<p class="body" style="text-align:justify"><span><span style="line-height:10pt"><span><span style="color:black"><span><span><span style="letter-spacing:-.2pt">শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি পরিশোধ প্রক্রিয়াকে আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সহজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চালু করেছে ক্যাশলেস সেবা।</span></span></span></span></span></span></span></p> <p class="body" style="text-align:justify"><span><span style="line-height:10pt"><span><span style="color:black"><span><span><span style="letter-spacing:-.2pt">এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি আবাসিক হলে এই ক্যাশলেস সেবা চালু করা হয়েছে এবং একটি বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব হল ও বিভাগে এই সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। এত দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভর্তি, পুনঃ ভর্তি, মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট, টেস্টিমোনিয়াল ও অন্যান্য সেবার ফি পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ব্যাংকের রসিদ সংগ্রহ করে ব্যাংকে জমা দিয়ে আবার সেই রসিদ বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে জমা দিতে হতো। এই প্রক্রিয়ায় সময়ক্ষেপণ, ভোগান্তি এবং আর্থিক লেনদেনে জটিলতার সৃষ্টি হতো। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকেও নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীর জমা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের তত্ত্বাবধানে অনলাইনে ফি গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় একজন শিক্ষার্থী ভর্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বর্ষে বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও আবাসিক হলে প্রদেয় সব ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে পারবেন। </span></span></span></span></span></span></span></p> <p class="body" style="text-align:justify"><span><span style="line-height:10pt"><span><span style="color:black"><b><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt">যেভাবে পাওয়া যাবে সেবা : এই</span></span></span></b><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt"> সেবা পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা </span></span></span><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt">student.eis.du.ac.bd </span></span></span><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt">পোর্টালে লগইন করে </span></span></span><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt">‘</span></span></span><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt">অনলাইন সার্ভিস (হল)</span></span></span><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt">’</span></span></span><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt"> মেন্যু থেকে প্রয়োজনীয় সেবার ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে পারবেন। এরপর হল প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা </span></span></span><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt">academic.eis.du.ac.bd </span></span></span><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt">পোর্টালে লগ ইন করে শিক্ষার্থীদের আবেদন ও পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য যাচাই </span></span></span></span></span></span></span></p> <p class="body" style="text-align:justify"><span><span style="line-height:10pt"><span><span style="color:black"><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt">(</span></span></span><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt">Check</span></span></span><span><span><span style="letter-spacing:-.1pt">) করবেন এবং সঠিক হলে সংশ্লিষ্ট সেবা অনুমোদন (অঢ়ঢ়ত্ড়াব) করবেন। হল কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর শিক্ষার্থীরা পুনরায় স্টুডেন্ট পোর্টালে লগ ইন করে আবেদনটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় রসিদ ও সেবা সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এই অনলাইন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী ও বিভাগের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকায় ভবিষ্যতে সহজে তা যাচাই করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কাগজভিত্তিক রসিদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ঝামেলা কমবে এবং বিপুল পরিমাণ কাগজের অপচয় রোধ হবে।</span></span></span></span></span></span></span></p> <p class="body" style="text-align:justify"><span><span style="line-height:10pt"><span><span style="color:black"><span><span><span style="letter-spacing:-.2pt">বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব আবাসিক হলে এখন পর্যন্ত শতভাগ ফি অনলাইনে নেওয়া শুরু হয়েছে, সেগুলো হলো বেগম রোকেয়া হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, অমর একুশে হল, জগন্নাথ হল, সূর্যসেন হল, স্যার এ এফ রহমান হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, কবি জসীমউদ্দীন হল। এসব হলে শিক্ষার্থীরা হল আসন বরাদ্দ, আবাসিক বা অনাবাসিক প্রত্যয়নপত্র, পুনঃ ভর্তি হল ক্লিয়ারেন্স, আইডি কার্ড বা কার্ড হারানো, সার্টিফিকেট বা প্রশংসাপত্র, মার্কশিট, মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামসংক্রান্ত ফি এবং অন্যান্য হল নির্ধারিত ফিসহ যাবতীয় ফি অনলাইনে দিতে পারছেন। অন্যান্য হলেও শিগগিরই এসব ফি অনলাইনে নেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস। </span></span></span></span></span></span></span></p> <p class="body" style="text-align:justify"><span><span style="line-height:10pt"><span><span style="color:black"><b><span><span>ধাপে ধাপে বিভাগ ও ইনস্টিটিউটেও শুরু হবে সেবা : এই</span></span></b><span><span><span style="letter-spacing:-.2pt"> সেবার আওতায় বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে বিভাগীয় পর্যায়ের সব ফি অনলাইনে নেওয়া। কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের প্রোগ্রামাররা জানিয়েছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো বিভাগ ও ইনস্টিটিউট যদি তাদের সব ফি অনলাইনে নিতে চায়, তাহলে তাঁরা সেটি চালু করতে দিতে পারবেন। </span></span></span></span></span></span></span></p> <p style="margin-bottom:13px"><span><span style="line-height:115%"><span><span><span style="line-height:115%"><span><span style="letter-spacing:-.2pt">এ বিষয়ে গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, </span></span></span></span><span><span style="line-height:115%"><span><span style="letter-spacing:-.2pt">‘</span></span></span></span><span><span style="line-height:115%"><span><span style="letter-spacing:-.2pt">আমরা গত বছর থেকে চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের সেবাসংশ্লিষ্ট যেসব বিষয় আছে, সেগুলোকে প্রায়োরিটি দিয়ে ডিজিটাইজেশন করে ফেলা। এতে পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের যে ভোগান্তি হয়, তা অনেকাংশে কমে যাবে ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে। এর আওতায় আমরা প্রথমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির সম্পূর্ণ টাকা অনলাইনে নিয়েছি। এখন অন্যান্য সেবার ফি-ও অনলাইনে নেওয়ার কাজ চলমান আছে। আমরা ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কাজ অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছি এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি।</span></span></span></span><span><span style="line-height:115%"><span><span style="letter-spacing:-.2pt">’</span></span></span></span></span></span></span></p>