ডিআইজির স্ত্রী ৬ হাজার কোটির মালিক

  • পূর্বাচলের পাশে বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে গড়ে উঠছে ‘আনন্দ পুলিশ হাউজিং সোসাইটি’। এই প্রকল্পের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সম্পৃক্ততা নেই। স্থানীয়দের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা রিমান্ডে নিয়ে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। আবার কারো জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে নামমাত্র মূল্যে। এই অপকর্মের মূল হোতা অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হক। রূপগঞ্জ ছাড়াও কুমিল্লার মেঘনা ও সুনামগঞ্জে অন্তত তিন হাজার ৫৩০ বিঘা জমির মালিক। সম্পদের প্রায় সবই কৌশলে মালিকানা দিয়েছেন স্ত্রীকে। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে মিলেছে তাঁদের দুর্নীতির আদ্যোপান্ত
হায়দার আলী ও জয়নাল আবেদীন
হায়দার আলী ও জয়নাল আবেদীন
শেয়ার
ডিআইজির স্ত্রী ৬ হাজার কোটির মালিক

https://cdn.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2024/08.August/19-08-2024/2/kalerkantho-ft-1a.jpgপুলিশের সহকারী কমিশনার পদে ১৭তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ১৯৯৭ সালে চাকরিজীবন শুরু করেন গাজী মো. মোজাম্মেল হক। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে কর্মরত। পাশাপাশি নিযুক্ত রয়েছেন একটি আবাসন প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে। আনন্দ পুলিশ পরিবার বহুমুখী সমবায় সমিতির নাম প্রচার করে গড়ে তোলা আবাসন প্রকল্পটির বর্তমান বিক্রয়যোগ্য সম্পদের পরিমাণ প্রায় ছয় হাজার ৬৫০ কোটি টাকা।

তবে পুলিশ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও এ ধরনের কোনো সমবায় সমিতির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধান বলছে, পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকই এই বিপুল সম্পদের মালিক। মূলত পুলিশের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের জমি দখল করে তিনি এ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। আইনের মারপ্যাঁচ এড়াতে কৌশলে এই বিপুল সম্পদের মালিকানা দিয়েছেন স্ত্রীর নামে।

সম্প্রতি কালের কণ্ঠর অনুসন্ধানে অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক ও তাঁর স্ত্রীর বিপুল পরিমাণ সম্পদের নথিপত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, স্ত্রীর নামে পুলিশের শীর্ষ এই কর্মকর্তা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুলেছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিঘা জমি। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আবাসন প্রকল্পেই রয়েছে তিন হাজার বিঘা জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় ছয় হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। এর পাশে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে রয়েছে বাগানবাড়ি; যার বর্তমান মূল্য প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা।

দাউদপুর ইউনিয়নের ওলপ গ্রামে ৩০ বিঘা জমি কিনেছেন, যার বর্তমান বাজারদর প্রায় ৩০ কোটি টাকা। সদর ইউনিয়নের গুতিয়াবো মৌজায় সরকারি সম্পত্তি দখল করে ৮৩ শতাংশ জমিতে বাড়ি নির্মাণ করছেন। বর্তমানে আরো জমি কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সুনামগঞ্জের হাসাউড়ায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ১০০ বিঘা জমি রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বড়কান্দা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে স্ত্রীর নামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।

সেখানে আছে মেঘনা রিসোর্ট নামে একটি বাগানবাড়ি ও বিশাল মাছের খামার। ২০০ বিঘা আয়তনের এ খামারটির বাজারদর অন্তত ২০ কোটি টাকা। এখানে অবকাঠামোগত ও মৎস্য প্রকল্প উন্নয়নে ব্যয় করেছেন কয়েক কোটি টাকা। নগদ টাকায় কেনার পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের সম্পদ দখলও করেন মোজাম্মেল। এমনকি মেঘনা নদীও গিলে খাচ্ছেন তিনি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরের পাশে আনন্দ পুলিশ হাউজিং সোসাইটি নামে একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠছে। একটানা প্রায় তিন হাজার বিঘা জমি ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে। কয়েকটি প্লটে দাঁড়িয়ে গেছে বহুতল ভবনও। সরেজমিনে জানা যায়, আবাসন প্রকল্পের জমিতে মিশে আছে অনেক নির্যাতিত মানুষের চোখের জল। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কমে নামমাত্র মূল্যে জমির মালিকানা লিখে নিয়েছেন মোজাম্মেল। জমি কবজা করতে কাউকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনও করেছেন। এমনকি হুমকি দিয়ে জবরদস্তির মাধ্যমে কোনো মূল্য ছাড়াই জমি লিখে নিয়েছেন, এমন বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কাজে তাঁকে সহায়তা করছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র।

অতিরিক্ত ডিআইজি কর্তৃক মেঘনা নদী দখল করে রিসোর্ট ও মাছের খামার গড়ে তোলার বিষয়টি অবগত করলে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন কিংবা খাস, যে ধরনের জমিই হোক না কেন, নদীর মধ্যে বালু ফেলে সেই জমির শ্রেণি বদলে ফেলা পুরোপুরি বেআইনি। কেউ যদি এমন অন্যায় করে থাকেন তাহলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে নদী রক্ষা কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

স্ত্রীর নামে আবাসন কম্পানি

আবাসন প্রকল্পের জমি কেনাবেচায় সবখানে প্রকাশ্যে পর্দার সামনে থাকেন অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক। প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নথিপত্রে সইও করেন তিনি। এমনকি প্রকল্পের কর্মকর্তারাও কালের কণ্ঠর কাছে নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন, এই প্রকল্পের মালিক মোজাম্মেল। কিন্তু আইনের মারপ্যাঁচ এড়াতে কৌশলে স্ত্রীর নামে খুলে দিয়েছেন একটি কম্পানি। আর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে দিয়েছেন আবাসন প্রকল্পের জমিগুলোর মালিক তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন কম্পানি আনন্দ প্রপার্টিজ লিমিটেড। ঘটনা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে প্রকল্পের কিছু জমির মালিকানাও দেখানো হয়েছে এই কম্পানির নামে।

নথি ঘেঁটে দেখা যায়, মোজাম্মেলের স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেল আনন্দ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই কম্পানির ১৫ হাজার শেয়ারের মধ্যে সাড়ে ১৩ হাজারের মালিকানা তাঁর, যা মোট শেয়ারের ৯০ শতাংশ। বাকি দেড় হাজার শেয়ারের মালিক হলেন খাইরুল আলম ও শহিদুল ইসলাম লিটন নামের দুই ব্যক্তি। এ দুজনকে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় দেখালেও মূলত তাঁরা প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী। কম্পানিটি নিবন্ধিত হয় ২০১৩ সালের ১৬ জুন। নম্বর সি ১০৯৭১৬। নিবন্ধিত মূলধন তিন কোটি টাকা।

নথিপত্রে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের নভেম্বরে আনন্দ প্রপার্টিজ ৭৭২ শতাংশ বা ৬৮.৬১ বিঘা জমি নিজেদের মালিকানায় আছে বলে ঘোষণা দেয়। জায়গাগুলো মোগলান, গুতিয়াব, পিতলগঞ্জ প্রভৃতি মৌজায় দেখানো হয়েছে। রূপগঞ্জে প্রতিবিঘা জমির সর্বনিম্ন বাজারমূল্য দেড় কোটি টাকা ধরে হিসাব করলে ফারজানা মোজাম্মেলের নামে থাকা আনন্দ প্রপার্টিজের বর্তমান বাজারমূল্য শতকোটি টাকার বেশি। তবে কালের কণ্ঠর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই প্রপার্টিজের দখলে অন্তত তিন হাজার বিঘা জমি রয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ছয় হাজার ৬৫০ কোটি টাকা।

এদিকে, আবাসন প্রকল্পটির নাম নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এবং রূপগঞ্জের ভূমি অফিসে কম্পানির দেওয়া ব্লুপ্রিন্টে আনন্দ পুলিশ হাউজিং সোসাইটি উল্লেখ রয়েছে। অথচ প্রকল্পের সাইনবোর্ডে লেখা আনন্দ হাউজিং সোসাইটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটির সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর কোনো অফিশিয়াল সংশ্লিষ্টতা নেই। হাউজিং কম্পানিতে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা মালিকানায় আছেন বলে প্রচার করা হলেও এটি মূলত ডিআইজি মোজাম্মেল পরিচালনা করেন। আর সামনে রাখেন তাঁর স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলকে।

স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে প্রায় তিন হাজার বিঘা জমি কবজা করে ফেললেও ভূমি অফিসের নথি বলছে, প্রকল্পের খারিজ করা জমির পরিমাণ মাত্র ৪০০ বিঘা। আবার এই ৪০০ বিঘা জমি নিয়েও রয়েছে মামলা। প্রায় আড়াই শ ভুক্তভোগী এই জমির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। হাউজিংয়ের দখলে থাকা বাকি জায়গার মালিকানা নিয়ে তো বিরোধের অন্ত নেই।

নামসর্বস্ব আনন্দ পুলিশ হাউজিং ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত আনন্দ প্রপার্টিজের একটি সিসটার কনসার্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল। কিন্তু গত ৩১ মার্চ দৈনিক কালের কণ্ঠে পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিপুল পরিমাণ সম্পদের  সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে রেজিস্ট্রার অব জয়েন স্টকে এটির আলাদা কম্পানি হিসেবে নিবন্ধন করা হয়। সেখানে মোজাম্মেল নিজের স্ত্রীকে বাদ দিয়ে এটির নিবন্ধন করান।

 

স্ত্রীর নামে আরো যত সম্পদ

অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হকের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বড়কান্দা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে। সেখানেও স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলের নামে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। এর মধ্যে ২০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল বাগানবাড়ি ও মৎস্য খামার। নাম দিয়েছেন মেঘনা রিসোর্ট। শুধু রিসোর্টই নয়, হরিপুরে স্ত্রী ফারাজানার নামে চারতলা ভবনের সুরম্য অট্টালিকা গড়ে তুলেছেন মোজাম্মেল।

এই বাড়ি থেকে রিসোর্টে যেতে হয় ট্রলারে। গত ৭ নভেম্বর ট্রলারে চেপে রিসোর্টের দিকে এগোয় কালের কণ্ঠর অনুসন্ধানী দল। প্রায় ২০ মিনিট পর ট্রলার থামে মোজাম্মেলের রিসোর্ট ও মৎস্য খামারের ঘাটে। সেখানে দেখা যায়, মেঘনা নদী ও চরঘেঁষে গড়ে উঠেছে এই রিসোর্ট। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে রিসোর্টের ম্যানেজার মামুন বলেন, দেড় শ বিঘার মতো জমি ভরাট হয়েছে। ওই পাশে আরো আছে। এখানে স্যার (মোজাম্মেল) রিসোর্ট করবেন। নদীর দুই পাশে থাকা অংশের আরো এক হাজার ফিট করে ভরাট হবে। এখানে খাসজমি ছিল, এলাকার মানুষের ছিল, লিজের জমি ছিল; স্যার সেগুলো কিনে নিয়েছেন। খালি জায়গাগুলোর জন্য মাটি কেনা আছে। খুব শিগগিরই ভরাট হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এই রিসোর্টে আটটি পুকুর রয়েছে। এগুলো সর্বনিম্ন ৯ বিঘা থেকে সর্বোচ্চ ২১ বিঘা আয়তনের। এ বছর পুকুরগুলোতে ২১ লাখ টাকার মাছ ছেড়েছেন মোজাম্মেল। এ ছাড়া রিসোর্টে রয়েছে বিদেশি বিভিন্ন ফল ও সবজির বাগান।

বিভিন্ন সময় মোজাম্মেলের স্ত্রীর এই রিসোর্টে অবকাশে আসেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কর্মকর্তারা। মামুনের ভাষায়, এটি মোজাম্মেলের সুদূরপ্রসারী প্রজেক্ট। এখানে আনন্দ হাউজিংয়ের নামেও জমি রয়েছে। ভবিষ্যতে ফলের আইটেম করা হবে। পাশে বিদ্যুতের সাব-স্টেশন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজ এলাকার বাইরেও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি। তবে কৌশলে প্রায় সবখানেই সম্পদের মালিকানা দিয়েছেন স্ত্রীর নামে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়া গ্রামেও তাঁদের একটি বাগানবাড়ির খোঁজ পায় কালের কণ্ঠ। অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসাউড়া গ্রামের বাড়িটি গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর। বর্তমানে এই জমির মূল্যও কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই বাগানবাড়ির জন্য জমি কেনার পাশাপাশি দখল ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন মোজাম্মেল। পুরো অর্থ পরিশোধ না করেই জমি দখল করেছেন তিনি।

আদ্যক্ষরের এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার থেকে প্রায় দেড় শ শতাংশ জমি কিনেছেন অতিরিক্ত ডিআইজি। কিন্তু চুক্তি মূল্যের অর্ধেক টাকা দিয়েই তিনি জমি লিখে নিয়ে যান। এখন টাকা চাইতে গেলে মামলা ও পুলিশি হয়রানির ভয় দেখান।

 

ভুক্তভোগীরা যা বলছেন

রূপগঞ্জের আবাসন প্রকল্প যেখানে গড়ে উঠেছে সেখানে একসময় বসতভিটা এবং বিশাল মাছের খামার ছিল স্থানীয় বাসিন্দা হাজি সোলেমানের। এখন তাঁর খামারের কোনো চিহ্নই নেই। তাঁর জমি কবজায় নিয়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল। সোলেমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এখানে আমার মাছের খামার ছিল। তিন-চার বিঘা জমি ছিল। সব দখল করেছেন ডিআইজি মোজাম্মেল।

তিনি আরো বলেন, জমি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন থেকে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অভিযোগ করেও কোনো সুফল মেলেনি। হয়তো শেষ সম্বল বসতভিটাটাও বিনা মূল্যে ডিআইজি দখল করে নিবেন। এই কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সোলেমান।

আব্দুল সাত্তার নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, অভাব এখন আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। পুশিলের অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল নিজের স্ত্রীর নামে করা হাউজিংয়ে আমার সম্পদ দখল করে না নিলে এই অভাবে পড়তে হতো না। জমির ওপর থাকা আমার সাইনবোর্ড সরিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখেন ডিআইজি। পরে জোর করে জমি লিখে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯ সালে রূপগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব জাহের আলীকে টানা ১৩ দিন ডিবি অফিসে আটকে রেখে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল। জাহের আলীর ভাষ্য, তাঁর ব্যক্তিমালিকানাধীন ৬২ বিঘা জমি মোজাম্মেলের নামে লিখে দিতেই তাঁকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। নির্মম নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে শেষ পর্যন্ত নিজের জমি মোজাম্মেলের নামে লিখে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনা তখন গণমাধ্যমেও ফলাওভাবে প্রকাশ হয়েছিল। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত এ ঘটনাটি অবগত হয়েছিলেন। এ বিষয়ে জাহের আলীর পুত্রবধূ আফরোজা আক্তার আঁখি বাদী হয়ে মোজাম্মেল, তাঁর স্ত্রী ফারজানাসহ ২০ জনের নামে মামলা করেছিলেন। কিন্তু নিজেদের জমি রক্ষা করতে পারেননি কোনোভাবেই।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ড. ইউনূসের মন্তব্যে জয়শঙ্করের দাবি

বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা
এস জয়শঙ্কর

চীন সফরে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে করা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ইউনূসের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি বিমসটেকের জন্য একটি সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে; যেখানে সড়ক, রেলপথ, জলপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে।

বিমসটেক ঘিরে জয়শঙ্করের সেই বার্তাকে ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতিতে বেশ তাৎপর্যবাহী বলে মনে করছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।

এখন ব্যাঙ্ককে চলছে বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলন।

এই সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সদ্য চীন সফরে গিয়ে ডক্টর ইউনূস বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য স্থলভাগ পরিবেষ্টিত। ফলে এলাকার সাগর পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা তাদের নেই। ঢাকা এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, প্রধান উপদেষ্টা সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছেন।
ঢাকার তরফে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এখন যদি কেউ অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেন, তাহলে তো কিছু করার নেই।

কিছুটা পরে হলেও জয়শঙ্কর বলেন, বঙ্গোপসাগরে আমাদের দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, প্রায় ছয় হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধু পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গেই সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশির ভাগকেই সংযুক্ত করে। বরং ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্রদান করে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

 

মন্তব্য

টিউলিপের আইনজীবীরা দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
টিউলিপের আইনজীবীরা  দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত
টিউলিপ সিদ্দিক

সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের উত্তর দিতে তাঁর আইনজীবীরা প্রস্তুত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিউলিপ নিজে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই একাধিক অভিযোগ আনা হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি।

গত জানুয়ারিতে টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তের স্বার্থে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর জনসমক্ষে এটি ছিল তাঁর প্রথম বক্তব্য।

স্কাই নিউজকে গত মাসে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে টিউলিপের বিপুল সম্পদ রয়েছে, যার উৎস নিয়ে তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর একটি চিঠি লিখেছিলেন টিউলিপের আইনজীবীরা। সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বিরক্তিকর বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।

কয়েক সপ্তাহ আগে লেখা ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসংক্রান্ত সব জিজ্ঞাসা যেন ২৫ মার্চের মধ্যে প্রেরণ করা হয়।

অন্যথায় ধরে নেওয়া হবে, কর্তৃপক্ষের কাছে আইনসংগত কোনো প্রশ্ন নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক মন্ত্রী লিখেছেন, সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। স্কাই নিউজ বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র : স্কাই নিউজ

 

মন্তব্য
চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে
তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচাল করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এতে পতিত সরকারের লোকজন মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছে। যার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, বিচার বানচাল করতে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য আমরা পেয়েছি। জড়িতদের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করছি না।

সময় হলে এসব জানানো হবে। তবে যত ষড়যন্ত্রই হোক, তা ব্যর্থ হবে এবং বিচার যথাযথভাবে হবে।

 

 

মন্তব্য

মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

ঈদের ছুটি এখনো চলছে। আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ঢাকার বাইরে যাওয়া মানুষের ফেরার স্রোত এখনো শুরু হয়নি।  এ জন্য রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিরচেনা সেই হাঁকডাক নেই। এমন পরিস্থিতিতে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে, কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে গরু ও খাসির মাংস আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ, আলু, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে হেরফের নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের চতুর্থ দিন পরও রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতার তেমন আনাগোনা নেই।

বিক্রেতারা বলছেন, রাজধানীর বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে মুরগি ও কিছু সবজির দাম কমেছে। আবার সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

বাজারে সব মুদি ও সবজির দোকান এখনো খোলেনি।

ক্রেতা কম থাকায় বেশির ভাগ বিক্রেতা অলস সময় পার করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ক্রেতার চাহিদা কম, তাই বেশির ভাগ পণ্যের সরবরাহ কিছুটা কম।

রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের  বাজারে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় উঠেছিল। সোনালি মুরগি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকা  কেজি দরে বিক্রি হয়। গরু ও খাসির মাংস আগের সেই চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ২০০ টাকা।

জোয়ারসাহারা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারে ক্রেতা কম থাকায় মুরগির চাহিদা কমে গেছে। তাই দামও কিছুটা কমেছে। চাহিদা কম থাকায় অনেক মুরগির দোকান এখনো খোলেনি।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকটে টমেটো ও পেঁপের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে চাহিদা কম থাকায় বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। ঈদের আগে বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখন তা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। পটোল প্রতি কেজি ছিল ১০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও ঈদের কয়েক দিন আগে বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বেগুন প্রতি কেজি মানভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রমজান মাসে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। দেশি শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঈদের আগে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা লাউ আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।  

বাড্ডার সবজি বিক্রেতা মো. সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন চাহিদা কম থাকার কারণে কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। আবার আগামী সপ্তাহ থেকে সবজির চাহিদা বেড়ে গেলে দামও বেড়ে যাবে। কারণ এখন সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। ঈদের আগে ঢেঁড়স, পটোল ও করলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। সেগুলোর দাম এখন ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় পেঁপের দামও বাড়তি।

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ