গত সপ্তাহে ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৬১ জন নিহত ও কয়েক শ মানুষ আহত হন। ভূমিকম্পটি এতোটাই তীব্র ছিল যে, দেশটির উপকূলরেখা পরিবর্তিত এবং সমুদ্রের তলদেশও ওপরে উঠে আসে বলে সমীক্ষায় জানা গেছে।
দেশটির পরিবেশ বিভাগ জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে সমুদ্রের তলদেশ প্রায় ২ মিটার (৬.৬ ফুট) ওপরে উঠে এসেছে। এতে প্রবাল উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং সামুদ্রিক জীবনের ক্ষতি হয়েছে।
দুর্যোগ সংস্থার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দক্ষিণ মিন্দানাও দ্বীপের কাছে ৭.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পের পর এখনো অন্তত ৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর পরিবেশ বিভাগ জানায়, কিছু এলাকায় উপকূলরেখা প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত সরে গেছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কোস্টাল আপলিফট’।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলক্যানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি জানিয়েছে, কোটাবাটো ট্রেঞ্চে স্থানচ্যুতির কারণে সারাঙ্গানি ও দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের কিছু উপকূলীয় এলাকা ওপরে উঠে গেছে এবং পানির নিচে থাকা সমুদ্রতল ওপরে উঠে এসেছে। এতে এলাকাগুলোর উচ্চতা প্রায় ২ মিটার বেড়েছে।
কোটাবাটো ট্রেঞ্চ হল ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি মহাসাগরীয় পরিখা। দক্ষিণ মিন্দানাও উপকূলের মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা এই ট্রেঞ্চ এলাকায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। জানুয়ারিতে এখানে হাজার হাজার ছোট ছোট ভূমিকম্পও রেকর্ড করা হয়েছিল।
পরিবেশ বিভাগের একটি দল জানায়, সেখানে গিয়ে তারা দেখেছে অনেক দীর্ঘ উপকূল, প্রবাল প্রাচীর ও সমুদ্রঘাসের অংশ পানির ওপরে উঠে এসেছে।
একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সঠিক পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি, কারণ পুরো এলাকা জরিপ করা প্রয়োজন। পরিবেশ বিভাগের আঞ্চলিক অফিস প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবাল উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং সেখানে মৃত মাছসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী পড়ে আছে।
উন্মুক্ত প্রবাল ও সমুদ্রঘাসের কারণে সেখানে থাকা মাছ, ইল, ঝিনুক ও শামুকসহ অনেক সামুদ্রিক প্রাণী মারা যেতে শুরু করে।
পচে যাওয়া সামুদ্রিক জীবের দুর্গন্ধ ও ধোঁয়া থেকে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা থাকায় স্থানীয়রা প্রথমে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান।




