• ই-পেপার

সিডনি থেকে লন্ডন একটানা, ২২ ঘণ্টার ফ্লাইট চালু করছে কান্তাস

যে জাদুঘর মানুষের ঘর ছাড়ার ইতিহাস বলে

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
যে জাদুঘর মানুষের ঘর ছাড়ার ইতিহাস বলে
সংগৃহীত ছবি

প্যারিসকে অনেকে প্রেমের শহর বলেন। কেউ বলেন আলোর শহর। কিন্তু শহরটির আরেকটি পরিচয় আছে, যা চোখে পড়ে না। সেটি হলো মানুষের শহর। নানা ভাষা, নানা বর্ণ, নানা ভূখণ্ড থেকে আসা মানুষের দীর্ঘ পদচারণায় গড়ে ওঠা এক বিশাল মানবকাব্য।

সেই কাব্যের পাতাগুলো ছুঁয়ে দেখা যায় প্যারিসের জাতীয় অভিবাসন ইতিহাস জাদুঘরে। ফরাসি নাম ‘মুজে নাসিওনাল দ্য লিস্তোয়ার দ্য লিমিগ্রাসিওঁ’। ২০০৭ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়া এই প্রতিষ্ঠান আজ ফ্রান্সের অভিবাসনের ইতিহাস বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা হয়ে উঠেছে।

একজন অভিবাসীর পুরনো স্যুটকেস কখনো কখনো একটি মহাদেশের সমান ভার বহন করে। তার ভেতরে থাকে কিছু কাপড়, কিছু ছবি, হয়তো একটি চিঠিও। অথচ অদৃশ্যভাবে এই সব জিনিসপত্রের ভেতর গুছিয়ে রাখা থাকে বিচ্ছেদের কান্না, বহু অনিশ্চয়তার রাত এবং নতুন জীবনের স্বপ্ন। প্যারিসের ১২তম আরঁদিসমঁ এলাকায় ঐতিহাসিক ‘পালে দ্য লা পোর্ত দোরে’ ভবনে অবস্থিত এই জাদুঘরে ঢুকতেই এমন অনুভূতি ঘিরে ধরে দর্শনার্থীদের।

ভবনটি যেন ইতিহাসের এক নীরব নদী। তার দেয়ালে দেয়ালে জমে আছে শত বছরের পদধ্বনি। এখানে কোনো রাজা নেই, কোনো সেনাপতির বিজয়গাথা নেই। আছে কেবল সাধারণ মানুষের গল্প—যারা নিজের জন্মভূমি পেছনে ফেলে অচেনা আকাশের নিচে নতুন ঠিকানা খুঁজতে বের হয়েছিল।

জাদুঘরের ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয় যেন একটি বিশাল ট্রেনের কামরায় বসে আছি। সেই ট্রেন হলো সময়ের। এক স্টেশনে নামছেন ইতালির শ্রমিক, আরেক স্টেশনে উঠছেন আলজেরিয়ার তরুণ। কোথাও মরক্কোর এক পরিবারের ছবি, কোথাও পর্তুগালের এক নির্মাণশ্রমিকের ব্যবহৃত হাতুড়ি। এই সব বস্তু নীরবে জাদুঘরে পড়ে আছে। অথচ তাদের সেই নীরবতাই সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ ভাষা।

এখানে সংরক্ষিত রয়েছে ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন, যেমন পুরোনো পাসপোর্ট, চিঠিপত্র, আলোকচিত্র এবং বিভিন্ন শিল্পকর্ম। রয়েছে ভিডিও সাক্ষাৎকার ও নানা ঐতিহাসিক দলিল। প্রতিটি প্রদর্শনী যেন একটি খোলা জানালা, যার ওপারে দেখা যায় দেশান্তরের বেদনা, সংগ্রাম এবং সাফল্যের গল্প।

প্রদর্শনীর একাংশ ঘুরে দেখলে ফ্রান্সের উপনিবেশিক অতীতের কিছু কঠিন বাস্তবতাও চোখ এড়ায় না। আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু মানুষের জীবনে উপনিবেশবাদের গভীর ক্ষতের চিহ্ন এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কোথাও ছিল তাদের শ্রমের শোষণ, কোথাও ফরাসি সাংস্কৃতিক আধিপত্য, কোথাও যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার দীর্ঘ ছায়া।

ফ্রান্সের বুকে অবস্থিত হলেও জাদুঘরটি সেই নির্মম ইতিহাসকে মোটেই আড়াল করে না। বরং নীরবে ঔপনিবেশিকতার কান্না দর্শনার্থীর সামনে তুলে ধরে। ফলে জাদুঘরটি ভ্রমণ করলে যে কেউ উপলব্ধি করতে পারবেন, আধুনিক ইউরোপের সমৃদ্ধির পেছনে রয়েছে কত মানুষের অদৃশ্য ত্যাগ, শ্রম ও বেদনার ইতিহাস।

অভিবাসনের ইতিহাস আসলে এক অদ্ভুত প্যারাডক্স। মানুষ ঘর ছেড়ে বের হয় একটি ঘরের খোঁজে। মায়ের আঁচল কিংবা পরিচিত মেঠোপথকে বিদায় জানায় নতুন পরিচয়ের আশায়। হারানোর ভেতর দিয়েই খুঁজে পায় পাওয়ার অর্থ। এই জাদুঘর সেই বৈপরীত্যেরই জীবন্ত দলিল।

এই প্রদর্শনীগুলোর সামনে দাড়িয়ে আমার নিজের জীবনের একটি অধ্যায়ও বারবার ফিরে এসেছিল। ফ্রান্সে শরণার্থী শিক্ষার্থী হিসেবে যখন আমি সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরাসি ভাষা শিক্ষা কোর্সে অধ্যয়ন করছিলাম, তখন একদিন আমাদের শিক্ষকেরা পুরো ক্লাসকে নিয়ে এসেছিলেন মুজে নাসিওনাল দ্য লিস্তোয়ার দ্য লিমিগ্রাসিওঁ জাদুঘরে। নানা দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমিও সেদিন ইতিহাসের সেই দীর্ঘ করিডর ধরে হেঁটেছিলাম।

প্রদর্শনী দেখা শেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে জাদুঘরের ভেতরেই একটি প্রেজেন্টেশন দিতে হয়েছিল।

আমার প্রেজেন্টেশনের বিষয় ছিল শরণার্থীদের সংগ্রাম। সহপাঠী ও শিক্ষকদের সামনে দাড়িয়ে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ মনে হয়েছিল, আমি যেন কোনো গবেষণার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি না; বরং নিজের জীবনেরই একটি অধ্যায় বর্ণনা করছি। দেয়ালে ঝুলে থাকা ছবিগুলো কিংবা দেশান্তরের গল্পগুলো তখন আর শুধু জাদুঘরের প্রদর্শনী ছিল না। সেগুলো যেন হয়ে উঠেছিল আমার নিজের স্মৃতির আয়নায় ভেসে ওঠা দৃশ্য।

সেই মুহূর্তে বুঝতে পেরেছিলাম, অভিবাসনের ইতিহাস কখনও কেবল ইতিহাস নয়। এটি মানুষের হৃদয়ে বহন করে চলা এক দীর্ঘ ভ্রমণকাহিনি, যার কিছু পৃষ্ঠা আমার জীবনেও লেখা হয়ে গেছে।

ফ্রান্সের জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে অভিবাসীদের ইতিহাসকে এখানে আলাদা করে দেখা হয়নি। বরং দেখানো হয়েছে একই বৃক্ষের দুটি শাখা হিসেবে। কারণ আধুনিক ফ্রান্স কোনো একক জাতির নির্মাণ নয়। এটি বহু নদীর মিলনে গড়ে ওঠা এক মোহনা। আফ্রিকার উষ্ণ মাটি, ইউরোপের পাহাড়ি জনপদ, এশিয়ার জনাকীর্ণ নগর, ভূমধ্যসাগরের উপকূল এবং নানা ভূগোল থেকে আসা মানুষের শ্রম ও স্বপ্ন মিশে তৈরি হয়েছে আজকের ফ্রান্স।

বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের জন্যও এই জাদুঘরের আবেদন আলাদা। প্রদর্শনীর অনেক গল্প যেন পরিচিত লাগে। দেশ ছেড়ে বিদেশে আসার অভিজ্ঞতা পৃথিবীর নানা মানুষের হলেও অনুভূতির রং প্রায় একই। বিমানবন্দরের বিদায়ের মুহূর্তে মায়ের ভারী হয়ে আসা কণ্ঠস্বর, নতুন শহরে প্রথম রাতের নিঃসঙ্গতা—সবকিছু যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা।

জাদুঘরটি শুধু প্রদর্শনীর স্থান নয়; এটি গবেষণা ও শিক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় সেমিনার, আলোচনা সভা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। গবেষকদের জন্য রয়েছে সমৃদ্ধ আর্কাইভ। ফলে অভিবাসন নিয়ে আগ্রহী যে কারও জন্য এটি এক মূল্যবান জ্ঞানভাণ্ডার।

জাদুঘরটি ঘুরে বের হওয়ার পর মনে হয়, এটি কেবল অভিবাসনের ইতিহাস নয়; এটি মানুষের ইতিহাস। সীমান্তের ওপারে চলে যাওয়া মানুষের সাহসের ইতিহাস। নতুন জীবনের দিকে হাঁটা মানুষের ইতিহাস। এখানে প্রতিটি স্যুটকেস যেন একটি অসমাপ্ত উপন্যাস, প্রতিটি ছবি যেন এক টুকরো নির্বাসিত আকাশ, প্রতিটি স্মৃতিচিহ্ন যেন ঘরে ফেরার অপেক্ষায় থাকা কোনো দীর্ঘশ্বাস।

প্রেমের শহর কিংবা আলোর শহর—প্যারিসের এসব পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরেকটি গভীর পরিচয়। সেটি মানুষের শহর। আর সেই মানুষের গল্পই নিঃশব্দে বলে চলে জাতীয় অভিবাসন ইতিহাস জাদুঘর।

প্যারিসের এই অভিবাসন জাদুঘর শেষ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়—মানুষ কোনো নির্দিষ্ট মানচিত্রের নাগরিক নয়; মানুষ মূলত তার স্বপ্নের নাগরিক। আর সেই স্বপ্নই তাকে বারবার সীমান্ত পেরোতে শেখায়, নতুন জীবন শুরু করতে শেখায়, ইতিহাসের অন্ধকার গলি পেরিয়ে আলোয় পৌঁছানোর সাহস জোগায়।

পর্যটন শিল্পে নতুন পরিকল্পনা, কর্মসংস্থানের বড় লক্ষ্য সরকারের

অনলাইন ডেস্ক
পর্যটন শিল্পে নতুন পরিকল্পনা, কর্মসংস্থানের বড় লক্ষ্য সরকারের
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা নথির তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্যুরিজম মেগা প্ল্যান ২০২৬-২০৪০’ প্রণয়নের কাজ চলছে। এ পরিকল্পনার লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে ৫ কোটি ৫৭ লাখ পর্যটক আকর্ষণ এবং ২ কোটি ১৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা এখনো তুলনামূলক কম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক এসেছেন প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার। তবে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, চা-বাগান অঞ্চল ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন হোটেল নির্মাণ, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।

এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০২৬-এ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়। এতে ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। ইউ এন টুরিজম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ২ শতাংশ বেড়ে ৩০ কোটি ৭০ লাখে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও বৈশ্বিক ভ্রমণ চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে।

বিবিসি ট্রাভেল ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে আবুধাবি, আলজেরিয়া, চিলি, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া, ইথিওপিয়া ও ভুটানকে ২০২৬ সালের সম্ভাবনাময় ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে পর্যটকদের মধ্যে ‘কোয়ায়েট ট্রাভেল’, পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনধারাভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রবণতা বাড়ছে।

এছাড়া বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বিদেশ ভ্রমণের ওপর কর কমানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে চা ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যভিত্তিক যৌথ পর্যটন উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণা জোরদার করা গেলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

পর্যটনকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
পর্যটনকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
সংগৃহীত ছবি

দেশের পর্যটন শিল্পকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) এ খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে চলমান এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম দেশের পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে বাড়বে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে একটি সমন্বিত বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটন (ইকো-ট্যুরিজম), গ্রামীণ পর্যটন এবং টেকসই পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পর্যটন খাতের বিকাশে দেশের বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ পর্যটন খাতকে আরো গতিশীল করবে বলে আশা করছে সরকার।

এ ছাড়া বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা আধুনিকীকরণ, কার্গো ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, বিমান নিরাপত্তা জোরদার এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন খাত গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে সমন্বিত যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত করা হবে। একই সঙ্গে রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নয়ন করা হবে।

সরকারের আশা, পর্যটন ও বিমান চলাচল খাতে এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি সিডিসির

অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি সিডিসির
প্রতীকী ছবি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় সংক্রামক রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মানুষকে সতর্ক করতে নিয়মিত ভ্রমণ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা (ট্রাভেল হেলথ নোটিশ) প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)।

এসব সতর্কবার্তার উদ্দেশ্য হলো ভ্রমণকারীদের গন্তব্য দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা এবং রোগ সংক্রমণ বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশিকা থেকে এ তথ্য জানা যায়। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সিডিসি তাদের এই নির্দেশিকা হালনাগাদ করে।

সিডিসি সাধারণত চারটি কারণে ভ্রমণ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা জারি করে। এগুলো হলো— কোনো দেশ বা অঞ্চলে রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি, নতুন বা অস্বাভাবিক এলাকায় রোগের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া, প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বড় ধরনের জনসমাগম বা আন্তর্জাতিক আয়োজনের কারণে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়া।

ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী সিডিসি সতর্কবার্তাকে তিনটি স্তরে ভাগ করে।

লেভেল-১ এ সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

লেভেল-২ এ ভ্রমণকারীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ, মশাবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা এবং বিশেষ স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে লেভেল-৩ এ উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সিডিসি ভ্রমণের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির কথাও বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে গন্তব্য দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি যাচাই করা, প্রয়োজনীয় ভ্রমণ টিকা গ্রহণ করা এবং নিয়মিত টিকাগুলো হালনাগাদ আছে কি না তা নিশ্চিত করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশ ভ্রমণের আগে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সম্পর্কে ধারণা থাকলে অনেক সংক্রামক রোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ স্বাস্থ্য নির্দেশনা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।