• ই-পেপার

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত তাঁতশিল্প

ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ জরুরি

ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ জরুরি

চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়গুলোতে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় ফুট ওভারব্রিজ নেই। এর ফলে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতগামী ও সাধারণ পথচারীদের রাস্তা পারাপার অনিরাপদ হয়ে উঠছে। কিছু সড়কের মোড়ে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের সর্বনিম্ন সুরক্ষাব্যবস্থাটিও নেই। নিরাপদ রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং ও ফুট ওভারব্রিজ না থাকায় পথচারীরা ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করে রাস্তা পারাপার হয়। ফলে নগরীর ব্যস্ততম সড়কের মোড়গুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। নগরীর ২ নম্বর গেট, জিইসি, দেওয়ানহাট, লালখান বাজার ও টাইগারপাস এলাকায় পথচারীরা আতঙ্কে রাস্তা পারাপার হয়। বিষয়টি আরো উদ্বেগজনক অবস্থা তৈরি করে, যখন আড়াআড়াড়িভাবে রাস্তা পারাপারে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সড়কের মোড়গুলোতে যানবাহন ও পথচারীদের চতুর্মুখী চলাচলের ফলে সৃষ্ট তীব্র যানজট কর্মজীবী মানুষের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সড়কের উল্লিখিত মোড়গুলোতে দ্রুত ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ অতীব জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করছি।

মো. দ্বীন ইসলাম

শিক্ষার্থী, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, চবি

মাদকমুক্ত সমাজ চাই

মাদকমুক্ত সমাজ চাই

যুবসমাজের অবক্ষয় রোধে সব থেকে বড় অন্তরায় হচ্ছে মাদক। বর্তমান সমাজ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশির ভাগ লোক মাদকাসক্ত। মাদক শুধু যুবসমাজের মধ্যে আবদ্ধ এমনটা নয়, আজকের শিক্ষিত নারীসমাজের বড় একটি অংশ মাদকে আসক্ত। এই আসক্তির পেছনে রয়েছে হতাশা, পারিবারিক কারণ, অসৎসঙ্গ কিংবা একাকিত্ব। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন পরিবারের সঠিক গাইডলাইন। ছেলেবেলা থেকেই বাচ্চাদের নৈতিক মূল্যবোধ, ভালো-মন্দের পার্থক্য এবং ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জ্ঞান দান করতে হবে। এ ছাড়া পারিবারিক অশান্তির কারণে তারা দিকশূন্য হয়ে পড়ে। মা-বাবা বা পরিবারের বড়দের মধ্যকার অশান্তি যেন বাচ্চার মাঝে প্রভাব ফেলতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

মাদকাসক্তির আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে এটির সহজলভ্যতা। বর্তমান সমাজে মাদক একটি মারাত্মক ব্যাধিরূপে প্রচারিত হলেও আশপাশের বাজারে কিংবা নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যেই, যার বিরুদ্ধে নেই কোনো আইনের পদক্ষেপ। গ্রামে গিয়ে বেশির ভাগ ছেলেকে একসঙ্গে দেখা মেলে ঠিক সেসব জায়গায়, যেখানে মাদক সহজলভ্য। সমাজকে এই অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারে সঠিক জ্ঞানদান, পরিবারের গাইডলাইন এবং সুষ্ঠু আইনের পদক্ষেপ।

ঈশিতা হক

শিক্ষার্থী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

মশার উপদ্রব বন্ধ হোক

মশার উপদ্রব বন্ধ হোক

বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে মশার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ইত্যাদি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে এবং মশাবাহিত রোগের আশঙ্কা দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতেই দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এরই মধ্যে বহু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে এক লাখেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল, যা পরিস্থিতির গভীরতা স্পষ্ট করে। বর্তমানে পানি জমে থাকা, অপরিষ্কার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নালার অস্বাস্থ্যকর অবস্থা এবং নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের অভাব এই সমস্যাকে আরো তীব্র করে তুলছে। এ ছাড়া বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে কিউলেক্স মশার সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে, যা নগরবাসী ও দেশবাসীর জন্য অতিরিক্ত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নুসরাত জাহান কিন্নরী

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পরিবেশ বাঁচাতে হবে

পরিবেশ বাঁচাতে হবে

৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস এলেই আমরা বৃক্ষরোপণ আর সেমিনারে মেতে উঠি। কিন্তু বাস্তবে আমাদের চারপাশের পরিবেশ আজ ধুঁকছে। দূষিত বাতাসে শিশুরা শ্বাসকষ্টে ভুগছে। কারখানার বর্জ্যে কালো হওয়া শীতলক্ষ্যায় জাল ফেলার জায়গা নেই। অপরিকল্পিত উন্নয়নে আমরা যেন নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একখণ্ড বধ্যভূমি বানাচ্ছি।

অথচ বাংলাদেশে আইনি কাঠামোর অভাব নেই। সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুস্থ পরিবেশ আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫, দণ্ডবিধির (চবহধষ ঈড়ফব) ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (ঈত্চঈ) ১৩৩ ধারায় দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা রয়েছে। এমনকি উচ্চ আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য ও আইনের প্রয়োগহীনতায় এসব আজ শুধুই কাগুজে দলিলে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ ধ্বংস এক নীরব হত্যাকাণ্ড ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সম্মিলিত সচেতনতাই পারে এই ধ্বংসযজ্ঞ রুখতে। প্রকৃতিকে বাঁচাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হোক এবারের পরিবেশ দিবসের মূল অঙ্গীকার।

মো. বাইজিদ শেখ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়