• ই-পেপার

মশার উপদ্রব বন্ধ হোক

মাদকমুক্ত সমাজ চাই

মাদকমুক্ত সমাজ চাই

যুবসমাজের অবক্ষয় রোধে সব থেকে বড় অন্তরায় হচ্ছে মাদক। বর্তমান সমাজ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশির ভাগ লোক মাদকাসক্ত। মাদক শুধু যুবসমাজের মধ্যে আবদ্ধ এমনটা নয়, আজকের শিক্ষিত নারীসমাজের বড় একটি অংশ মাদকে আসক্ত। এই আসক্তির পেছনে রয়েছে হতাশা, পারিবারিক কারণ, অসৎসঙ্গ কিংবা একাকিত্ব। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন পরিবারের সঠিক গাইডলাইন। ছেলেবেলা থেকেই বাচ্চাদের নৈতিক মূল্যবোধ, ভালো-মন্দের পার্থক্য এবং ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জ্ঞান দান করতে হবে। এ ছাড়া পারিবারিক অশান্তির কারণে তারা দিকশূন্য হয়ে পড়ে। মা-বাবা বা পরিবারের বড়দের মধ্যকার অশান্তি যেন বাচ্চার মাঝে প্রভাব ফেলতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

মাদকাসক্তির আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে এটির সহজলভ্যতা। বর্তমান সমাজে মাদক একটি মারাত্মক ব্যাধিরূপে প্রচারিত হলেও আশপাশের বাজারে কিংবা নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যেই, যার বিরুদ্ধে নেই কোনো আইনের পদক্ষেপ। গ্রামে গিয়ে বেশির ভাগ ছেলেকে একসঙ্গে দেখা মেলে ঠিক সেসব জায়গায়, যেখানে মাদক সহজলভ্য। সমাজকে এই অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারে সঠিক জ্ঞানদান, পরিবারের গাইডলাইন এবং সুষ্ঠু আইনের পদক্ষেপ।

ঈশিতা হক

শিক্ষার্থী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

পরিবেশ বাঁচাতে হবে

পরিবেশ বাঁচাতে হবে

৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস এলেই আমরা বৃক্ষরোপণ আর সেমিনারে মেতে উঠি। কিন্তু বাস্তবে আমাদের চারপাশের পরিবেশ আজ ধুঁকছে। দূষিত বাতাসে শিশুরা শ্বাসকষ্টে ভুগছে। কারখানার বর্জ্যে কালো হওয়া শীতলক্ষ্যায় জাল ফেলার জায়গা নেই। অপরিকল্পিত উন্নয়নে আমরা যেন নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একখণ্ড বধ্যভূমি বানাচ্ছি।

অথচ বাংলাদেশে আইনি কাঠামোর অভাব নেই। সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুস্থ পরিবেশ আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫, দণ্ডবিধির (চবহধষ ঈড়ফব) ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (ঈত্চঈ) ১৩৩ ধারায় দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা রয়েছে। এমনকি উচ্চ আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য ও আইনের প্রয়োগহীনতায় এসব আজ শুধুই কাগুজে দলিলে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ ধ্বংস এক নীরব হত্যাকাণ্ড ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সম্মিলিত সচেতনতাই পারে এই ধ্বংসযজ্ঞ রুখতে। প্রকৃতিকে বাঁচাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হোক এবারের পরিবেশ দিবসের মূল অঙ্গীকার।

মো. বাইজিদ শেখ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকার খাল দখল ও দূষণ মুক্ত করুন

ঢাকার খাল দখল ও দূষণ মুক্ত করুন

ঢাকা একটি জনবহুল শহর। গত কয়েক বছরে শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছে না শিক্ষা, সচেতনতা। ঢাকা শহরের খালগুলোর দিকে তাকালেই তা উপলব্ধি করা যায়। রাজধানী শহর ঢাকায় একসময় খালের সংখ্যা বেশি থাকলেও এখন সেগুলোর দেখা মেলে না। দূষণ ও দখলে অনেক খালই আজ বিলীন হয়ে গেছে। ঢাকার অনেক বাসিন্দা খাল ভরাট করে তৈরি করছে বাসভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা। পরিবেশ সম্পর্কে অজ্ঞতা, অসচেতনতাই মূলত এর প্রধান কারণ। সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি কঠোর ভূমিকা না নেয়, তাহলে খাল ভরাট সমস্যা প্রকট হতে থাকবে। জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ছড়াবে রোগ-বালাই। এই সমস্যা সমাধানে সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। খাল দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ঢাকার খালগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব।

বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা, এই বিষয়ে অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নূরাত ইসলাম

শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা

রাস্তা সংস্কার চাই

রাস্তা সংস্কার চাই

বগুড়া সদরের বড়িয়াবটতলার দ্বিতীয় বাইপাসসংলগ্ন চৌরাস্তার পশ্চিম পাশের রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তাটিতে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এটি একটি ব্যস্ততম এলাকা। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে অনেক মানুষ যাতায়াত করে। রাস্তার এই বেহালের কারণে প্রায়ই সিএনজি, বাস, অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষের জন্য এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন ভগ্নদশা চলতে থাকলে অচিরেই এটি বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নাগরিক নিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা অতীব জরুরি। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশু দৃষ্টি কামনা করছি।

সরফরাজ শিপন

শিক্ষার্থী, সরকারি শাহসুলতান কলেজ, বগুড়া