বেসরকারি হাসপাতাল

বাণিজ্যে নজর বেশি, সেবায় পিছিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
বাণিজ্যে নজর বেশি, সেবায় পিছিয়ে

দেশের বেসরকারি অনেক হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আবার যাদের এসব হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে, তারা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে করপোরেট হাসপাতাল গড়ে উঠলেও এগুলো স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান, রোগ নির্ণয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার ও দক্ষতায় পিছিয়ে। তবে তারা বাণিজ্যিকীকরণে এগিয়ে।

এতে একদিকে ব্যক্তি খাতে চিকিৎসার খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সামর্থ্যবান রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) সভাপতি এম এ মুবিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের করপোরেট হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার মান, প্রযুক্তি ও আস্থা আরো বাড়াতে হবে। তাহলেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার এই প্রবণতা বদলাতে পারে। এ ছাড়া করপোরেট হাসপাতালগুলো ঢাকাকেন্দ্রিক না করে জেলা ও বিভাগীয় শহরে যদি গড়ে তোলা যায়, তাহলে এই বিদেশমুখিতা অনেকটা কমে যাবে।

এম এ মুবিন খান বলেন, বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রোগের জন্য অভিজ্ঞ স্পেশালিস্টের অভাব রয়েছে; যেমনক্যান্সার, লিভার ট্রান্সপ্লান্ট, কিডনি, নিউরোসার্জারি ইত্যাদিতে। জটিল অপারেশন ও রোগের ক্ষেত্রে বিদেশি চিকিৎসকরা বেশি অভিজ্ঞ ও ট্রেইনড হওয়ায় তাঁদের ওপর আস্থা বেশি।

স্বাস্থ্যসেবায় বৈশ্বিক মানদণ্ডের স্বীকৃতি রয়েছে, দেশে এমন হাসপাতাল মাত্র দুটি। একটি ঢাকার বসুন্ধরায় অবস্থিত এভারকেয়ার, অন্যটি গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল।

হাসপাতাল দুটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) অর্জন করেছে।

জেসিআই স্বীকৃতিকে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার স্বর্ণমান হিসেবে ধরা হয়। যেসব হাসপাতাল রোগীদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে, স্বীকৃতিটি তাদেরই দেওয়া হয়। মর্যাদাটি অর্জন করতে হাসপাতালকে হাজারেরও বেশি কঠোর মান বজায় রাখতে হয়। এর বাইরে দেশে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের অ্যাক্রেডিটেশন রয়েছে মাত্র ৯টির।

এই তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতাল, ল্যাবএইড লিমিটেড, এপিক হেলথকেয়ার, প্রাভা হেলথ বিডি লিমিটেড, খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সিরাজগঞ্জ, ডিএমএফআর মলিক্যুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস বিডি লিমিটেড, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ইমেজিং সেন্টার, পার্কভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টার চট্টগ্রাম ও নোভাস ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সার্ভিসেস লিমিটেড।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারির তুলনায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিসর বড়। সারা দেশে সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৬৪০ (ইউনিয়ন পর্যায় বাদে), আর অনুমোদিত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে পাঁচ হাজার ৩০টি, রোগ নির্ণয় কেন্দ্র বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১০ হাজারের বেশি এবং ব্লাড ব্যাংক ১৯২টি।

চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা যা বলছেন : সম্প্রতি ঢাকার একটি করপোরেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ভোলার এক রোগী। নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, এখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ফি ও রোগ নির্ণয়ের খরচ ভারতের প্রায় দ্বিগুণ। আমার কাছ থেকে চিকিৎসকের ফি নেওয়া হয়েছে দুই হাজার টাকার বেশি। এমআরআই ও এক্স-রে খরচ ১৫ হাজার টাকার বেশি। অথচ ভারতে চিকিৎসকের ফি এক হাজার ৪০০ টাকা এবং একই পরীক্ষার ফি নিয়েছে ১০ হাজার টাকা।

সম্প্রতি আরেকটি হাসপাতালে স্বামীর হার্টে রিং পরানোর অভিজ্ঞতার কথা জানান বেসরকারি টিভির এক সংবাদ উপস্থাপিকা। তিনি বলেন, ওই হাসপাতালে আমি শুধু ডাক্তারের জন্য ছিলাম। এটি মিসম্যানেজমেন্টে ভরা। কমিউনিকেশনে অপারদর্শী। কারো মুখে এতটুকু ভরসার হাসি নেই, যা দেখলে সব ভয় কেটে যায়। শুধু সুন্দর হাসতে পারে বলেই সম্ভবত আমরা বিদেশি হাসপাতালগুলোতে যাই। ওদের হাসি দেখলেই শরীর অর্ধেক ভালো হয়ে যায়।

মানের কারণে অনেকে বাড়তি খরচ করছেন : রোগীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে এম এ মুবিন খান অবশ্য ভিন্ন মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকের ধারণা যে বাংলাদেশে জটিল চিকিৎসা বেশি ব্যয়বহুল, যা আসলে বিদেশে অধিক ব্যয়বহুল। তবে মানের কারণে অনেকে সেই বাড়তি খরচ করতে রাজি থাকেন। এ ছাড়া বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া সামাজিক মর্যাদা হিসেবে বিবেচিত হয় অনেকের কাছে। অনেক সময় পরিবারের কেউ বিদেশে থাকলে তাঁর পরামর্শে সেখানে চিকিৎসা নিতে যান।

তিনি বলেন, বিদেশে উন্নতমানের চিকিৎসা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি মানুষকে আকর্ষণ করে। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা মনে করেন, বিদেশে চিকিৎসা করালে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন। বাংলাদেশে কিছু হাসপাতাল উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও সবখানে এর প্রাপ্যতা নেই।

এম এ মুবিন খান বলেন, বিদেশের হাসপাতালগুলোতে রোবটিক সার্জারি, জিনোম সিকোয়েন্সিং ইত্যাদির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে পোস্ট-অপারেটিভ ফলোআপ সেবার মান ততটা উন্নত নয়। অথচ বিদেশি হাসপাতালগুলোতে সেবার শৃঙ্খলা এবং রোগীর প্রতি যত্নশীলতা বেশি। এ ছাড়া অনেকের বিদেশে মেডিক্যাল ইনস্যুরেন্স থাকে, যা বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া সহজ করে দেয়।

রোগী টানতে ঢাকায় দপ্তর : বিদেশমুখো রোগীদের চাপ বেশি থাকায় ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের কয়েকটি হাসপাতাল তাদের দপ্তর খুলেছে ঢাকায়, যারা মূলত কমিশনের বিনিময়ে রোগীদের বিদেশে পাঠিয়ে থাকে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বিদেশি অনেক চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশসহ একাধিক দেশের একটি শক্তিশালী মার্কেটিং নেটওয়ার্ক এখানে সক্রিয় রয়েছে। এরা একদিকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য উৎসাহিত করছে, অন্যদিকে বাইরের দেশ থেকে চিকিৎসক আনছে; যদিও তারা তেমন ভালো মানের চিকিৎসা দিতে পারছে না। বরং তাদের পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রপাগান্ডার মাধ্যমে মানুষকে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

বিদেশি এসব হাসপাতাল অতিরিক্ত মুনাফার আশায় রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকে বলে অভিযোগ এই চিকিৎসকের। ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ভারতে চিকিৎসা করালে বাংলাদেশের সব পরীক্ষা যে ভুল বা ভুয়া, সেটা প্রথমেই বলে। আরো বলে, এটা কী চিকিৎসা দিয়েছে? এটা তো কোনো চিকিৎসা না! এমন নেতিবাচক মন্তব্য করে দেশের চিকিৎসার প্রতি আস্থা নড়বড়ে করে দেয়। দেশে ফেরার পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মিলিয়ে দেখা যায়, যে ওষুধটি বাংলাদেশের ডাক্তার দিয়েছিলেন, সেই ধরনের ওষুধই কিন্তু ভারত থেকে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ড. ইউনূসের মন্তব্যে জয়শঙ্করের দাবি

বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা
এস জয়শঙ্কর

চীন সফরে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে করা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ইউনূসের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি বিমসটেকের জন্য একটি সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে; যেখানে সড়ক, রেলপথ, জলপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে।

বিমসটেক ঘিরে জয়শঙ্করের সেই বার্তাকে ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতিতে বেশ তাৎপর্যবাহী বলে মনে করছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।

এখন ব্যাঙ্ককে চলছে বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলন।

এই সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সদ্য চীন সফরে গিয়ে ডক্টর ইউনূস বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য স্থলভাগ পরিবেষ্টিত। ফলে এলাকার সাগর পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা তাদের নেই। ঢাকা এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, প্রধান উপদেষ্টা সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছেন।
ঢাকার তরফে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এখন যদি কেউ অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেন, তাহলে তো কিছু করার নেই।

কিছুটা পরে হলেও জয়শঙ্কর বলেন, বঙ্গোপসাগরে আমাদের দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, প্রায় ছয় হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধু পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গেই সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশির ভাগকেই সংযুক্ত করে। বরং ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্রদান করে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

 

মন্তব্য

টিউলিপের আইনজীবীরা দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
টিউলিপের আইনজীবীরা  দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত
টিউলিপ সিদ্দিক

সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের উত্তর দিতে তাঁর আইনজীবীরা প্রস্তুত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিউলিপ নিজে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই একাধিক অভিযোগ আনা হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি।

গত জানুয়ারিতে টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তের স্বার্থে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর জনসমক্ষে এটি ছিল তাঁর প্রথম বক্তব্য।

স্কাই নিউজকে গত মাসে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে টিউলিপের বিপুল সম্পদ রয়েছে, যার উৎস নিয়ে তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর একটি চিঠি লিখেছিলেন টিউলিপের আইনজীবীরা। সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বিরক্তিকর বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।

কয়েক সপ্তাহ আগে লেখা ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসংক্রান্ত সব জিজ্ঞাসা যেন ২৫ মার্চের মধ্যে প্রেরণ করা হয়।

অন্যথায় ধরে নেওয়া হবে, কর্তৃপক্ষের কাছে আইনসংগত কোনো প্রশ্ন নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক মন্ত্রী লিখেছেন, সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। স্কাই নিউজ বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র : স্কাই নিউজ

 

মন্তব্য
চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে
তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচাল করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এতে পতিত সরকারের লোকজন মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছে। যার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, বিচার বানচাল করতে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য আমরা পেয়েছি। জড়িতদের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করছি না।

সময় হলে এসব জানানো হবে। তবে যত ষড়যন্ত্রই হোক, তা ব্যর্থ হবে এবং বিচার যথাযথভাবে হবে।

 

 

মন্তব্য

মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

ঈদের ছুটি এখনো চলছে। আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ঢাকার বাইরে যাওয়া মানুষের ফেরার স্রোত এখনো শুরু হয়নি।  এ জন্য রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিরচেনা সেই হাঁকডাক নেই। এমন পরিস্থিতিতে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে, কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে গরু ও খাসির মাংস আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ, আলু, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে হেরফের নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের চতুর্থ দিন পরও রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতার তেমন আনাগোনা নেই।

বিক্রেতারা বলছেন, রাজধানীর বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে মুরগি ও কিছু সবজির দাম কমেছে। আবার সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

বাজারে সব মুদি ও সবজির দোকান এখনো খোলেনি।

ক্রেতা কম থাকায় বেশির ভাগ বিক্রেতা অলস সময় পার করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ক্রেতার চাহিদা কম, তাই বেশির ভাগ পণ্যের সরবরাহ কিছুটা কম।

রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের  বাজারে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় উঠেছিল। সোনালি মুরগি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকা  কেজি দরে বিক্রি হয়। গরু ও খাসির মাংস আগের সেই চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ২০০ টাকা।

জোয়ারসাহারা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারে ক্রেতা কম থাকায় মুরগির চাহিদা কমে গেছে। তাই দামও কিছুটা কমেছে। চাহিদা কম থাকায় অনেক মুরগির দোকান এখনো খোলেনি।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকটে টমেটো ও পেঁপের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে চাহিদা কম থাকায় বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। ঈদের আগে বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখন তা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। পটোল প্রতি কেজি ছিল ১০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও ঈদের কয়েক দিন আগে বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বেগুন প্রতি কেজি মানভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রমজান মাসে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। দেশি শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঈদের আগে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা লাউ আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।  

বাড্ডার সবজি বিক্রেতা মো. সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন চাহিদা কম থাকার কারণে কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। আবার আগামী সপ্তাহ থেকে সবজির চাহিদা বেড়ে গেলে দামও বেড়ে যাবে। কারণ এখন সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। ঈদের আগে ঢেঁড়স, পটোল ও করলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। সেগুলোর দাম এখন ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় পেঁপের দামও বাড়তি।

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ