ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

কঠোর পদক্ষেপ নিন

  • সর্বনাশা পলিথিন
শেয়ার
কঠোর পদক্ষেপ নিন

বর্তমান বিশ্বে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য রীতিমতো হুমকি হয়ে উঠেছে পলিথিনের যথেচ্ছ ব্যবহার। সাগর, নদী, জলাশয়, কৃষিজমিসবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই অপচনশীল বস্তুতে। মানুষসহ প্রাণিজগতের ক্ষতি হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো এর ব্যবহার বহুলাংশ হ্রাস করলেও আমাদের মতো অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

বাংলাদেশে ২০০২ সালে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে পরবর্তীকালে সরকারগুলোর উদ্যোগের অভাবে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ হয়নি, বরং আরো বেড়েছে। বাজার থেকে শুরু করে গলির দোকানসর্বত্রই এর ছড়াছড়ি। শহরাঞ্চলে পরিত্যক্ত ব্যাগ জমে ড্রেন আটকে যায় এবং জলাবদ্ধতা হয়।
গ্রামে ফসলি জমি, জলাশয়ের সর্বনাশ হয়। এ ছাড়া নানাভাবে তা পরিবেশের ক্ষতি করে। নানা উপায়ে মানবদেহেও ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। বাড়ছে ক্যান্সারসহ নানা রোগ।
বর্তমানে ডেঙ্গুর যে বিস্তার তার জন্যও বহুলাংশে দায়ী এই পলিথিন ব্যাগ। এহেন সর্বনাশা পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী। কিন্তু গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাজারগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ।

পলিথিনের এমন বিস্তার খুব বেশিদিনের নয়। স্বাধীনতার পরও মোটামুটি দীর্ঘ সময় পলিথিনের ব্যবহার সীমিত ছিল।

সবাই পাটের কিংবা কাপড়ের ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে বাজারে গেছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষ বাঁশের তৈরি ডুলা নিয়ে বাজারে গেছে। এগুলো নিছকই অভ্যাসের ব্যাপার। এটি সত্য যে পলিথিন খুবই সুলভ ও সহজলভ্য। কিন্তু এর ক্ষতিকর দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। নদী, জলাশয়, এমনকি সামুদ্রিক যে মাছ আমরা খাই, সেগুলোতেও প্রচুর পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। মাছ থেকে সেগুলো মানবশরীরে আসে। পরীক্ষায় মানুষের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের উদ্বেগজনক তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা দ্রুত এর ব্যবহার বন্ধ করার কথা বলছেন। তা সত্ত্বেও আমরা কি এমন উদাসীনই থেকে যাব? ২০১৮ সালে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছিলেন ঢাকায় অবস্থানরত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত রেঞ্চা টিয়েরিংকসহ ইইউ মিশনের কর্মীরা। তাঁরা হাতিরঝিল লেক এলাকায় ঘুরে ঘুরে ১০ বস্তা প্লাস্টিক-পলিথিন দ্রব্য সংগ্রহ করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল পলিথিনের অপব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। কিন্তু আমরা কি সচেতন হয়েছি?

প্রকাশিত খবরে জানা যায়, কয়েক দিনের সচেতনতামূলক প্রচার ও অভিযান শেষে আজ রবিবার থেকে সারা দেশে পলিথিনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী শাস্তিও দেওয়া হবে। আমরা মনে করি, পলিথিন ব্যবহার বন্ধে কঠোরই হতে হবে। এর উৎপাদন, বিপণন, পরিবহনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং পরিবেশসম্মত সহজ ও বিকল্প ব্যবহারযোগ্য বস্তুর সরবরাহ বাড়াতে হবে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাক

    বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন
শেয়ার
আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাক

বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী সাতটি দেশের জোট বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে। ২ এপ্রিলে শুরু হওয়া সম্মেলন চলবে আজ ৪ এপ্রিল পর্যন্ত। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের বহুমুখী প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (বিমসটেক) সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্ককে পৌঁছেছেন। বিমসটেকের সদস্য দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান।

আধুনিক বিশ্বে নানা ধরনের জোটবদ্ধতা ক্রমেই সুসংহত রূপ নিচ্ছে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, অর্থনীতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশএমনই নানা ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। এমন কিছু অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৭ সালে ব্যাঙ্কক ঘোষণার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিমসটেক। প্রাথমিকভাবে এর সদস্য ছিল বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।

পরবর্তীকালে এর সঙ্গে যুক্ত হয় মায়ানমার, নেপাল ও ভুটান। ২৮ বছরে এই জোটের অগ্রগতি খুব বেশি না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, এবারের সম্মেলনে কার্যকর পারস্পরিক সহযোগিতার একটি নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যা। রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর প্রতি মায়ানমারের নিষ্ঠুরতা এবং বাংলাদেশে ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গার আশ্রয় নেওয়া বর্তমান সময়ের একটি বড় সমস্যা।
যদিও বিমসটেকের মূল আলোচ্য হবে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, তবু ধারণা করা হচ্ছে সাইডলাইনে আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

সম্মেলনে সাইডলাইনে আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশ দুটির দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠক হতে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট ও সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, এই বৈঠক নিয়ে আমাদের আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আজ ৪ এপ্রিল অধ্যাপক ইউনূসকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

আমরা আশা করি, বিমসটেকভুক্ত সাতটি দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। অধ্যাপক ইউনূসের গতিশীল নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে বিমসটেকের কর্মকাণ্ড সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ধরে এগিয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতার সুযোগ আরো সম্প্রসারিত হোক।

 

মন্তব্য

দেশে চিকিৎসার মান বাড়াতে হবে

    বাড়ছে বিদেশগামী রোগীর সংখ্যা
শেয়ার
দেশে চিকিৎসার মান বাড়াতে হবে

বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি রোগীদের আস্থার ঘাটতি আছে। বিশেষ করে আর্থিক সামর্থ্য আছে এমন পরিবারগুলো জটিল রোগে দেশে চিকিৎসা করাতেই চায় না। দেশের বাইরে চিকিৎসা নিয়েছে এমন অনেকের অভিযোগ হচ্ছে, দেশে চিকিৎসার খরচ বেশি, রোগ নির্ণয় যথাযথ হয় না, চিকিৎসকরা রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন না এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে থাকেন। ফলে প্রতিবছর শুধু চিকিৎসার জন্য কয়েক শ কোটি ডলার দেশের বাইরে চলে যায়।

দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এই অবস্থা। তার পরও বিদেশগামী রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

সম্প্রতি পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্রস বর্ডার ডেটা ফ্লো : আ বাংলাদেশ পারসপেক্টিভ শীর্ষক কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। সম্পতি চিকিৎসাসেবায় বিদেশমুখিতা : আমাদের উত্তরণের উপায় শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২০২৩ সালে চার লাখ ৪৯ হাজার ৫৭০ জন বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেশি।

পিআরআইয়ের গবেষণায় বছরে পাঁচ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলারের কথা বলা হলেও এই খাতের অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বাস্তবে এর চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বা তারও বেশি অর্থ প্রতিবছর বাইরে চলে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ মনে করেন, এ ক্ষেত্রে যত অর্থ বাইরে যায় তার অতি সামান্য অংশ যায় বৈধভাবে কিংবা ব্যাংকের মাধ্যমে। অনেকে মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ডলার কিনে নেয়, কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে সে হিসাব দেয় না। অনেকে ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করায়।
অনেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা নিয়ে যায়। তিনি বলেন, বিদেশে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়গুলোকে চিহ্নিত করার মতো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি বাংলাদেশে।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে বিদেশমুখী রোগীদের ৫১ শতাংশ যায় ভারতে। থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে যায় ২০ শতাংশ করে। যুক্তরাজ্যে রোগী যাওয়ার হার ৩ শতাংশ।

২ শতাংশ করে যায় জাপান ও মালয়েশিয়ায়। ১ শতাংশ করে যায় চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর ভারত ভিসা সীমিত করায় দেশের রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের চারটি হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে দোভাষীসহ নানা রকম সুযোগ রাখা হয়েছে। ঢাকা-কুনমিং ছাড়াও চট্টগ্রাম-কুনমিং ফ্লাইট চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে ভারতে যাওয়া রোগীদের অনেকেই এখন চীনে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশগামিতা কমাতে হলে দেশে বিশ্বমানের হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা তৈরি করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে সরকারের উদ্যোগ আরো বাড়াতে হবে। সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই পেশায় নিয়োজিতদেরও উদ্যোগী হতে হবে। সেবার মান ও আন্তরিকতা বাড়াতে হবে।

মন্তব্য

আরো সহজলভ্য করা হোক

    চীনে বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যসেবা
শেয়ার
আরো সহজলভ্য করা হোক

বলতে দ্বিধা নেই, বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি অনেকেরই আস্থা কম। ফলে প্রতিবছর অনেক রোগী ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, এমনকি ইউরোপ-আমেরিকায়ও চিকিৎসা নিতে যায়। সংখ্যাটি ভারতেই সর্বাধিক। কারণ সহজে ও কম খরচে সেখানে চিকিৎসা করানো যেত।

সম্প্রতি ভারতে ভিসা কড়াকড়ি আরোপ করায় বাংলাদেশি রোগীরা সমস্যায় পড়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশি রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে চীন। চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের চারটি হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন চীনা রোগী যে খরচে চিকিৎসা পায়, বাংলাদেশের একজন রোগীও একই খরচে অনুরূপ চিকিৎসা পাবে।
ঢাকা-কুনমিং ফ্লাইটের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কুনমিং ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস। বিমানভাড়াও কমানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কুনমিংয়ে যে চারটি হাসপাতাল নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সেখানকার সেরা তিনটি হাসপাতাল। এগুলো হলোদ্য ফার্স্ট পিপলস হসপিটাল অব ইউনান প্রভিন্স, দ্য ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল অব কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং ফাওয়াই ইউনান হসপিটাল, চায়নিজ একাডেমি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস।

চিকিৎসার ধরন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দোভাষী নির্বাচনসহ সামগ্রিক চিকিৎসাসেবার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ করছেন। কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম-কুনমিং রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে যাতায়াত ব্যয় ও সময় কমে আসবে। ফলে আরো বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি রোগী সহজে চীনের স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবে।

চীনের এই সহযোগিতা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন নাগরিক অবশ্যই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে।

কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবাকেই আরো এগিয়ে নিতে হবে এবং সেবার মান উন্নত দেশের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, বিদেশে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে যায়, যেখানে আমাদের লাখ লাখ প্রবাসী কর্মী সারা বছরে রেমিট্যান্স পাঠান ২৫ বিলিয়ন ডলারের মতো। এই তথ্যও চূড়ান্ত নয়। কারণ অনেকে ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করায়, যা এই হিসাবে আসেনি।

দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়ন করতে হবে, যাতে ধনী-দরিদ্র সবাই উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারে। এর আগ পর্যন্ত চীনের এই সেবা আরো সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

মন্তব্য

আমাদের সতর্ক হতে হবে

    মায়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্প
শেয়ার
আমাদের সতর্ক হতে হবে

মায়ানমারে গত শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.৭। গতকাল বুধবার পর্যন্ত মায়ানমারে মৃতের সংখ্যা ছিল প্রায় তিন হাজার। আহতের সংখ্যা আরো বেশি।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের এক মডেলে আশঙ্কা করা হয়েছে, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ভূমিকম্পের প্রভাবে থাইল্যান্ডেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককেও ১২ জন নিহত এবং ৮০ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়।
এই ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশে অনুভূত হলেও কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে একে বাংলাদেশের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে অনেকে।

ভূমিকম্পের পরপরই চীন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকর্মীরা মায়ানমারে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। নানাভাবে মায়ানমারকে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী, উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে রবিবার সশস্ত্র বাহিনীর একটি উদ্ধারকারী দল মায়ানমার পৌঁছেছে।

নিকট অতীতে বিশ্বব্যাপী বেশ কিছু বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ২০২৩ সালে তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, জাপানে নিকট ভবিষ্যতে অতি বড় ধরনের একটি ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে, যাতে মারা যেতে পারে প্রায় তিন লাখ মানুষ।

জাপানের মোট দেশজ উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ভূ-বিজ্ঞানীরা বাংলাদেশেও একটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন। বিশেষত চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চল ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমতাবস্থায় ভূমিকম্প মোকাবেলার জন্য সব পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও সচেতনতা তৈরির জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। ঝুঁকিমুক্ত থাকতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুযায়ী ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ করার জন্য। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো ভবনগুলোর সংস্কার ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সব বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা; ইউটিলিটি সার্ভিসগুলো; যথাগ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইনের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

ভূমিকম্পের কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। তাই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রধানতম উপায় হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন তৈরি করা। বাস্তবে দেখা যায়, ভূমিকম্প ছাড়াই বাংলাদেশে অনেক বহুতল ভবন হেলে বা ধসে পড়ে। অথচ জাতিসংঘের এক জরিপের ভিত্তিতে আমাদের রাজধানী ঢাকাকে রাখা হয়েছে ভূমিকম্পের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর তালিকায়। বিজ্ঞানীদের মতে, ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হলে এখানকার ৬০ শতাংশ ঘরবাড়ি ধসে পড়তে পারে। উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। মাথার ওপরে যেভাবে বিদ্যুতের তারের জঞ্জাল, ঘরবাড়িতে গ্যাসের পাইপলাইন ছড়িয়ে রয়েছে, তাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হতে পারে। তাই এখানে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও অনেক বেশি।

আমাদের ভবিষ্যতের কথা আমাদেরই ভাবতে হবে। এ কারণে নতুন ভবন তৈরির ক্ষেত্রে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পুরনো যেসব ভবন সংস্কারের মাধ্যমে ভূমিকম্প প্রতিরোধী করা সম্ভব, সেগুলোকে দ্রুত সংস্কার করতে হবে। বেশি পুরনো ও অনিরাপদ ভবনগুলো ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতার উন্নয়ন করতে হবে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ