বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনে প্রধান বিচারপতির চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনে প্রধান বিচারপতির চিঠি
ফাইল ছবি

অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা, বদলি, পদোন্নতি, ছুটিসহ অন্যান্য বিষয়ে স্বচ্ছতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ‘বিচার বিভাগীয় সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ রবিবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এই প্রস্তাব পাঠান। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে বিচার বিভাগের দায়িত্ব পান সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশ্যে অভিভাষণ দেন তিনি। ওই অভিভাষণে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় করার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন বিচার বিভাগের প্রধান। তারই ধারাবাহিকতায় বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাঠালেন তিনি।

জানতে চাইলে আইন সচিব শেখ আবু তাহের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির প্রস্তাবনা আমরা রিসিভ (গ্রহণ) করেছি।

বিষয়টি যেহেতু নীতি-নির্ধারণী বিষয়, তাই এ বিষয়ে আপাতত এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।’

আরো পড়ুন
বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

 

প্রধান বিচারপতির চিঠিতে বলা হয়, ‘বিশ্বায়নের যুগে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোতে সাংবিধানিক বিধি-বিধানের আলোকে নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির প্রয়োগ ও চর্চার বিষয়টি সর্বজনবিদিত। রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগের ক্ষমতার পৃথকীকরণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে সংবিধানের চর্চা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। এর ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য যেমন ব্যহত হয়, তেমনি সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব প্রয়োগের চর্চা অব্যাহত আছে উল্লেখ করে প্রস্তবে বলা হয়েছে, ‘সাংবিধানিক-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়া পরও ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি বাস্তবায়ন এবং বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব প্রয়োগের চর্চা রোধে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা চর্চার বিকাশ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ, সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নিশ্চিতকরণকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।’

মাসদার হোসেন মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বরাত দিয়ে বিচার বিভাগের প্রধান তাঁর প্রস্তাবনায় বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা রাখার কথা বলা হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারনে বিচার বিভাগের কার্যকর পৃথকীকরণ অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। তবে একথা অস্বীকার করা যাবে না যে, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে (মাসদার হোসেন মামলার রায়) নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের পূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরার মাধ্যমে ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির বাস্তবায়নের পথকে সুগম করে দিয়েছে।

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সবচেয়ে ভাল উপায় বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা। এ কারণে সুপ্রিম কোর্ট অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, শৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের যে যৌথ এখতিয়ার রয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে বিলোপ চাচ্ছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠাকে ক্ষমতার পৃথকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছে।’ 

আরো পড়ুন
কর্ণফুলী টানেলের দৈনিক আয় ১০ লাখ, ব্যয় ৩৭ লাখ

কর্ণফুলী টানেলের দৈনিক আয় ১০ লাখ, ব্যয় ৩৭ লাখ

 

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরিপর্তিত পরিস্থিতিকে শ্রেষ্ঠ সময় উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এ কথা সত্য যে, রাজনৈতিক সরকারের অনীহার কারণে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সম্ভব হয়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় মাসদার হোসেন মামলার রায়ের বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার শ্রেষ্ঠ সময়। এ প্রচেষ্টার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা। পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই আমাদের দেশে দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মানসম্পন্ন বিচার কাজের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’

সৈয়দ রেফাত আহমেদ তাঁর প্রস্তাবনায় বলেন, ‘সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের উপর অর্পণ করা হয়েছে। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি অধস্তন আদালতের বিভিন্ন বিষয় পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগকে সাচিবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগের এই তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ নয়। বিদ্যমান কাঠামোতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে অধস্তন আদালত সংক্রান্ত প্রস্তাব আসার পর হাইকোর্ট বিভাগ ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে। কিন্তু সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে অধস্তন আদালত, ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান-নিয়ন্ত্রণ হাইকোর্ট বিভাগের একচ্ছত্র অধিকার। সাংবিধানিক এই বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা আবশ্যক।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে মামলার সংখ্যা বেড়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমও বেড়ে চলেছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করলেও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক একটি সচিবালয় স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে। কেবলমাত্র পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও অন্যান্য বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব। বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব।’

বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রুল :

এদিকে, বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় কেন প্রতিষ্ঠা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে বলেছেন আদালত।

এছাড়া সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরীসহ) শৃঙ্খলাবিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকার বিধানটি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবী রিট আবেদনে প্রাথমিক শুনানির পর রবিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

আরো পড়ুন
ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর ১০ উপায়

ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর ১০ উপায়

 

দেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করে স্বাধীন বিচার বিভাগ চেয়ে ১৯৯৪ সালে মামলা করেছিলেন জেলা জজ ও জুডিশিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেন। তিনি এখন অবসরে রয়েছেন। এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেন। ওই রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেন আপিল বিভাগ। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু গত ১৭ বছরেও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

গণহত্যার বিচার বানচালে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে : চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
গণহত্যার বিচার বানচালে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে : চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় ট্রাইব্যুনালের বিচার বানচাল করতে পতিত সরকারের মোটা অঙ্কের বিনিয়োগের সুর্নিদিষ্ট তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশন।’ 

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘একই সঙ্গে নেপথ্যের কুশীলবদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে।’

এর আগে বুধবার (২ এপ্রিল) চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার মামলার খসড়া তদন্ত রিপোর্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে।

একাধিকবার অপরাধ প্রমাণে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে খসড়া তদন্ত রিপোর্টে। পার পাওয়ার সুযোগ নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘চূড়ান্ত তালিকা পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তবে খসড়ার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফরমাল চার্জ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বহু প্রমাণ ও উপাত্ত রয়েছে। কখনো সরাসরি, কখনো টেলিফোনেসহ নানা মাধ্যমে গুলির নির্দেশ দিয়ে তা আবার নিশ্চিতও করেন শেখ হাসিনা। হেলিকপ্টার থেকে গুলি করার স্পষ্ট নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। আইনের ভাষায় এ গণহত্যার সুপেরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি শেখ হাসিনার।

মন্তব্য

ডিআরইউ কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় উজ্জ্বলের জামিন, কারাগারে রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
ডিআরইউ কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় উজ্জ্বলের জামিন, কারাগারে রহমান

পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় উজ্জ্বল মিয়া নামের এক আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত। আব্দুর রহমান নামের আরেক আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এরপর তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। এ সময় আসামিপক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত উজ্জ্বলের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে অন্য আসামি রহমানের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
 

ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ডিআরইউ কার্যালয়ে শুধু সাংবাদিকদের জন্য টিসিবির পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে আগে থেকেই টোকেন দেওয়া হয়। এসব টোকেনের একটি কারো মাধ্যমে করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের এক কর্মীর কাছে চলে যায়। তারা এটাকে নকল করে ৫০টি টোকেন তৈরি করে টিসিবির পণ্য নিতে আসেন।

এ সময় আমাদের স্টাফ বাবুল বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তাদের এখানে আর পণ্য নিতে না আসার জন্য বলা হয়। সেই ক্ষোভ থেকে শুক্রবার পল্টনে করতোয়া কুরিয়ার অফিসের সামনে ডিআরইউ স্টাফ বাবুলকে মারধর করে।

পরে দুপুর ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোঁটা, রড, দা, চাপাতি, হকিস্টিক ইত্যাদি নিয়ে ডিআরইউর সামনে আমাদের কর্মচারী মো. জহিরুল ইসলাম (২৯) ও মো. রবিউল ইসলামের (২৭) ওপর হামলা চালায়। চাপাতির কোপে জহিরুলের মাথা ফেটে যায়।

এরপর তারা যাওয়ার সময় কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে।

মন্তব্য

নবনিযুক্ত প্রসিকিউটর আফরোজ পারভীন সিলভিয়ার নিয়োগ বাতিল

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
নবনিযুক্ত প্রসিকিউটর আফরোজ পারভীন সিলভিয়ার নিয়োগ বাতিল
সংগৃহীত ছবি

বিতর্ক ওঠায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত প্রসিকিউটর আফরোজ পারভীন সিলভিয়ার নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর (প্রশাসন) গাজী এম এইচ তামিম।

তিনি জানান, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উপসলিসিটর (জিপি-পিপি) সানা মো. মাহরুফ হোসাইনের সই করা এক অফিস আদেশে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) এই নিয়োগ বাতিল করা হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদে আফরোজ পারভীন সিলভিয়ার নিয়োগসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।

এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে, গতকালই আইন ও বিচার বিভাগের উপসলিসিটর সানা মো. মাহরুফ হোসাইনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে আফরোজ পারভীনসহ চারজনকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ আদেশ হওয়ার পর আফরোজ পারভীনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকালই তার নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হয়।

মন্তব্য

গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনা, শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনা, শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
ফাইল ছবি

‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে অনলাইন প্ল্যাটফরমের মিটিংয়ে গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনা এবং সরকারকে উৎখাত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলায় দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বি আলমকে। এ ছাড়া অনলাইন মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারী আরো ৫০৩ জনকেও আসামি করা হয়েছে।

আদালত তা আমলে নিয়ে সিআইডিকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আরো পড়ুন
তারেক রহমানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি নিয়ে নিউজার্সিতে পাইলট প্রকল্প

তারেক রহমানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি নিয়ে নিউজার্সিতে পাইলট প্রকল্প

 

মামলার এজাহারের তথ্যের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যে তারা জানতে পারেন যে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফরমের মিটিংয়ে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করে একটি গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে পলাতক শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বুঝিয়ে দেওয়া এবং তা নিশ্চিতকরণের জন্য শেষনিঃশ্বাস পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাবেন বলে অনেকেই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মোট ৫৭৭ জন অংশগ্রহণকারী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন এবং শেখ হাসিনার সব নির্দেশ পালন করার ব্যাপারে একাগ্রচিত্তে মত প্রকাশ করেন। 

মামলার এজাহারে আরো বলা হয়, ড. রাব্বি আলমের (যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি) হোস্টিংয়ে (সঞ্চালনায়) শেখ হাসিনা এবং হোস্ট, কো-হোস্ট ও অংশগ্রহণকারীদের কথোপকথনে ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনায় ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামক প্ল্যাটফরমে দেশ-বিদেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে দেবে না মর্মে আলোচনা হয়।

সেই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফরম মিটিংয়ে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার জন্য গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের সুস্পষ্ট উপাদান রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলা করলে আদালত তা আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ