• ই-পেপার

জামায়াতের ছায়া সরকার ও বাজেট উদ্যোগের প্রশংসা ব্রিটিশ হাইকমিশনারের

কুমিল্লা সীমান্তে ‘পুশ ইন’ প্রতিহত করা হবে : ১১ দলীয় জোট

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
কুমিল্লা সীমান্তে ‘পুশ ইন’ প্রতিহত করা হবে : ১১ দলীয় জোট
বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং জোরপূর্বক ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করানোর প্রতিবাদে কুমিল্লায় ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল।

কুমিল্লায় একটি সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সীমান্তে পুশ ইন (অনুপ্রবেশ) দেশের জনগণ ও বিজিবি শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। বাংলাদেশের বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে দিন-রাত কাজ করছে। তাঁরা দেশের এক ইঞ্চি মাটিও ছেড়ে দেবে  না। এটা আমাদের বিশ্বাস। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চলে বিজিবি শক্ত অবস্থানে রয়েছে, আমরা দেখেছি।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল ৫টার দিকে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউনহল মাঠে এসে শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং জোরপূর্বক পুশ ইনের ঘটনা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত করা হচ্ছে। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের এভাবে হত্যা ও হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সীমান্ত হত্যা বন্ধে এই সরকারকে কার্যকর ও দৃঢ় উদ্যোগ নিতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, আমরা দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের অধিকার রক্ষার পক্ষে। সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যার পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক হওয়া উচিত। সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইনের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরো বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি দেশের স্বার্থ রক্ষায় সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য আরো বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর নায়েবে আমির মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মোবারক হোসেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, এবি পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক এবং খেলাফত মজলিস কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের জামাল, মহানগরীর নায়েবে আমির অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন, সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল এবং কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন। এ সময় অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবুর রহমান।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং জোরপূর্বক ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ (অনুপ্রবেশ) করানোর মত ঘটনা ঘটছে। এর প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যজোট কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্তে জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ করছে।

জিয়াউর রহমানের আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক : রফিকুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়াউর রহমানের আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক : রফিকুল ইসলাম
ছবি: কালের কণ্ঠ

শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও উন্নয়ন দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর মিরপুর-১৩ এলাকার কাফরুলে অবস্থিত জামিয়া আরাবিয়া খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসায় জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ব্যাংকার্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ জায়েদ আল ফাত্তাহ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী জাতি গঠনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের প্রণীত ১৯ দফা কর্মসূচিতে স্বনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছিল। দেশের অর্থনীতিকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে বেসরকারি খাত, কৃষি, শিল্প ও রপ্তানিমুখী উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে তিনি ভূমিকা রাখেন।

স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাভিত্তিক নীতি গ্রহণ, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এসব পদক্ষেপের সুফল দেশের মানুষ এখনো পাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা জজ মো. ফরিদুল আলম, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কাদের সিদ্দিকী এবং জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহানা চৌধুরী বেবী।

অনুষ্ঠান শেষে জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়।

পুশ ইন করে ভারত মানবতাবিরোধী কাজ করছে : চরমোনাই পীর

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পুশ ইন করে ভারত মানবতাবিরোধী কাজ করছে : চরমোনাই পীর
শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম।

পুশ ইন করে ভারত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম। আজ শুক্রবার বিকেলে দলটির পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠান শেষে এ কথা বলেন তিনি। 

এ সময় তিনি বলেন, তারা মানুষকে অমানুষিক নির্যাতনের পরিবেশ তৈরি করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। বিজিবি ও সীমান্ত এলাকার মানুষের ভূমিকার জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। 

ভারতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এটি বন্ধ করে আপনারা দুই দেশ বসতে পারেন প্রয়োজনে জাতিসংঘেও আলোচনা হতে পারে। পুশ ইনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। 

বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাজেট নিয়ে আমরা আগাম গোলটেবিল বৈঠক করেছিলাম। সেখানে আমরা বলেছি যদি রক্ষক ভক্ষক হয় তাহলে যত বড় বাজেটই হোক না কেন কোনো লাভ হবে না। এখানে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। পরিচ্ছন্নতা থাকতে হবে। কোন খাতে কিভাবে অর্থ ব্যয় হয় তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে। বাজেটের সুফল তৃণমূল পর্যন্ত যেন ভোট করতে পারে সেই অনুরোধ জানান তিনি।’ 

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন পঞ্চগড়ের সভাপতি আব্দুল হাই, সহসভাপতি ক্বারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ধামইরহাটে পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
ধামইরহাটে পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: কালের কণ্ঠ

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় ভারত সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন, সীমান্ত হত্যা এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার আমাইতাড়া বাজার এলাকা থেকে নওগাঁ জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক।

এ সময় নওগাঁ জেলা জামায়াতে আমির খন্দকার আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মহিউদ্দীন, জামায়াত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট. আ. স. ম সায়েম, সহ-সেক্রেটারি মারুফ আহমেদ, উপজেলা জামায়াত আমির কামরুজ্জামান জুয়েল, নওগাঁ জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মাহবুব সোহাগ, নওগাঁ জেলা এলডিপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহান শাহ্ চিশতী, নওগাঁ জেলা খেলাফত মজলিসে সভাপতি আব্দুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর নির্যাতন, হত্যা এবং জোরপূর্বক পুশ ইনের ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের জন্য হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তারা সীমান্তে হত্যা বন্ধ, অবৈধ পুশ ইন রোধ এবং কূটনৈতিকভাবে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।’