জিম্বাবুয়ের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন করেছে। বুধবার পাস হওয়া এই বিল আইনে পরিণত হলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমারসন মানানগাগওয়ার ক্ষমতায় থাকার পথ আরো দীর্ঘ হবে। এর ফলে তিনি ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্বে থাকতে পারবেন।
সিনেটে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৭৫ জন সদস্য। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র চারজন। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সহজেই অর্জিত হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন না। পরিবর্তে পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে। এখন বিলটিতে প্রেসিডেন্ট মানানগাগওয়ার স্বাক্ষর প্রয়োজন। তিনি সই করলেই এটি আইনে পরিণত হবে।
বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী মানানগাগওয়ার দ্বিতীয় ও শেষ সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। তবে প্রায় দুই বছর আগে থেকেই তিনি ক্ষমতায় আরো দীর্ঘ সময় থাকতে চান- এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়। সেই সময় ক্ষমতাসীন দল জ্যানু-পিএফের বিভিন্ন সমাবেশে তার সমর্থকেরা প্রকাশ্যে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, দেশের উন্নয়ন ও চলমান কর্মসূচিগুলো সম্পন্ন করতে মানানগাগওয়ার আরো সময় প্রয়োজন। পরবর্তীতে গত বছর ক্ষমতাসীন দল প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে সংবিধান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক সমর্থনও পায়।
এমারসন মানানগাগওয়া ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসেন। ওই বছর সেনাবাহিনীর সমর্থনে সংঘটিত এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক রবার্ট মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মুগাবে ১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়ে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রায় চার দশক দেশ শাসন করেছিলেন। তার পতনের পর মানানগাগওয়া প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকেন।
প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর এই উদ্যোগ নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানানগাগওয়াকে আরো দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখার সুযোগ তৈরি করা। তাদের মতে, এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে এবং ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে আরো বেশি কেন্দ্রীভূত করবে। অন্যদিকে বিলটির সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানো হলে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। তাদের মতে, নতুন ব্যবস্থা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং সরকারের জবাবদিহিও আরো শক্তিশালী হবে।
তবে বিলটি আইনে পরিণত হলে জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে সরাসরি ভোটের পরিবর্তে পার্লামেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তাব দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।




