বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারি বাড়ানো, মুসলিম দেশগুলোতে রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং মুসলিম পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ আইনগত হালাল কাঠামো চালু করেছে ভিয়েতনাম। দেশটির সরকার সম্প্রতি ডিক্রি ১২৭/২০২৬ (Decree No. 127/2026/ND-CP) জারি করেছে, যা হালাল পণ্য ও সেবার মাননিয়ন্ত্রণ, সার্টিফিকেশন এবং বাজার উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রদান করবে।
গত ৬ এপ্রিল জারি হওয়া এ ডিক্রি গত ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ভিয়েতনামে হালাল পণ্য, সেবা, লেবেলিং, ট্রেসেবিলিটি (পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ), সার্টিফিকেশন এবং মাননিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামোর আওতায় এলো।
নতুন বিধান অনুযায়ী কোনো পণ্যকে হালাল হিসেবে বাজারজাত করতে হলে তার কাঁচামাল, উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বিপণনের প্রতিটি ধাপ হালাল মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। প্রাণিজ উপাদান ব্যবহার করা হলে তা অবশ্যই শরিয়াহসম্মত উৎস থেকে আসতে হবে এবং উৎপাদনের সময় হারাম উপাদানের সঙ্গে মিশ্রণ বা দূষণ (cross-contamination) প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ডিক্রিতে হালাল লেবেলিংয়ের বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের মোড়কে ‘হালাল’ বা ‘হালাল প্রোডাক্ট’ উল্লেখ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে পণ্যের উৎস ও সরবরাহ শৃঙ্খল সহজে যাচাই করা যায়।
ভিয়েতনামের মান, পরিমাপ ও গুণগত মান কমিশনের (STAMEQ) কর্মকর্তারা বলছেন, হালালকে শুধু ধর্মীয় বিষয় হিসেবে নয়, বরং গুণগত মান, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের একটি কৌশলগত মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত। তাদের মতে, হালাল সনদ ভবিষ্যতে ভিয়েতনামের কৃষিপণ্য, খাদ্যপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের জন্য নতুন বাজারের দুয়ার খুলে দিতে পারে।
ভিয়েতনাম এরই মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ইরানের সঙ্গে হালাল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং ইসলামী দেশগুলোর মান ও পরিমাপবিষয়ক প্রতিষ্ঠান SMIIC-এর মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেদের নীতিমালা সমন্বয়ের চেষ্টা করছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ভিয়েতনামে এক হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের হালাল সনদ অর্জন করেছে। নতুন আইন এসব কার্যক্রমকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে ভিয়েতনাম এখন হালাল অর্থনীতিকে জাতীয় রপ্তানি কৌশলের অংশে পরিণত করতে চাইছে। একই সঙ্গে মুসলিম পর্যটকদের জন্য হালাল খাদ্য, মুসলিমবান্ধব হোটেল ও পর্যটনসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে পর্যটন খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
নতুন আইনকে অনেক পর্যবেক্ষক ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হলে দেশটি বৈশ্বিক হালাল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
সূত্র : সালাম গেটওয়ে