ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়াতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা জেনারেল সাইমন মায়াল। তিনি বলেছেন, উভয়ই চলমান হামলাগুলোকে আলোচনার কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কিছু পদক্ষেপ প্রতীকী, আবার কিছু সত্যিই প্রাণঘাতী—কারণ এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।’
তবে শেষ পর্যন্ত কে এমন চাপ সৃষ্টি করতে পারবে, যাতে আগের সমঝোতা স্মারকের চেয়ে আরো কার্যকর ও স্পষ্ট কোনো চুক্তি হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তার মতে, ‘আগের সমঝোতা স্মারকটি শুরু থেকেই টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম ছিল।’
মায়ালের মতে, তেহরানে এমন একটি অংশ রয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো সুবিধা পেতে আগ্রহী। তবে তাদের এই অবস্থানের বিপরীতে রয়েছে কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা সংঘাত অব্যাহত রাখার পক্ষপাতী করে।
তিনি বলেন, ‘ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে এবং তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনে, তাহলে তা বাস্তবসম্মত ও লাভজনক সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এবং আইআরজিসির কাছে বিষয়টি একইভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।’
মায়ালের মন্তব্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য এবং কট্টরপন্থীদের অবস্থানই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।




