<p>বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সরকারের কাছে করের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনি আমার ট্যাক্সের টাকাটা নিয়ে করেন কী? যেভাবে আমাকে ধরপাকড় করে কর আদায় করেন, সেভাবে করের টাকা কোথায় ও কিভাবে খরচ হচ্ছে, সেটারও জবাবদিহি থাকতে হবে।’</p> <p>বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস আয়োজিত ‘ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং ও রাজস্ব আহরণ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।  </p> <p>শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘দেশের শিল্প খাত বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সরকার নিশ্চিত করতে পারছে না।’</p> <p>তিনি বলেন, ‘সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান শিল্পায়নের জন্য নীতিগত সহায়তা দিয়েছিলেন। এখন আমরা কি সেই পথে আছি? আমার মনে হয় না। নীতি সংস্কার হচ্ছে না, ব্যবসায় ধস নামছে।’  </p> <p>তিনি করের অর্থ ব্যবহারে নজরদারির জন্য একটি পৃথক সেল গঠনের প্রস্তাবও দেন। সরকারের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয়ের প্রবণতা বেশি। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’</p> <p>আগামী বাজেটে শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কত শতাংশ বরাদ্দ থাকবে, তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার আহ্বান জানান বিটিএমএ সভাপতি।  </p> <p>অনুষ্ঠানে আইসিএবির সভাপতি এন কে এ মবিন বলেন, ‘আগামী বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা হতে পারে এবং রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা।’ </p> <p>তিনি বলেন, ‘টেকসই রাজস্ব আহরণের জন্য প্রত্যক্ষ করের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ভ্যাট ও কর ফাঁকি বন্ধ না হলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।’  </p> <p>মূল প্রবন্ধে আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘জবাবদিহিমূলক আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে কাগজভিত্তিক হিসাব ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ডিজিটাল হিসাব ও প্রতিবেদন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। এতে তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রতিবেদন, তদারকি বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি ও জালিয়াতি কমানো সম্ভব হবে।’</p>