিড আলাবা, স্টেফান পোশ ও আলেসান্দ্রো শপফ আলাদা অনুশীলন করেছেন এবং তাদের খেলা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও রক্ষণভাগে গনসালো মন্টিয়েলের চোট নিয়ে চিন্তিত।
এই ম্যাচে জয় পেলে এবং অন্য ম্যাচে জর্ডান আলজেরিয়াকে হারাতে না পারলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করবে আর্জেন্টিনা।




