সৌর প্রকল্প : ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কা

সজীব আহমেদ
সজীব আহমেদ
শেয়ার
সৌর প্রকল্প : ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কা
ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকার ৩১টি এলওআই (লেটার অব ইনটেন্ট) নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার বা ৫৯ হাজার ৮২০ কোটি টাকার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা।

সৌর প্রকল্পের ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কাবিনিয়োগকারীরা বলেছেন, এর মধ্যে বিনিয়োগকারীরা এলওআইয়ের ভিত্তিতে আংশিক বিনিয়োগ করেছেন।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এখান থেকে দুই হাজার ৬৭৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব, যা আগামী বছরগুলোতে দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি ব্যয়বহুল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ কমাবে। বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা এক হাজার ৩৭৯ মেগাওয়াট।

এদিকে বিশেষ আইনের আওতায় হওয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য সম্প্রতি পাঁচ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএসআরইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চীন, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের প্রায় ৫০টি বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

৩১টি এলওআইপ্রাপ্ত বিনিয়োগকারীরা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ পেতে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জমি কেনাসহ ৩১টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যান্য পদক্ষেপ।

মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, এই অবস্থায় প্রকল্পগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রত্যক্ষভাবে বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। তাই বিএসআরইএর পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভাগকে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত এলওআইয়ের শর্তা অনুযায়ী প্রকল্প উদ্যোক্তারা জমি অধিগ্রহণ, লজিস্টিক সম্প্রসারণ, পরিশোধিত মূলধনসহ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য নানা প্রক্রিয়ার কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা ছিল।

উদ্যোক্তারা সে অনুযায়ী প্রকল্পের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। এখন যদি এলওআই প্রক্রিয়াটি আবার প্রথম থেকে শুরু করা হয়, তাহলে কমপক্ষে প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণেই এক বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।

এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির আরেকটি সম্ভাবনাময় উৎস বায়ু বিদ্যুৎ, যা সর্বনিম্ন জমি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়ে থাকে। দুই হাজার ৬৭৮ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। অনবায়নযোগ্য উৎসর ওপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎসকে অগ্রাধিকার দেওয়া খুব জরুরি।’

বিএসআরইএর সমীক্ষা অনুসারে, দুই হাজার ৬৭৮ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সঙ্গে সমপরিমাণ এইচএফও বেসড (তেলভিত্তিক কেন্দ্র) বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনা করলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রতিবছর ৮২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে সরকারের। এতে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি কমে যাবে, রিজার্ভের ওপর চাপ কমাবে।

বিএসআরইএর সহসভাপতি জাহিদুল আলম বলেন, ‘নবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলো প্রতিযোগিতা বাজার মূল্য ও এই প্রকল্পগুলোতে কোনো ধরনের ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান ছাড়াই নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্টের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হওয়ায় সরকারের বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে। এ জন্য প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।’

জ্বালানি খাতের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. জাকির হোসেন খান বলেন, সৌরবিদ্যুতের প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করা উচিত। মূল্যায়ন করে যদি বাতিল করা হয়, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারবেন—কী কারণে এটি বাতিল হলো। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের আশঙ্কার মধ্যে যাতে না থাকেন, এখানে তারা বিনিয়োগ করতে এসেছেন, পরে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁদের চুক্তিও বাতিল হয়ে যাবে। এই অনিশ্চিয়তা তৈরি করা ঠিক হবে না।’

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল এনালিসিসের (আইইইফা) বাংলাদেশের জ্বালানি খাতবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতকে টেকসই করতে, সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা নিতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে আমাদের যেমন একটি ভিশন লাগবে, তেমনি খাতের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কিছু নবায়নযোগ্য প্রকল্পে যদি সরকারি জমি লিজ দেওয়া যায় এবং ট্রান্সমিশনের খরচ সরকার বহন করে, তবে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে খরচ আরো কমানো সম্ভব।’

বর্তমান অবস্থা ও পরিকল্পনা

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০০৮ এবং পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যান (পিএসএমপি)-২০১৬ অনুযায়ী, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, যেমন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের কারণে লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।

এদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট উৎপন্ন বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস ও ক্লিন এনার্জি থেকে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। এখন ৩১টি প্রকল্প বাতিল করা হলে কোনোভাবেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে দুশ্চিন্তায় তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে দুশ্চিন্তায় তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক (রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করেছে। ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসবে; এতদিন যা ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে ট্রাম্পের নতুন এই সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি করা মোট তৈরি পোশাকের ১৮ শতাংশ গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে পোশাক রপ্তানিকারক প্রায় সব দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক বসেছে। তবু, শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শীর্ষ দশ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে শুধু মেক্সিকোর ওপর নতুন এই শুল্ক আরোপ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, শুল্ক আরোপের কারণে প্রভাব পড়বে। শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে। পণ্যের চাহিদা কমবে। যত দ্রুত সম্ভব সরকারি পর্যায়ে পাল্টা শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করতে হবে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৃতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৭৩৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে।

আরো পড়ুন
শুল্কারোপের কষ্ট মূল্যবান হবে : ট্রাম্প

শুল্কারোপের কষ্ট মূল্যবান হবে : ট্রাম্প

 

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) তথ্যানুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকরা ৭ হাজার ৯২৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এরমধ্যে শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে—চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে দূঢ় আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। যেহেতু এটি আলোচনাযোগ্য, তাই আমরা আলোচনা করব এবং আমি নিশ্চিত যে আমরা সর্বোত্তম সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

মন্তব্য

ভারত থেকে এলো ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন চাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
ভারত থেকে এলো ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন চাল
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় (প্যাকেজ-৮) ভারত  থেকে ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এমভি এইচটি ইউনিটি নামের একটি জাহাজ।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় খাদ্য মন্ত্রণালয়।

আরো পড়ুন
পাবনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন

পাবনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা শেষ হয়েছে। চাল খালাসের  কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে।

এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

এতে আরো বলা হয়, উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট পাঁচ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্যাকেজে মোট চার লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। ইতিমধ্যে চুক্তি মোতাবেক তিন লাখ ছয় হাজার ৭৬৯ মেট্রিক টন চাল দেশে পৌঁছেছে।

 
 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

তিন মাসে ১৪ বার বেড়েছে সোনার দাম

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
তিন মাসে ১৪ বার বেড়েছে সোনার দাম

বিশ্ব বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বাড়ছে সোনার দাম। গত তিন মাসে এই অলঙ্কারটির দাম বেড়েছে ১৪ বার। কমেছে মাত্র ৩ বার। এক বছর আগে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ১১ হাজার টাকা।

এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪৭ হাজার টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দেড় লাখ টাকার বেশি। 

আরো পড়ুন
যেসব দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

যেসব দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

 

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বা বাজুস নিয়মিতই সোনার হালনাগাদ দাম প্রকাশ করে থাকে। বাজুস চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ) মোট ১৭ বার সোনার দাম পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে।

এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৪ বার আর দাম কমানো হয়েছে মাত্র ৩ বার।

চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সোনার দাম বাড়ানো হয়। তখন ভরিপ্রতি (২২ ক্যারেট) দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ টাকা। সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ দাম আরো বাড়িয়ে ভরিপ্রতি (২২ ক্যারেট) ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

দেশের বাজারে এটিই এখন পর্যন্ত সোনার সর্বোচ্চ বা রেকর্ড দাম। 

আরো পড়ুন
ফ্রিজে খাবার সতেজ রাখার সহজ উপায়

ফ্রিজে খাবার সতেজ রাখার সহজ উপায়

 

বর্তমানে ২১ ক্যারেট মানের সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের সোনা ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকায় ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩৯ টাকা।

এদিকে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভিন্ন দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির চাপ ও তার জেরে শুল্ক যুদ্ধের আশঙ্কা। ফলে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে অনেকে সোনার দিকে ঝুঁকছেন।

শেয়ারবাজার থেকে পুঁজি প্রত্যাহার করেও অনেকে সোনা কিনছেন।
 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন, যাকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে অনেক দেশ। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।

বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে।

নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সমবেতদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, ‘আজ খুব ভালো খবর’ থাকবে। এ সময় দর্শক সারি থেকে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়।

এই দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করেন ট্রাম্প।

নতুন শুল্ক আরোপকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছে।

বাংলাদেশি পণ্য

ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।

অন্যান্য যেসব দেশের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

পাল্টা এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকা ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’। যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয় তার ৮০ শতাংশের বেশি সেদেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয় সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সেদেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য।

মার্কিন কম্পানি ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যে কোনো দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হবে।

শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিফলন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আজকের দিনকে আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’ এবং আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন হিসেবে স্মরণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে।

অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসত্ত চুরিসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করেছেন তিনি। সূত্র : রয়টার্স

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ