• ই-পেপার

জনপ্রিয় উদ্যানে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করল তালেবান

স্টারলিংক ডিরেক্ট-টু-সেল সেবায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম ফিলিপাইন

অনলাইন ডেস্ক
স্টারলিংক ডিরেক্ট-টু-সেল সেবায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম ফিলিপাইন
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল (স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল) সেবা চালু করেছে ফিলিপাইন। দেশটির মোবাইল অপারেটর গ্লোব টেলিকম জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর সারা দেশে এই সেবা চালু করেছে।

দেশটির জাতীয় টেলিযোগাযোগ কমিশন (এনটিসি) গ্লোব টেলিকমকে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে যেসব এলাকায় এখনো প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি, সেখানকার মানুষও মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমানে ফিলিপাইনের প্রায় চার শতাংশ মানুষ স্থলভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছেন। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, উপযুক্ত স্মার্টফোন সরাসরি স্টারলিংকের নিম্ন কক্ষপথে থাকা ৬৫০টির বেশি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। এতে মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভর না করেই যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এসএমএস পাঠাতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার, ভয়েস ও ভিডিও কল, নেভিগেশন সেবা এবং মোবাইল ডেটাও ব্যবহার করতে পারবেন।

গ্লোব টেলিকম জানিয়েছে, এই সেবা স্যাটেলাইট রোমিং প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তবে ফিলিপাইনের ভেতরে থাকা গ্রাহকদের কোনো অতিরিক্ত রোমিং চার্জ দিতে হবে না। তারা স্বাভাবিকভাবেই স্টারলিংকের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবেন। প্রথম পর্যায়ে যাদের সক্রিয় গ্লোব সিম রয়েছে এবং যারা অ্যান্ড্রয়েড এলটিই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তারাই এই সুবিধা পাবেন। গ্লোব জানিয়েছে, এই সেবা মূলত এমন এলাকাগুলোর জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে এখনো মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক পৌঁছেনি। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা বা প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে এই স্যাটেলাইটভিত্তিক সংযোগ জরুরি যোগাযোগ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জুন মাসে দক্ষিণ কোটাবাতো, সুলতান কুদারাত ও সারাঙ্গানির কয়েকটি এলাকায় ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়। তখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দেড় লাখের বেশি গ্রাহকের জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। গ্লোব টেলিকমের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কার্ল ক্রুজ বলেন, এই বাণিজ্যিক সেবা চালুর ফলে মোবাইল টাওয়ারের বাইরে থাকা এলাকাতেও নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে দুর্গম অঞ্চল এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও মানুষ যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি শুধু নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণই করবে না, বরং জরুরি পরিস্থিতিতেও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

সাত হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে দেশের সব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়া দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ। এর অন্যতম কারণ দেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য। পাশাপাশি সেখানে প্রায়ই টাইফুন, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। গ্লোব জানিয়েছে, নতুন এই স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবার লক্ষ্য হলো আরু বেশি মানুষকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। জাতীয় টেলিযোগাযোগ কমিশন বলেছে, এই উদ্যোগ সরকারের সবার জন্য ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ডিজিটাল বৈষম্য কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


 

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছুঁই ছুঁই

অনলাইন ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছুঁই ছুঁই
ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের ছয় দিন পরও উদ্ধার অভিযান চলছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ।

তিনি আরা জানান, লা গুয়াইরায় ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যারা নিজেরা বেরিয়ে আসতে পেরেছেন বা স্বজনদের সহায়তায় উদ্ধার হয়েছেন, তাদের যুক্ত করলে এই সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার হতে পারে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য সংগ্রাম করছিলেন। এর মধ্যেই রাজধানী কারাকাসে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটি লাতিন আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে বহু আবাসিক ভবন ধসে পড়ে, হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়ে যায় এবং ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

উদ্ধারের আশা যখন প্রায় শেষ হয়ে আসছিল, তখন জর্ডানের একটি সিভিল ডিফেন্স দল কারাকাসের একটি ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উদ্ধারকর্মীদের আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়। জর্দানের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল।

ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধার পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা গত শনিবার শেষ হয়ে গেছে। তবুও বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাসের উত্তরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরনগরী লা গুয়াইরায় খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে মৌলিক সেবাগুলো ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

লা গুয়াইরার ১৮ বছর বয়সী বিক্রেতা ড্যানিয়েলা আরমাস বলেন, ‘এখানে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, কিন্তু খাবারের জন্য মানুষ প্রায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে।’ দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে দুর্বল হয়ে পড়া অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে সরকারের ধীর প্রতিক্রিয়ায় অনেক ভেনেজুয়েলান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা আগামী ছয় মাসে ৩০ হাজার মানুষের জন্য ত্রাণ ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার সহায়তা চেয়েছে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেইয়ার সতর্ক করে বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে রয়েছে। ভূমিকম্পের আগে টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকিও বেড়েছে।

ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে জীবিতদের খোঁজে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে অনেক ভেনেজুয়েলান তাদের স্বজনদের দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপ, হাসপাতাল ও মর্গে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন। অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার যন্ত্রণা তাদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

নিজের বোন সোরাইদাকে খুঁজতে থাকা রোসানা লুনা বলেন, ‘কিছুই না জানাটা সবচেয়ে কঠিন। তখন বারবার মনে হয়, আমি কী করব? কোথায় তাকে খুঁজব?’

বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা সোমবার লা গুয়াইরা বন্দরের কাছে অস্থায়ী মর্গের সামনে সারিবদ্ধ কালো মরদেহের ব্যাগ দেখতে পান। সেখানে অনেক মানুষ স্বজনদের খোঁজে বা মরদেহ শনাক্ত করতে ভিড় করছিলেন। ৩৭ বছর বয়সী ডারভিন সিলভা জানান, ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে আটকা পড়া তার মায়ের মরদেহ উদ্ধারে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘খালি হাতে, হাতুড়ি ও খননযন্ত্র দিয়ে তাকে বের করতে যে পরিমাণ কষ্ট করতে হয়েছে, তা কল্পনাও করা যায় না।’ মায়ের মরদেহ উদ্ধারের পর আবেগাপ্লুত ডারভিন বলেন, ‘এখন অন্তত আমি তাকে প্রাপ্য শান্তিতে বিদায় জানাতে পারব।’ 

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ছয় দিন পরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা এখনও জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা নিয়ে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের মতে, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুর্যোগে দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান।

উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য বিশ্বের ২৭টি দেশ প্রায় ৪০টি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। জাতিসংঘের ভেনেজুয়েলা সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোল্লা জানান, এসব দলে ২ হাজারের বেশি সেনা ও উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টিরও বেশি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর রয়েছে।

মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জাতিসংঘ ১০ হাজার মরদেহের ব্যাগ সরবরাহ করছে। তবে সংস্থাটি আশা করছে, চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে কম হবে। রাজধানী কারাকাসের একমাত্র সরকারি কবরস্থানে দুটি দাহ চুল্লি দিনরাত পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। অন্যদিকে, লা গুয়াইরা বন্দরের অস্থায়ী মর্গে এখনও বহু মানুষ তাদের স্বজনদের মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্বজনদের খোঁজে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন উইলকার মোল্লালা। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার সেখানে আছে। আমাকে বলা হয়েছে, আমার বোন ও তার সন্তানরা, পাশাপাশি আমার ভাইয়ের সন্তানরাও সেখানে রয়েছে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, ‘আমাদের পরিবারে ১১ জন সদস্য ছিল। তাদের মধ্যে শুধু আমরা দুজন বেঁচে গেছি, কারণ ঘটনার সময় আমরা কাজে বাইরে ছিলাম।’ ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে শোক, অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকট আরো গভীর হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ এবং অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের ভাগ্য সম্পর্কে কোনো খবর জানে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই বৈঠক নয়, যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত শর্ত চায় ইরান

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই বৈঠক নয়, যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত শর্ত চায় ইরান
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবে না বলে জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। এ অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, দুই সপ্তাহ আগে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো আগে পুরোপুরি চূড়ান্ত করতে হবে। এরপরই পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতাসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রাথমিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, কিছু অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় পৌঁছেছেন। হোয়াইট হাউস এই সফরকে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ইরান এবং স্বাগতিক দেশ কাতার জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা সরাসরি ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন না। তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চালাবেন। কাতার জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন এবং তিনি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। অন্যদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে নিম্ন পর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরো কিছু সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরো হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

যুদ্ধের কারণে কিছুদিন ব্যাহত থাকার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে যেত। ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালির অপর প্রান্তে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে এই জলপথ পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে। তারা আরো জানিয়েছেন, ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে, অর্থাৎ আগস্টের মাঝামাঝি থেকে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম অধিকার ইরান ও ওমানের। এই জলপথে কীভাবে জাহাজ চলাচল করবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও ইরানের রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্টভাবে বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের ফি আদায় করতে দেওয়া হবে না। 'দ্য মাইকেল নোলস শো'তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে ইরানকে অর্থ দেওয়ার মত পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত তৈরি হবে না। তিনি আরো দাবি করেন, তেল পরিবহন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। যা প্রায় যুদ্ধের আগের অবস্থায় পৌঁছে গেছে। কিছু দিনে পরিবহনের পরিমাণ আগের চেয়েও বেশি ছিল। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো পরিসংখ্যান দেননি।

যুদ্ধের অনিশ্চয়তা থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এর আগে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) মঙ্গলবার জানিয়েছে, জ্বালানি বাজারে চাপ কিছুটা কমলেও দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোতে এখনো খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জ্বালানি বিক্রেতাদের পেট্রোলের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী এই চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে হিজবুল্লাহর মিত্র এবং লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি, লেবানন-ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া পৃথক একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই কাঠামোয় দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া আরো দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়তে পারে।

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় ৯০০ সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় ৯০০ সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলা এবং এর আশপাশে ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। বর্তমানে দেশটির ভেতরে ৯০০-র বেশি মার্কিন সেনা রয়েছে। এ ছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলের পুয়ের্তো রিকো ও কুরাসাওয়ে আরো প্রায় ৮০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান রয়টার্সকে জানান, মার্কিন বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে, বিমানবন্দর দ্রুত চালু করতে সহায়তা করেছে এবং মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য বিমান ও নৌবাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। গত সপ্তাহের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার আকাশে অন্তত চার থেকে পাঁচটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন করেছে। মিয়ামিতে থাকা একটি সমন্বয়কেন্দ্রের সহযোগিতায় এসব ড্রোন থেকে পাওয়া তথ্য ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি মূল্যায়নে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, সাধারণত আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সামরিক প্রযুক্তি এখন ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমে কাজে লাগানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোন সড়ক চলাচলের উপযোগী আছে এবং কোন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ডোনোভানের ভাষ্য অনুযায়ী, মাটিতে অবস্থান করে যেসব তথ্য সব সময় স্পষ্টভাবে দেখা যায় না, সেগুলো ড্রোনের মাধ্যমে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। কারণ, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অভিযান চালিয়েছিল, যেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার হওয়ার কথা ছিল। তবে মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গত মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার কারাগারভিত্তিক গ্যাং ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’-এর নেতাকে লক্ষ্য করে একটি হামলা চালায়। এই অভিযান ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছিল। এদিকে, গত বুধবার এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।

উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে মাত্র একজন জীবিতকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি একটি ৩ বছর বয়সী শিশু। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তা ডোনোভান বলেন, ভূমিকম্পের পর মার্কিন মেরিন সেনারাই প্রথম মার্কিন কর্মী হিসেবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকেপড়াদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় উদ্ধারকারীদের সহায়তা করেন।

তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধারকর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের বিমানযোগে পরিবহনের ব্যবস্থাও করেছে। ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স থেকে আসা একদল উদ্ধারকর্মী সপ্তাহান্তে একজন মা ও তার ৯ মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধারের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন কর্মকর্তা ডোনোভান জানান, চলমান আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রমের বড় অংশই এখন ত্রাণ ও সরঞ্জাম পরিবহনের ওপর নির্ভর করছে। তার মতে, জীবনরক্ষাকারী সহায়তা যেন সীমান্ত বা প্রবেশপথে আটকে না থাকে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডোনোভান বলেন, ‘অনেক সময় বিপুলপরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পৌঁছালেও সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা থাকে না। তখন পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে।’

এদিকে, ভূমিকম্পের পর দ্রুত ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত অনুসন্ধান-উদ্ধার দল মোতায়েন না করায় ভেনেজুয়েলা সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। দুর্যোগের পর প্রথম কয়েক দিনে অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের হাত, কোদাল ও দড়ি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া স্বজনদের খুঁজতে দেখা যায়।

শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে কিছু এলাকায় ভারী নির্মাণযন্ত্র দিয়ে ইট-পাথর ও কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপ সরানোর দৃশ্য দেখানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারে সহায়তা করেছে।

ভেনেজুয়েলায় সরকারের দুর্যোগ মোকাবেলার ধীরগতির প্রতিক্রিয়া নিয়ে জনঅসন্তোষের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা ডোনোভান সতর্কভাবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশটি দীর্ঘদিনের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে অবকাঠামোগত নানা সমস্যার মুখোমুখি, যা বর্তমান সংকট মোকাবেলাকে আরো কঠিন করে তুলেছে।

তিনি আরো জানান, ওষুধ ও হাসপাতালের কর্মীর ঘাটতির খবর মানুষের হতাশা বাড়িয়ে দিতে পারে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক মিশন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে ডোনোভান কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মূলত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের, যারা সামগ্রিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ত্রাণ সহায়তার জন্য পাঠানো মার্কিন সেনাদের দীর্ঘমেয়াদে ভেনেজুয়েলায় অবস্থানের কোনো পরিকল্পনা নেই।

ডোনোভানের ভাষায়, ‘এখানে থেকে যাওয়ার কোনো আলোচনা নেই। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে আমরা যা করি, সেটিই করছি। কাজ শেষ হলে আমরা চলে যাব।’ তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভবিষ্যতে আরো ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যদি এই উদ্যোগ দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে, তাহলে আমরা অবশ্যই এগিয়ে যেতে প্রস্তুত থাকব।’