করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে মধুর উপকারিতা নিয়ে নানা আলোচনা চলেছে। এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে মধুর চাহিদা অন্য সময়ের তুলনায় বেড়েছে। তাই দেশি উদ্যোক্তারা বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদনে আরো বেশি সোচ্চার হয়েছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে মধুর উপকারিতা নিয়ে নানা আলোচনা চলেছে। এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে মধুর চাহিদা অন্য সময়ের তুলনায় বেড়েছে। তাই দেশি উদ্যোক্তারা বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদনে আরো বেশি সোচ্চার হয়েছে।
মৌ চাষের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি চাষিদের উৎপাদিত মধু বাজারজাতকরণে সহায়তা করে যাচ্ছে বিসিক। বাংলাদেশে উৎপাদিত ৫০০ মেট্রিক টন মধু জাপান, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশগুলোতে রপ্তানি হচ্ছে।
বিসিক থেকে জানা যায়, বিসিক দেশে প্রথম ১৯৭৭ সালে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাগেরহাট জেলার যাত্রাপুরে কাঠের বাক্সে দেশীয় মৌমাছির জাত ‘ফেরেনা’ চাষ শুরু করে।
জানা গেছে, বিসিক বাণিজ্যিকভাবে এখন পর্যন্ত ২৫ হাজারের বেশি মৌ চাষিকে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌ চাষের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই কার্যক্রম প্রসারে মৌমাছি পালন স্থায়ী ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের একটি পরিকল্পনা নিয়েছে বিসিক। ক্রমাগতভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন নতুন মৌ চাষি তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া মৌ চাষে উপযোগী আরো ১২টি জেলায় বিশেষ খামার সৃষ্টি করে মধু উৎপাদনে কাজ করছে সরকার।
প্রশিক্ষণ শেষে বিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ পাচ্ছে এবং মৌ চাষের জন্য একটি আলাদা ঋণ প্রকল্প আছে সেটি থেকেও ৯ শতাংশ হারে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। খামার স্থাপনের জন্য ১৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত এই ঋণ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ মৌ চাষি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও মধু চাষি এবং হানি বাংলাদেশ প্রসেসিং প্লান্টের মালিক মো. এবাদুল্লাহ আফজাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যারা মৌ চাষ করি তারা সরিষার আবাদ করি না। বিভিন্ন জেলায় যেখানে সরিষার মাঠ আছে সেখানে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করি। একইভাবে আবার কালোজিরা, ধনিয়া, বরই, লিচুর ফুলসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন ফুল থেকেও মধু সংগ্রহ করে থাকি আমরা। আমি ভারতে ‘হানি বাংলাদেশ’ নামে মধু রপ্তানি করছি, আমার প্রসেসিং প্লান্ট গাজীপুরে। দেশে মধু আহরণের প্রচুর সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে যদি আরো প্রশিক্ষণ, ঋণের ব্যবস্থা ও মৌমাছি সরবরাহ করা যায়, তাহলে দেশের বেকারত্বের সমস্যা দূর হওয়ার পাশাপাশি মধুর উৎপাদন বাড়বে। উৎপাদন বাড়লে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি মাইলফলক হবে মধু রপ্তানিতে বাংলাদেশ।
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে খামারিদের বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, ঋণ দেয় সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা। আগে সরিষার মাঠ থেকে মধু সংগ্রহ করতে দিতেন না কৃষকরা, তাঁদের ধারণা ছিল ফুল থেকে মধু আহরণ করা হলে ফসলের ক্ষতি হয়। সেটা ২০১৬ সাল থেকে কৃষি সম্প্রসারণ কৃষকদের বুঝিয়ে এটি সমাধান করেছেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি সরিষা চাষিদের এবং মৌ চাষিদের ৪ শতাংশে সার্ভিস লোন দেওয়ার জন্য। তাহলে অবশ্যই সরিষা চাষি ও মধু উৎপাদন দুটিই আরো বাড়বে।’
বিসিকের মৌ চাষ উন্নয়ন প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে এই প্রকল্পের দায়িত্বরত খন্দকার আমিনুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মধু অত্যন্ত নামকরা সুমিষ্ট মধু। এই মধুর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মধু উন্নয়নে বিসিকের সব কাজ চলমান রয়েছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ফলে মধু চাষ বা চাষি বাড়ছে। দেশে প্রায় সাত লাখ হেক্টর জমির কাছাকাছি সরিষা আবাদ হয়। এগুলোতে যদি আমরা মৌ খামার স্থাপন করতে পারি তাহলে আমাদের দেশে এক লাখ মেট্রিক টন মধু আহরণ করা সম্ভব। সেই সঙ্গে ব্যাপক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘মধু সংরক্ষণ ও চাষিদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর জন্য একটি স্থায়ী প্রশিক্ষণকেন্দ্র খুবই প্রয়োজন। দেশে এখন সময় এসেছে মধু নীতিমালা তৈরি করা, যে নীতিমালার আলোকে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গুণগত মান বজায় রেখে মধু উৎপাদন করা হবে। যাতে নিরাপদ খাদ্য হিসেবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা যায়। সে সময় এখন সামনে এসেছে। করোনাকালে দেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বেই মানুষ মধু খাওয়ায় ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়েছেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি,
স্বল্প সুদে ঋণের মাধ্যমে চাষিদের মৌ বাক্স, মৌমাছি ও বিভিন্নভাবে সহায়তা দিচ্ছি। দেশে বহু বেকার রয়েছে যারা এখন মধু চাষে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারে।’
সম্পর্কিত খবর
ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লীতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা-বেচাকেনা। তবে সুতাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের অধিকতর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীদের লাভ কম। তাঁরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চেয়েছেন। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধুলটিয়া, বাজিতপুর, সুরুজ, বর্থা, বামনকুশিয়া, তারটিয়া ও দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল, চণ্ডী, নলুয়া, দেওজান, নলশোঁধা, বিষ্ণুপুর, মঙ্গল হোড়, কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুর তাঁতশিল্পের জন্য বিখ্যাত। এখানে তৈরি হয় হাইব্রিড, সুতি ও সিল্ক জামদানি, বালুচরি, ধানসিঁড়ি, আনারকলি, সফট সিল্ক, রেশম, তশর, কাতান, একতারি ও দোতারি নামের নানা শাড়ি।
টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, চাদরের সারা বছরই কমবেশি বেচাকেনা হয়ে থাকে। পাইকারি ক্রেতারা সড়কপথে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে কাপড়ের হাট থেকে কিনে নিয়ে বাজারজাত করেন।
সরেজমিনে তাঁতপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁত শ্রমিকদের। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাপড় বুনতে সহযোগিতা করছেন।
প্রান্তিক তাঁতি নয়ন বণিক বলেন, টাঙ্গাইলের হস্তচালিত তাঁত বিলুপ্তির পথে। বেশির ভাগ কারিগর খটখটি ও চিত্তরঞ্জন ছেড়ে সেমি অটো বা হ্যান্ড পাওয়ার লুম ও অটো বা পাওয়ার লুমে চলে গেছে। খটখটি (পিট লুম) ও চিত্তরঞ্জন তাঁতে শাড়ি বুনতে সময় বেশি লাগে। শাড়ি বুনে যা উপার্জন হয়, এতে সংসার চলে না। কিন্তু পাওয়ার লুম বা সেমি অটো পাওয়ার লুমে অল্প সময়ে বেশি শাড়ি বুনানো যায়।
সুধীর দাস বলেন, একজন দক্ষ কারিগর একসঙ্গে পাশাপাশি চারটি পাওয়ার লুমে কাজ করতে পারেন। ফলে কারিগররা পাওয়ার লুম ও সেমি অটো বা হ্যান্ড পাওয়ার লুমের দিকে ঝুঁকছেন। এ ছাড়া অন্যান্য পেশার শ্রমিকদের উন্নয়নে নানা ধরনের সংগঠন থাকে। তাঁদের এ পেশায় কোনো সংগঠনও নেই। যাঁরা নিরুপায় তাঁরাই এখনো এ পেশায় রয়েছেন।
রাজশাহী থেকে টাঙ্গাইলে আসা পাইকারি শাড়ি ব্যবসায়ী সাদেক আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টাঙ্গাইলের শাড়ির মান ভালো থাকায় চাহিদা অনেক বেশি। ঈদে পাথরাইল ও করটিয়া হাট থেকে শাড়ি কিনে এলাকায় বিক্রি করব।’ বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের স্থানীয় ঋণ সহযোগিতা নিয়ে একাধিক তাঁতি অভিযোগ করেছেন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিকরা পড়েছেন মহাসংকটে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকে পড়ছেন ভিন্ন পেশায়। টাঙ্গাইল তাঁত বোর্ডের তথ্য মতে, জেলায় প্রায় ৩৫ হাজার তাঁত রয়েছে। এতে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে লক্ষাধিক তাঁত শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তবে বর্তমানে তাঁতের এক-তৃতীয়াংশই পুঁজির অভাবে বন্ধ রয়েছে।
দিবাকর বিশ্বাস বলেন, ‘আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে তাঁতের কাজ করি। মহাজন সব কিছু দেন। আমরা শুধু কাপড় তৈরি করে দিই।’ হারেচ মিয়া নামের আরেক তাঁতি বলেন, ‘আমাদের পরিস্থিতি ভালো না। ঈদেও আগের মতো বিক্রি নেই। তাঁত বোর্ডের সাহায্য পাই না।’
টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোং-এর মালিক রঘুনাথ বসাক বলেন, ‘টাঙ্গাইলের শাড়ি সারা দেশেই যায়। প্রতিবছর প্রায় ৭৫ লাখ পিস শাড়ি আমরা ভারতে রপ্তানি করে থাকি। এবার এর সংখ্যা আরো বাড়বে। ঈদে আগের মতো বেচাকেনার সেই জোয়ার নেই। এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার টাকা দামের শাড়ি বেশি বিক্রি হয়। উৎপাদনের সব কাঁচামালের দাম কয়েক গুণ বেশি হয়ে গেছে, কিন্তু সে হারে কাপড়ের দাম বাড়েনি। এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারি সাহায্য বাড়াতে হবে।’
রঘুনাথ বসাক আরো বলেন, ‘আমাদের টাঙ্গাইলের শাড়ি জিআই পেয়েছে। আশা করি, তাদের প্রচেষ্টায় টাঙ্গাইলের শাড়ির আবারও সেই সুদিন ফিরে আসবে।’
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বাজিতপুর অঞ্চলের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা আদিবা হোসেন মিতু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টাঙ্গাইলের শাড়ির সুনাম সারা বিশ্বে। রোজার ঈদ ও পহেলা বৈশাখ পাশাপাশি হওয়ায় দুই উৎসবে এবার বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘করোনার পর থেকে তাঁতের শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। অসংখ্য শ্রমিক অন্য পেশায় চলে গেছেন।’
সৌদি আরব তার বিনিয়োগ খাতে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে। তেলসম্পদ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই তারা নানা খাতে বিনিয়োগের বিশদ পরিকল্পনা নিয়েছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা ফিনটেক বা আর্থিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাইছে। মূল লক্ষ্য ফিনটেক হলেও মরুর দেশটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এন্টারপ্রাই সিস্টেম এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগে আগ্রহী।
টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে ফিনটেকে বিনিয়োগ : সৌদি সরকার দেশের বাণিজ্য খাতে তেলনির্ভরতা কমিয়ে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনা আগেই নিয়েছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা বিভিন্ন সেক্টরে পরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগ করছে। এসব বিনিয়োগ দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতাধীন।
ক্রিসেন্ট এন্টারপ্রাইজেসের ডেপুটি সিইও এবং প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ বিভাগ সিই ভেঞ্চার্সের প্রধান তুষার সিংভি ফিনটেকের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সরকার ২০৩০ সালের মধ্যেই ৫২৫টি ফিনটেক কম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে সৌদি আরবে ফিনটেক সেক্টর গড়ে তোলা হয়েছে।
২০২৩ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ফিনটেক ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ৫৮ শতাংশই সরবরাহ করেছে সৌদি আরব। ট্যাবি ও স্যামসাং পে চালু হওয়ার কারণে সৌদি আরব মূলত ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনের দিকেই ছুটছে এবং বিনিয়োগকারীও এই খাতে অর্থলগ্নি করতে উৎসাহ পাচ্ছে।
তেলনির্ভরতা কমাতে রোডম্যাপ : সিংভি বলেন, ফিনটেকের সঙ্গে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণের যোগসূত্র রয়েছে। ‘ভিশন ২০৩০’ হচ্ছে সৌদি আরবের তেলনির্ভর অর্থনীতির পরের চালচিত্রের একটি উচ্চাভিলাষী রোডম্যাপ। তবে এই রোডম্যাপ ব্যাপক বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হওয়ার কারণে ফিনটেক, লজিস্টিকস ও স্বাস্থ্যসেবার মতো দীর্ঘমেয়াদি গ্রোথ সেক্টর সবল হতে পেরেছে।
নুবা ক্যাপিটালের ম্যানেজিং পার্টনার খালিদ তালহুইনি বলেন, ‘ফিনটেক খাতের প্রবৃদ্ধির কারণে সৌদি আরবের ঐতিহ্যগত আর্থিক সেবার মান বেড়েছে। ব্যাংক থেকে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা খুব বেশি সহায়তা পেতেন না। এখন ফিনটেকের বিকাশের কারণে এসব খাত থেকে সেবার মান বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক অর্থনীতি পরিপক্বতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ব্যাবসায়িক কাজে এআইয়ের ব্যবহার : সৌদি আরব এআই খাতেও বেশ এগিয়ে যেতে পেরেছে। সৌদি ডাটা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অথরিটি এবং মার্কিন টেকনোলজি কম্পানি এনভিডিয়া মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় একটি বৃহৎ কম্পিউটিং ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে, যার পারফরম্যান্স বেশ সন্তোষজনক। সৌদি আরব ২০৩০ সালের মধেই এআই খাতে বিশ্বসেরা ১৫টি দেশের একটি হতে চাইছে। খালিদ তালহুইনি অবশ্য মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বড় মাপের এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার চেয়ে দৈনন্দিন ব্যাবসায়িক কাজে এআইয়ের প্রয়োগ অধিকতর ইতিবাচক প্রমাণিত হতে পারে। তার ধারণা, সব কম্পানি ব্যাপক মাত্রার এআই অথবা ডিপটেক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না। কারণ সব কম্পানির মূলধন সমান হয় না। তিনি এটাও বলেন, এআইয়ের লক্ষ্য ব্যক্তি নয়, সামগ্রিক অর্থনীতি হওয়া উচিত।
প্রতি প্রান্তিকে এসএমই বাড়ছে ৩ শতাংশ হারে :
ভিশন ২০৩০-এর পরিকল্পনার আলোকে সৌদি আরবে এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত) খাতেও বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছে। দেশটির মুনবেস ক্যাপিটালের ম্যানেজিং পার্টনার ইবরাহিম আবদেল রহিম বলেন, ‘২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে সৌদি আরবের এসএমই সংখ্যা ১৩ লাখ ১০ হাজারের পৌঁছায়। এটি প্রতিটি প্রান্তিকে ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে। সূত্র : এরাব নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দরের কঠোর পদক্ষেপের কারণে মার্চে কমে এসেছিল কনটেইনারজট। অথচ ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের ধারণক্ষমতার ৭৭ শতাংশ কনটেইনারজট ছিল। কনটেইনারের চাপে দিশাহারা হয়ে পড়েছিল বন্দর। এখন স্বাধীনতা দিবসের দুই দিন ও ঈদের ছুটি ৯ দিন মিলে ১১ দিনের সরকারি ছুটিতে কনটেইনার জটের শঙ্কায় আছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এ অবস্থায় বন্দর সচল রাখতে ৩৮ ধরনের আমদানি পণ্যের বাইরে আরো বেশি পণ্য বেসরকারি ১৯টি অফ-ডকে পাঠাতে চায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। আগামী ছয় মাসের জন্য কনটেইনার ডিপো থেকে ডেলিভারির অনুমতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেওয়া হয়েছে। যাতে জট সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি, ছুটিতে আমদানি কনটেইনার সামাল দিলে হবে না, একই সময়ে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিবছর ঈদের আগে স্টেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে বন্দর। ডেলিভারি নিতে সব ধরনের সেবাও চালু রাখে। কিন্তু আমদানিকারকরা ডেলিভারি না নেওয়ায় বন্দর চালু রাখার সুফল পাওয়া যায় না।
তবে বন্দর ব্যববহারকারীরা বলছেন, ঈদের আগে এবং চার-পাঁচ দিন পর কনটেইনার ডেলিভারি অনেকটাই কমে যায়। এ কারণে বন্দর এবং ডিপোগুলোতে জট তৈরি হয়। এটি প্রতিবছরের ঘটনা। ঈদের আগের এবং পরের তিন দিন ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এ কারণে আমদানি পণ্য ডেলিভারি নিতে সমস্যায় পড়েন আমদানিকারকরা।
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনারের অবস্থান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে ধারণক্ষমতা ৫৩ হাজার ৫১৮ টিইইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক কনটেইনার)। এর মধ্যে গত ২৪ মার্চ কনটেইনার ছিল ৩১ হাজার ১৭৫ টিইইউএস। ২৩ মার্চ ছিল ৩১ হাজার ২১৩ টিইইউএস। আর ১৫ মার্চ ছিল ২৯ হাজার ১৫৯ টিইইউএস। এখন বন্দরে কনটেইনারজট নেই বললে চলে। স্বাভাবিক রয়েছে।
অথচ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৪১ হাজার ৫৫০ টিইইউএসে। ওই হিসাবে ধারণক্ষমতার ৭৭ শতাংশ পূর্ণ ছিল বন্দরের ইয়ার্ড। সরকারি ১১ দিনের ছুটিতে আবারও কনটেইনারজট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের হ্যান্ডলিং করা কনটেইনারের ৯৫ শতাংশই ফুল কনটেইনার লোড (এফসিএল)। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ আমদানি পণ্যবাহী এফসিএল কনটেইনার বন্দরের ইয়ার্ডে খুলে ডেলিভারি দেওয়া হয়। আর ১৭ শতাংশ পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয় বেসরকারি কনটেইনার ডিপো থেকে, ২০ শতাংশ সরাসরি চলে যায় শিল্প মালিকের কারখানায়। ৩ থেকে ৪ শতাংশ যায় রেলপথে।
এদিকে ছুটিতে কনটেইনারজট এড়াতে আমদানি পণ্যবাহী আরো বেশি এফসিএল কনটেইনার বেসরকারি ডিপো থেকে ডেলিভারি দিতে চায় চট্টগ্রাম বন্দর। আগামী ছয় মাসের জন্য আরো বেশি এফসিএল কনটেইনার ডিপোগুলো থেকে ডেলিভারি দিতে অনুমতি চেয়ে এনবিআরে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘সরকারী ছুটি ১১ দিনের হলেও বন্দর শুধু ঈদের নামাজের সময় বন্ধ থাকবে। বাকি সময় বন্দর সচল থাকবে। সে জন্য আমরা চাচ্ছি, এফসিএল কার্গোগুলো বেসরকারি অফ-ডকে নেওয়ার জন্য। আমরা এরই মধ্যে চিঠি লিখেছি এনবিআরকে। ছয় মাসের জন্য আমাদের যেন বাইরের ঘাটে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। এনবিআর থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পোশাকশিল্প মালিকদের অভিযোগ ঈদে বাড়তি রপ্তানি কনটেইনারেরই চাপ সামলাতে পারে না ডিপোগুলো। প্রতিদিনের বিপুল অঙ্কের ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ডেমারেজের কথা উল্লেখ করে বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের সময় রপ্তানিমুখী গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে থাকে। জায়গা এবং কনটেইনারের স্বল্পতার কারণে সেগুলো ক্লিয়ার করা সম্ভব হয় না। এর জন্য আমরা প্রতিনিয়ত ট্রাক ড্যামারেজ দিই। এর মধ্যে যদি এখন আবার রপ্তানিমুখী কার্গোগুলো ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটা বন্দরের জন্য বিপর্যয় নিয়ে আসবে। এ ছাড়া আইসিডিগুলোর চার্জ বন্দর থেকে তিন গুণ বেশি। সেই সঙ্গে রয়েছে যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকট। সক্ষমতা না বাড়িয়ে বেশি আমদানি কনটেইনার ডিপোতে পাঠালে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ব্যবসায়ীরা।’
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) দাবি, ডিপো থেকে পণ্য ডেলিভারি নিলে বন্দরে কনটেইনারজট কমায় গড়ে জাহাজের অবস্থানকাল কমবে। এতে জাহাজ ভাড়া কমায় আমদানিকারকরা লাভবান হবেন। বিকডার সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ‘বছরে ২৩ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে ডিপোগুলো। এর মধ্যে আমদানি কনটেইনার তিন লাখ, রপ্তানি সাত লাখ ও খালি কনটেইনার ১৩ লাখ। যখন সব ধরনের এফসিএল কনটেইনার বেসরকারি অফ-ডকগুলো থেকে ডেলিভারি হবে তখনই চট্টগ্রাম বন্দরে যানজট কমে যাবে এবং জাহাজের ফেরত যাওয়ার সময় কমে আসবে।’
উল্লেখ্য, গত বছর ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখে টানা আট দিনের সরকারি ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু থাকলেও এর সুফল মেলেনি কনটেইনার ডেলিভারি কার্যক্রমে। আট দিনে বন্দরে জমেছে অতিরিক্ত ছয় হাজার ৬৬ টিইইউএস কনটেইনার।
আলোয় আলোয় সেজেছে শহরের বিভিন্ন সড়ক, বিপণিবিতান আর সুপারশপ। হাসছে কৃত্রিম চাঁদ আর তারা। লাল-নীল বাতির ঝলমলে আলো মার্কেটগুলোতে তৈরি করেছে আলাদা আকর্ষণ। ঈদের আগেই যেন ঈদের আমেজ ফুটে উঠেছে রাজধানীজুড়ে।
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ক্রেতারা কার্ড ও মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে কেনাকাটা বাড়িয়েছেন।
কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যাশলেস পেমেন্টের বিভিন্ন সুবিধা ও নিরাপত্তা, সেই সঙ্গে ব্যাংক ও এমএফএসগুলোর দেওয়া ডিসকাউন্ট ও অফার ক্রমেই বাড়তে থাকাসহ বেশ কয়েকটি কারণে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়ছে। তাঁরা বলছেন, করোনা মহামারির সময় থেকেই নগদবিহীন লেনদেন বেড়েছে আগের থেকে অনেক বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এটিএম, পিওএস, সিআরএম ও ই-কমার্সভিত্তিক লেনদেন ছিল ৪০ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। গত জানুয়ারিতে সেটি বেড়ে ৪৩ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
অন্যদিকে গত জুলাই মাসে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস বা এমএফএসের মাধ্যমে মোট এক লাখ ২২ হাজার ৯২৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। কিন্তু সাত মাসের ব্যবধানে তা ৩৯.৬৫ শতাংশ বেড়ে মোট লেনদেন এক লাখ ৭১ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
ব্যাংকগুলো এখন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ঈদের পোশাক, জুতা, গয়নাসহ বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে।
রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ইনফিনিটি, রিচম্যান ও লুবনান শোরুমে গিয়ে দেখা যায়, লোকসমাগম খুবই কম। বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, সন্ধ্যার পর সমাগম বাড়ে। শোরুমের ক্যাশিয়ার ফয়সাল আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, এখানে বেশির ভাগ গ্রাহকই কার্ডে পেমেন্ট করেন। কেউ কেউ বিকাশ বা নগদে। ক্যাশ পেমেন্টের পরিমাণ খুবই কম। ৮০ শতাংশের বেশি গ্রাহক এখানে ডিজিটাল পেমেন্ট করেন। একই এলাকায় অবস্থিত আরেক অভিজাত বিপণিবিতান আর্টিসান। কাপড়ের দোকান হিসেবে দেশজুড়ে খ্যাতি আছে তার। আর্টিসানের ম্যানেজার শাকিল খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের শোরুমে ৮০ শতাংশ গ্রাহকই ডিজিটাল পেমেন্ট করেন। যদিও আগের বছর এই হার আরো কম ছিল।’ তিনি আরো জানান, ‘আমাদের যেকোনো পণ্যে কার্ডে পেমেন্ট করলেই ন্যূনতম ২৫ শতাংশ ছাড়। তা ছাড়া বিকাশ ও নগদে ক্যাশব্যাক অফারও রয়েছে।’
রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা তেজগাঁও। এই এলাকার আড়ং শোরুমে দুপুর থেকেই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবার পরিজন নিয়ে শপিং করতে আসেন জুলফিকার শাহীন। কেনাকাটায় পেমেন্টের পছন্দের মাধ্যম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এক বাক্যে বলেন, ‘কার্ডের কোনো বিকল্প নেই। নগদ টাকা বহনের ঝক্কি ঝামেলা করার চেয়ে কার্ডে পেমেন্ট করাই ভালো।’
আড়ংয়ের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, ‘আমাদের এখানে ৭০ শতাংশের বেশি অনলাইন পেমেন্ট হয়। ক্যাশ কাউন্টারের সামনে অন্তত আধাঘণ্টা লক্ষ করে দেখা যায়, ৫০ জন গ্রাহকের মধ্যে ক্যাশ দিয়েছেন মাত্র আটজন। বাকিরা সবাই ডিজিটাল পেমেন্ট করেছেন। ক্যাশ কাউন্টারের সামনে কোন ব্যাংকের কার্ডে কত শতাংশ ছাড় তার তালিকা ঝুলছে। এক ক্যাশ অপারেটর জানান, ব্যাংকের কার্ডে পেমেন্ট করলে এক হাজার টাকার পণ্যে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তাই কার্ডে পেমেন্টের চাহিদা বেশি। সবাই চায় একটু কম দামে ভালোমানের পণ্য কিনতে।
কোন ব্যাংকের কার্ডে কত শতাংশ ছাড় : ডাচ-বাংলা ব্যাংক ইফতার ও ডিনারে বুফে ও টেক অ্যাওয়ে অফারে একটি কিনলে তিনটি ফ্রি চালু করেছে। নির্ধারিত পাঁচতারা ও বিলাসবহুল হোটেলে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ভিআইপি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড, ভিসা সিগনেচার ও মাস্টারকার্ড ওয়ার্ল্ড ক্রেডিটকার্ড ব্যবহার করে উপভোগ করা যাবে এই অফার। এই রমজানে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পিওএস পেমেন্ট করলে পাবেন ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক।
ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির কার্ডে ঈদ কেনাকাটায় ট্যুরস ও ট্রাভেলস খাতে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়ার সুযোগ আছে। বিভিন্ন আলোচিত ও বড় অনলাইন শপিং স্টোর থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ডিসকাউন্ট পাবেন।
ঢাকা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন নামকরা ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতে ২০ শতাংশ ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে। সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা ডিসকাউন্টও পেতে পারেন।
সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস প্লাটিনাম, গোল্ড, ব্লু ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে প্যান্ডামার্টে ১২ শতাংশ ছাড় পাবেন। এতে প্রতিবার কেনাকাটায় সাশ্রয় হবে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া আড়ংয়ের বিভিন্ন শাখা থেকে পণ্য কেনা যাবে ১০ শতাংশ ছাড়ে। সঙ্গে থাকছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্টোর থেকে ডিসকাউন্ট পাওয়া যাচ্ছে। ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দুই শর বেশি ব্র্যান্ড শপ থেকে ঈদ উপলক্ষে নানা পণ্য কেনার সুযোগ আছে। ইসলামী ব্যাংক মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও লাইফস্টাইল আউটলেট থেকে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়ার সুযোগ আছে।
বিকাশ গ্রাহকরা দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত ব্র্যান্ড শপ থেকে বিকাশ পেমেন্টের সঙ্গে আর-১ কুপন কোড যোগ করে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ছাড় পাচ্ছেন। আর কুপন কোডের প্রতিবার ব্যবহারে ১০ শতাংশ তাৎক্ষণিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়ও মিলছে। দিনে দুবার ও ক্যাম্পেইন চলাকালে সর্বোচ্চ পাঁচবার ২০০ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ছাড় পাওয়া যাবে। এ ছাড়া গ্রাহকেরা *২৪৭# ডায়াল করে পেমেন্ট করার সময় প্রতিদিন ১০০ টাকা পর্যন্ত ও ক্যাম্পেইন চলাকালে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাচ্ছেন। কুপনের এই সুবিধা চালু থাকবে ১ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত। প্রতি পেমেন্টে শুধু একবারই একটি কুপন ব্যবহার করা যাবে। ই-কমার্স পোর্টাল দারাজ থেকে বিকাশে কেনাকাটায় ন্যূনতম ৫৫০ টাকা বিকাশ পেমেন্ট করলেই মিলছে ১০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট ভাউচার। এ ছাড়া পবিত্র রমজান মাসজুড়ে উপহারের জোয়ার বিকাশ রেমিট্যান্সে ক্যাম্পেইনও চালু আছে।