বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংস্কার আর নির্বাচন আলাদা জিনিস নয়। সংস্কার সংস্কারের মতো চলবে। নির্বাচন নির্বাচনের মতো চলবে। এ ছাড়া সংস্কার প্রস্তাব যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেই বিএনপি মতামত দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংস্কার আর নির্বাচন আলাদা জিনিস নয়। সংস্কার সংস্কারের মতো চলবে। নির্বাচন নির্বাচনের মতো চলবে। এ ছাড়া সংস্কার প্রস্তাব যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেই বিএনপি মতামত দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (দুপুরে) ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
প্রধান উপদেষ্টার সদ্যঃসমাপ্ত চীন সফর প্রসঙ্গ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে চীন একতরফাভাবে একটা দলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। তবে এখন তারা চিন্তা-ভাবনা পরিবর্তন করে সব দলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ছে। চীন বাংলাদেশে উৎপাদনে ও উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেটা দেশের জন্য আশাবাদের কথা।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে বিষয়ে মতের ঐক্য হবে, সেগুলো মেনেই নির্বাচন হবে। যারাই নির্বাচিত হবে, সে-ই সংস্কার করবে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পরে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ, যুবদলের সদস্যসচিব জাহিদ হাসান, ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ কায়েসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পর্কিত খবর
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, ‘একাত্তর ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে যারা কথা বলবে, তাদের বরদাশত করা হবেনা। দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। চব্বিশে বিপ্লবও হয়নি। একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে মাত্র।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। গত ১৬ বছর এ দাবিতে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি।
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে সরোয়ার আরো বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান অনেক বড় নেতা ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান আমরা অস্বীকার করতে পারি না।
সরোয়ার আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল, কিন্ত তাদের অহংকার বেশি। শেখ মুজিবর বড় মাপের নেতা।
এ সময় বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক তারিন, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মানবেন্দ্র ব্যটবল ও নুরুল আলম ফরিদ, সাংবাদিক নাছিমুল আলম ও হুমায়ুন কবীর, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘আমি একা এই দেশে ইলেকশন আনার চেষ্টা করতেছি। আমি একা প্রথম এই কথা বলছি। ইলেকশন হবে, ভোট দেবে মানুষ। আমাকে ভোট দিলে আমি হবো এমপি।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার এলংজুরি বাজারসংলগ্ন মাঠে এলংজুরি ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় উপলক্ষে এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি যে বক্তব্য দিই, অনেকের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক সময় হয়। কী বক্তব্য দিই? আমি কারো বিরুদ্ধে নয়, কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়। আমি মানুষের পক্ষে।
তিনি আরো বলেন, ‘হাসিনা আর মুক্তিযুদ্ধ এক রকম না। হাসিনা কেউ না, আরইলের ডিম। মুক্তিযুদ্ধ হলো মহাসাগর।
তিনি বলেন, ‘এই দেশে ইলেকশন আনার চেষ্টা করতেছি আমি একা। আমি একা প্রথম বলছি, এটার জন্য জামায়াতে ইসলামী আমাকে বলবে (গালাগাল করবে)। কিন্তু ইলেকশন দিতে হবে। কারণ দেশটা হলো জনগণের। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে ভোটের মাধ্যমে দেশটা কারা চালাবে। ইলেকশন হবে, ভোট দেবে মানুষ। আমাকে ভোট দিলে আমি হবো এমপি। আমার দলকে বেশি ভোট দিলে আমার দল হবে সরকার। অন্য দলকে দিলে তারা হবে। ভোটটা হলে দেশ হবে জনগণের। আমি মনে করি, ভোট হওয়া উচিত।’
ফজলুর রহমান আরো বলেন, ‘ভোট যদি হয় আমি এই দেশে আসব। ভোট হলে আমি এ দেশে আসবই। আমি ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামের ঘরের দরজায় টোকা দিয়ে বলব, হে ইটনা, অষ্টগ্রাম, মিঠামইনের মানুষ, আপনার জন্য তো আমার জীবনের যৌবন ত্যাগ করেছি। আমি তো আপনার পাহারাদার বস্তিওয়ালা, জাগো। দেখেন বৃদ্ধ বয়সে ফজলুর রহমান আপনাদের কাছে এসেছে, আপনারা তাকে চান কি না, সেই কথা বলে দেন।’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘রাজনীতি মানুষের জীবনের জন্য। মানুষের জীবন ভালো কাজ করার জন্য। এই যে মানুষের জীবন, এই মানুষের জীবনের পক্ষে আমি আমার জীবনে ৬১ বছর দিনের পর দিন সংগ্রাম করেছি। আমার জীবনে কোনো টাকা হয়নি, পয়সা হয়নি, ব্যাংক ব্যালান্স হয়নি। আমি জীবনে কোনো দিন মানুষকে ঠকাইনি। আমি ফোর টুয়েন্টি না, বাটপারি না, চিটার না। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। ভাটি এলাকাতে জন্মগ্রহণ করে আমার জীবন ধন্য হয়েছে।’
এলংজুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারিছ উদ্দিনের সভাপতিত্বে পথসভায় অন্যদের মধ্যে ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সিনিয়র সহসভাপতি মো. মনির উদ্দিন প্রমুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন।
সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে ড. ইউনূস ২ থেকে ৪ বছর সরকারে থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, ‘এতে বাংলাদেশের গত ৫ দশক ধরে যে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর হবার আকাংখা সেটা পূরণে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে গনঅভ্যুত্থানের সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকার এতো জনসমর্থন নিয়ে কোনোদিন আবির্ভূত হয়নি। রাজনৈতিক দলের গণতন্ত্র, নির্বাচনী দাবী ও সংস্কারের বিষয়ে তরুণদের যে আকাঙ্খা সবগুলোই যৌক্তিক।
আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো ১৫ বছর ধরে বার বার বলে আসছে আমরা ভোট চাই, নির্বাচন চাই, গণতন্ত্র চাই। কিন্তু তরুণদের আঙ্খাকাগুলো যদি পড়েন, দেয়ালে দেয়ালে লেখা আছে তাদের শ্লোগানগুলো।
সভায় বক্তব্য দেন- বরিশাল জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক প্রকৌশলী কল্লোল চৌধুরী, সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. রাব্বী, যুগ্ম-আহ্বায়ক এস এস আনিক, এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ সহ বরিশালের সাংবাদিকগণ।
সরকারি তত্ত্বাবধানে ঈদ আনন্দ মিছিলে মূর্তি প্রদর্শন করায় নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গতকাল বুধবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে সাধারণ মানুষের মাঝে ঈদ নিয়ে আলাদা ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল না। কিন্তু এবারের ঈদ সবার মাঝেই যেন প্রকৃত ঈদ হয়ে ফিরে এসেছে। সরকারি উদ্যোগে সুলতানি আমলের মতো করে ঈদ উদযাপন আমাদের জীবনে আনন্দের নতুন মাত্রা তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি পবিত্র উৎসব এবং ইসলাম মূর্তি, প্রতিমা বা কোনো দৃশ্যমান অবয়বের মাধ্যমে ধর্মীয় আনন্দ প্রকাশের অনুমতি দেয় না। ইসলামের ইতিহাসে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই, যেখানে রাসুল (সা.), সাহাবা বা পরবর্তী খলিফারা ঈদ উদযাপনে মূর্তি বা প্রতিমা বহন করেছেন।
আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- ঈদ আমাদের ধর্মীয় আবেগের বিষয়।
ওই বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ঈদ মিছিলে মূর্তিসদৃশ প্রতীক বহনের ঘটনা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও ঈদের পবিত্রতার পরিপন্থী। যারা ঈদ আয়োজনে অপ্রয়োজনীয় এই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।