• ই-পেপার

দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হোক

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

কৃষিজমির অম্লতা বৃদ্ধি

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

শস্যশ্যামল বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি হলো এর উর্বর মাটি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিজমিতে বাড়ছে এসিডিটি বা অম্লতা। এতে জমির উৎপাদনক্ষমতা যেমন কমছে, আবার কৃষকের খরচও বেড়েই চলেছে। বলা যায়, দেশের কৃষিতে নীরব বিপর্যয় দানা বাঁধছে। জমির এই গুণগত মানের অবক্ষয় শুধু আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং আমাদের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথেও বড় অন্তরায়।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) গবেষণার বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৩৯ লাখ হেক্টর বা আমাদের আবাদি জমির প্রায় অর্ধেক বর্তমানে অম্লতা থেকে অতি অম্লতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব জমির পিএইচ মান ৪.৫ থেকে ৫.৫, যেখানে আদর্শ মান হলো ৬.৫ থেকে ৭.৫। এ ধরনের মাটি থেকে ফসল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে না। এতে ফলন কমে যায়।

গবেষকরা বলছেন, একদিকে ফসলের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো ক্ষারধর্মী উপাদান ক্রমাগত অপসারিত হচ্ছে; অন্যদিকে ইউরিয়া ও সালফারজাত রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার মাটিকে অতিরিক্ত অম্ল করে তুলছে। জৈবসারের ব্যবহার কমে যাওয়া, অতিবৃষ্টিতে পুষ্টি উপাদান ধুয়ে যাওয়া মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এ ছাড়া মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু একের পর এক ফসল উৎপাদনের কারণেও মাটির গুণগত মান কমছে। এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদের কৃষকদের। কঠোর পরিশ্রম করেও কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না, যা তাঁদের ঠেলে দিচ্ছে ধারাবাহিক লোকসানের দিকে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, মাটি শুধু ফসল উৎপাদন মাধ্যম নয়, এটি জীবন্ত ইকোসিস্টেম। একে বাঁচিয়ে না রাখলে ভবিষ্যতে খাদ্যসংকট প্রকট হবে। চলমান বিপর্যয় রোধে গবেষকরা বলছেন, সঠিক মাত্রায় চুন প্রয়োগের মাধ্যমে মাটির মান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সার খরচ কম লাগায় উৎপাদন খরচও অনেকটা বেঁচে যায়। খবরে বলা হয়েছে, এ নিয়ে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় আলু চাষিদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে গবেষণাও হয়েছে। এতে বেশ চমকপ্রদ ফল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জৈবসারও মাটির অম্লতা নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে।

আমরা মনে করি, অম্লতার অভিশাপ থেকে মাটিকে মুক্ত করতে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। প্রতিটি এলাকার মাটি পরীক্ষা করে সে বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের অবগত করতে হবে। পাশাপাশি অম্লতা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে গবেষণায় জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

শিল্প সুরক্ষায় ইতিবাচক উদ্যোগ

সিটি গ্রুপের ঋণ পুনর্গঠন

শিল্প সুরক্ষায় ইতিবাচক উদ্যোগ

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানামুখী সংকটে আছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতির প্রাণ বেসরকারি শিল্প খাত ধুঁকছে। বহু শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় থাকা শিল্প খাতকে টেনে তোলার জন্য বিএনপি সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়ে দেশের রুগ্ণ ও বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রুগ্ণ শিল্প-কারখানাকে ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগিয়ে এসেছে ব্যাংকিং খাতও। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গভীর আর্থিক সংকটে থাকা দেশের বৃহৎ একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপকে বাঁচাতে এর বিপুল ঋণ পুনর্গঠনের যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে দেশের ৩৬টি ব্যাংক।

ভোগ্যপণ্য, খাদ্যপণ্য, ভোজ্যতেল, চিনি, ময়দা, সিমেন্ট, স্টিল, কাগজসহ বিভিন্ন খাতে সিটি গ্রুপের কার্যক্রম রয়েছে। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা বলে জানা গেছে। গ্রুপটিতে সরাসরি প্রায় ২৫ হাজার মানুষ কর্মরত। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট দীর্ঘ মেয়াদে গভীর হলে এর প্রভাব শুধু একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সরবরাহব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাত এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতগুলোতেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

জানা যায়, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, চলতি মূলধনের ঘাটতি, ব্যাংক সহায়তা কমে যাওয়া এবং নতুন প্রকল্পে গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় শিল্প গ্রুপটির আর্থিক সংকট ক্রমেই প্রকট হয়েছে। গ্রুপের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাঁর দাবি, ২০২২ সালের পর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে সিটি গ্রুপের ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার ৫০০ কোটির টাকার বেশি। পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে ব্যাংকিং খাতের চলমান অস্থিরতা। সিটি গ্রুপের দাবি, অতীতে যেসব ব্যাংক বড় অঙ্কের চলতি মূলধন সহায়তা দিত, তাদের অনেকেই এখন আগের মতো সহায়তা দিতে পারছে না। কম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত ছয়টি প্রকল্প উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত থাকলেও গ্যাস না পাওয়ায় সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। অথচ সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ, বেতন এবং অন্যান্য স্থায়ী ব্যয় অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মতে, সিটি গ্রুপের মতো বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সচল রাখা শুধু প্রতিষ্ঠানটির জন্য নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং খাত, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ঋণগুলো তাৎক্ষণিকভাবে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করে একটি সমন্বিত পুনর্গঠন কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা মনে করছেন, কোনো একটি ব্যাংক এককভাবে পদক্ষেপ নিলে ঝুঁকি ও ক্ষতির আশঙ্কা বাড়তে পারে। কিন্তু সব ব্যাংক সমন্বিতভাবে এগোলে ঋণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাঁদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বড় করপোরেট ঋণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

দেশে বিনিয়োগ বা শিল্পায়নকে এগিয়ে নিতে হলে বিনিয়োগের পরিবেশ এবং স্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দেশি-বিদেশি সব উদ্যোক্তার কাছেই নেতিবাচক বার্তা যাবে। তাই ঋণ পুনর্গঠন, পর্যাপ্ত চলতি মূলধন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং নীতিগত সহায়তার সমন্বয় ঘটাতে হবে। আমরা মনে করি, শিল্প সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অবশ্যই সফল হবে।

এখনই নীতিমালা জরুরি

শিশুদের ডিজিটাল আসক্তি

এখনই নীতিমালা জরুরি

প্রযুক্তির দাপটে আমাদের শিশুদের চিরচেনা শৈশবের রূপটাই আমূল বদলে যাচ্ছে। একসময় শিশুরা বিকেলে খেলার মাঠে ছুটে গেলেও এখন তাদের একটি বড় অংশ ডিজিটাল স্ক্রিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে। গবেষণা বলছে, এতে শিশুরা চোখের সমস্যা, স্থূলতা, মানসিক বিকাশে বাধাসহ বিবিধ সমস্যায় ভুগছে। বিষয়টি এতটাই বেড়েছে যে গোটা বিশ্বই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ডিজিটাল আসক্তি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় দেশে দেশে আইন হচ্ছে। হতাশার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য নেই।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের কিশোর-কিশোরীদের একটি বড় অংশের রাত জেগে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করা নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ঘরে ঘরে একই চিত্র। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব কালের কণ্ঠকে বলেন, যেকোনো নেশার মতো ইন্টারনেট আসক্তিও মস্তিষ্কে ডোপামিনের ক্ষরণ বাড়িয়ে মানুষের মনোযোগ ও স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে দেয়। ডিজিটাল আসক্তির কারণে কিশোররা নানা অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। গতকালই আরেক খবরে বলা হয়েছে, লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্র মেহেদী হাসানকে (১৫) পিটিয়ে ও শ্বাস রোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) জানিয়েছে, ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে এবং গেমিং ডিভাইসে সময় কাটাচ্ছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত সময় হচ্ছে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা। এতে এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় এবং ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই মাথা ব্যথায় ভুগছে। এসব কারণে অনেক দেশ ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। বিশেষজ্ঞরা তাগিদ দিয়েছেন, বাংলাদেশকেও একই পথে হাঁটতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, শুধু শিশুরা নয়, মধ্যবয়স্করাও সামাজিক মাধ্যমকে এমনভাবে ব্যবহার করছেন, যা ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনছে। এসব রোধে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। রাষ্ট্রকেও এখন ভাবতে হবে আমরা কোন ধরনের সমাজ চাচ্ছি।

আমরা মনে করি, দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই একে বর্জন করা সম্ভব নয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব নয়। আগামীর প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ দিতে হলে এখনই শিশুদের জন্য ডিজিটাল নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রয়োজন এ বিষয়ে সচেতনতাও।

সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি

সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে

দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নতি দরকার। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, শুধু সাধারণ নাগরিক নয়, খোদ নিরাপত্তা বাহিনীরা সদস্যরাও দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে কোস্ট গার্ডের স্টেশনে হামলা, রাজধানীতে ছিনতাইকারীর হামলায় পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা সেই বিষয়টিই সামনে এনেছে। এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর বেশ কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে জান-মালের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের শঙ্কা বাড়ছে।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, সুন্দরবনে আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ দস্যুচক্র। অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, নদীপথে চাঁদাবাজি, জেলে ও বনজীবীদের জিম্মির মতো ঘটনায় গোটা সুন্দরবনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার মোংলার সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ডের হাড়বাড়িয়া স্টেশনে দুর্বৃত্তরা হামলা করে। এ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে গত মঙ্গলবার রাজধানীর আদাবরে ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে উল্টো হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ কুমার দে। অন্যদিকে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে দুই ছিনতাইকারী। এর আগেও সাভার ও কুমিল্লায় পুলিশের ওপর বড় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অপর এক খবরে বলা হয়েছে, নোয়াখালী জেলায় গত দেড় মাসে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, মাদকসেবীদের তৎপরতায় জেলার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। শুধু নোয়াখালী নয়, খোঁজ নিলে দেখা যাবে আরো বহু জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র এমনই। পুলিশের তরফ থেকে বারবার জিরো টলারেন্স, নিয়মিত টহলের কথা বলা হলেও এর দৃশ্যমান প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পুরনো দস্যুবাহিনীর সদস্যরাই আবার তৎপর হয়েছে। বিশ্লেষকদের অভিমত হলো, দস্যু তৎপরতার পুনরুত্থানে শুধু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দায়ী নয়, এর পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক সামাজিক কারণ। আত্মসমর্পণ করা দস্যু পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, ঘোষিত পুনর্বাসন কর্মসূচি টেকসই হয়নি।

দেখা যাচ্ছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এর সঙ্গে বিবিধ বিষয় যুক্ত থাকে। একই কারণে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাও কোনো সাময়িক বা খণ্ডকালীন কাজ নয়, এটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া।

কাজেই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। উন্নত প্রশিক্ষণসহ পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টহল জোরদার এবং টহলের পরিসর বাড়াতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অধরাই থেকে যাবে।