• ই-পেপার

অনিয়ম দূর করতে হবে

  • লোকসানে চলছে রেল

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে

মৌলিক সাক্ষরতায় পিছিয়ে শিশুরা

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে

দেশে শিশুশিক্ষার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশের সুযোগ নেই। দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠপর্ব শেষেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ন্যূনতম মৌলিক সাক্ষরতা (পড়া, লেখা ও প্রাথমিক গণিত) অর্জন করতে পারছে না। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেও অনেক শিশু বাংলা রিডিং পড়তে পারছে না অথবা সাধারণ যোগ-বিয়োগ করতে পারছে না। বাংলাদেশ সরকার, ইউনিসেফ ও গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের (জিপিই) সহযোগিতায় গত রবিবার আয়োজিত এক কর্মশালায় এমন হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। 

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়লেও শেখার মানে বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। কর্মশালায় যেসব তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তাতে দেখা গেছেসাত থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে মাত্র অর্ধেক মৌলিক সাক্ষরতায় দক্ষতা অর্জন করছে। একই বয়সী শিশুদের মধ্যে মৌলিক গাণিতিক দক্ষতা রয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশের। পঞ্চম শ্রেণি শেষ করা শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫০ শতাংশের বাংলায় এবং ৭০ শতাংশের গণিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই। বনিয়াদি শিক্ষায় এই ঘাটতির প্রভাব থেকে যাচ্ছে পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও। আরো হতাশার দিক হলো, প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন ভর্তির দাবি করা হলেও এখনো প্রায় ১০ লাখ শিশু স্কুলের গণ্ডির বাইরে রয়ে গেছে। মাধ্যমিক স্তরে এই সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ লাখ।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো মুখস্থনির্ভরতা। শিক্ষার্থীদের ওপর বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে সেগুলো মুখস্থ করাকেই আসল কাজ বলে ধরে নেওয়া হয়। এ ছাড়া কোচিং, প্রাইভেট ও গাইড নির্ভরতা বেড়েই চলছে। শিক্ষক সংকট আছেই, এর সঙ্গে শিক্ষকদের মানও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া যায়নি। শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকে না, যেটুকু থাকে তার বড় অংশই অবকাঠামো, বেতন-ভাতা বাবদ চলে যায়।

কর্মশালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিল চালু এবং ধাপে ধাপে সব বিদ্যালয়কে সিঙ্গল শিফটে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক যেন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আমরা মনে করি, অর্ধেক শিশু মৌলিক জ্ঞানহীন রেখে একটি দেশের কাঙ্ক্ষিত টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব নয়। কাজেই সরকারের নীতিনির্ধারক মহল, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের এই সংকটকে অগ্রাধিকার দিয়ে যথাসম্ভব দ্রুত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।

দ্রুত ফিরিয়ে আনা হোক

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদ

দ্রুত ফিরিয়ে আনা হোক

অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন বহুল আলোচিত এবং একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আইজিপি (পুলিশের মহাপরিদর্শক) বেনজীর আহমেদ। রাজধানীসহ সারা দেশে তাঁর ও তাঁর পরিবারের শত শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও তাঁর বহু সম্পদ রয়েছে বলে জানা যায়। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থপাচার, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। সপ্তাহখানেক আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বপ্রথম কালের কণ্ঠই শুরু করে এই মহাপ্রতাপশালী আইজিপির বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তথ্যানুসন্ধান। তখনো আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। এ কাজে গ্রেপ্তার, হেনস্তা, এমনকি গুম হওয়ারও ভয় ছিল। কিন্তু কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানী টিমের সাহসী সাংবাদিকরা সেসব ভয়কে তুচ্ছ করে সারা দেশে ঘুরে বেনজীরের অঢেল সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করেন। অবশেষে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ  প্রকাশিত হয় বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ শিরোনামে মূল প্রতিবেদনসহ চারটি প্রতিবেদন। এর মধ্যে ছিল মেয়ের বিশ্রামের জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকার ফ্ল্যাট এবং বেনজীরের বৈধ আয় কত ছিল শিরোনামে দুটি সাইড স্টোরি। ২ এপ্রিল প্রকাশিত হয় বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট শিরোনামে মূল প্রতিবেদন এবং সাইড স্টোরি হিসেবে প্রকাশিত হয় সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজারেও ভূ-সম্পত্তি। মূলত এর পরই ওই বছরের ১৮ এপ্রিল বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আওয়ামী লীগ সরকার উত্খাতের পর তাঁর বিরুদ্ধে আরো মামলা হয়। দেশ ছেড়ে যাওয়া বেনজীরকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়। এরই ভিত্তিতে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। কিন্তু আওয়ামী শাসনামলের ১৭ বছরে তা সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। অতীতে বেশি অভিযোগ ছিল রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এ সময় টিআইবিসহ দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন সংস্থার জরিপে আমলাদের নাম উঠে আসে দুর্নীতির শীর্ষে। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য মতিউর রহমান, ডিআইজি রফিকুলসহ আরো অনেকের দুর্নীতির যেসব খতিয়ান গণমাধ্যমে উঠে আসে, তাতে মানুষ শুধু অবাকই হতে থাকে। এও কি সম্ভব! এই লুটতরাজের শেষ কোথায়মানুষের সেই প্রশ্ন জবাবহীনই থেকে যায়।

অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে দেশে আইন রয়েছে, বিধি-বিধান রয়েছে, নীতিমালা রয়েছে, কিন্তু এসবের প্রয়োগ কম। অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে প্রশাসনিক কাঠামো বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, কিন্তু তাদের কাজকর্মের জবাবদিহি নেই। আর সেসব কারণে দুর্বৃত্ত চরিত্রের লোকজন সুযোগ পেয়ে যায়। ২০২২ সালে প্রকাশিত টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রের সেবা পেতে ৭০.৯ শতাংশ খানা বা পরিবারকে দুর্নীতির শিকার হতে হয়। তাই রাষ্ট্রকে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমরা চাই, বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। আরো যেসব বেনজীর এখনো অপ্রকাশ্য রয়ে গেছেন, তাঁদেরও যথাযথ অনুসন্ধানের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হোক। দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল হোক।

বাস্তবায়নে আন্তরিকতা প্রয়োজন

বাজেট বিনিয়োগবান্ধব

বাস্তবায়নে আন্তরিকতা প্রয়োজন

দেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা চলছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কর্মসংস্থান না হওয়ায় বেকারত্বের পাশাপাশি নানা ধরনের সামাজিক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বাজেটকে অনেকেই আশার আলো হিসেবে দেখছেন। বাজেট মোটাদাগে বিনিয়োগবান্ধব। বিনিয়োগের খরা কাটাতে বাস্তবধর্মী নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর সুবিধা বাড়ানোসহ শিল্প সুরক্ষায় পদক্ষেপ রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক ও নিয়ন্ত্রণমূলক জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে ব্যবসা শুরুর এবং পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই বাজেট কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে।

বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করেই বলেছেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো উৎপাদনশীল খাতের চাকা সচল রাখা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আমরা এমন একটি কর ও আইনি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যা সৎ ব্যবসায়ী ও নতুন উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহ করবে না, বরং দেশীয় শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক হতে সাহায্য করবে। অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমানো বা বিনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রয়োজনীয় আইন, বিধি বা তদারকি ব্যবস্থা বিলোপ করা নয়, বরং জনস্বার্থ, পরিবেশ ও বিনিয়োগকারীর অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই প্রক্রিয়া সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে।

অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ব্যবসা করার জন্য নিবন্ধন, বিভিন্ন অনুমোদন, ছাড়পত্রসহ অন্যান্য সরকারি সেবার আবেদন সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের (সাত দিন) মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা তাদের মতামত বা ছাড়পত্র না দেয়, তবে ডিজিটাল সিস্টেমে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও বাজেটে বেশ কিছু সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে। যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বৈধ মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীমহলের পক্ষ থেকেও বাজেট প্রশংসিত হয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বান্ধব। বিশেষ করে উৎস করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎস কর হ্রাস, পাঁচ বছরের করকাঠামো আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে কর প্রণোদনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা, বাজেট ঘাটতি পূরণে ঋণনির্ভরতা এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান দুটি প্রত্যাশা ছিল করব্যবস্থার সংস্কার এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আমদানি সহজীকরণ। বাজেটে এই দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ঋণের উচ্চ সুদহারকে তিনি বিনিয়োগের বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, উচ্চ সুদহার, নীতিগত স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, ভূমিপ্রাপ্তি, বন্দর দক্ষতা এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রশাসনিক জটিলতাসবকিছু কতটা দক্ষভাবে মোকাবেলা করা যাচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে বেসরকারি খাতের অগ্রগতি। আমরা আশা করি, সরকারের আন্তরিকতা বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

খুলনায় পুলিশের (কেএমপি) বিশেষ অভিযানের মধ্যেই দিনদুপুরে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বগুড়ায় এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ ও গাজীপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার মারা গেছেন সোহেলি ইসলাম নামের এক নারী। প্রায় প্রতিদিন এমন বহু ঘটনা বলে দিচ্ছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, খুলনার লবণচরা মাথাভাঙ্গা এলাকায় গত শুক্রবার দুপুরে একটি দোকানে বসেছিলেন রফিকুল ইসলাম। এ সময় হেলমেট পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে মুহূর্তেই চলে যায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান রফিকুল। একই দিন অর্থাৎ গত শুক্রবারই জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টারের উল্টো পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে থাকা ইয়াসিন খান ওরফে কাইল্যা পলাশ। এ সময় দুজন মোটরসাইকেলে এসে ফিল্মি স্টাইলে পলাশকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ রকম ঘটনা একটি-দুটি নয়, অনেক।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, রাজধানীসহ প্রতিটি জেলায় অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বেড়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়াছড়ি। পুলিশ জানিয়েছে, এসব অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে। গত মে মাসে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৩২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার হয়েছে ৩৩১ জন। ছিনতাইকারী, দস্যু-ডাকাত গ্রেপ্তার হয়েছে দুই হাজার ২১১ জন, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ৮০৮ জন। কিন্তু এসব অভিযান যে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল তা পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

দেখা যাচ্ছে, দিন দিন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা নিত্যনতুন কায়দায় অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাদের হাতে উঠেছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। জানা গেছে, সীমান্ত দিয়েও দেশে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে। কিন্তু হতাশার দিক হলো, সে তুলনায় আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ছে না। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধী গ্রেপ্তার করতে গিয়ে উল্টো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই আক্রান্ত হয়েছেন।

আমরা মনে করি, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তাদের নিয়মিত ও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। অভিযানের পরিসর বাড়াতে হবে। অপরাধ করে কেউ যেন পার পেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।